রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে অতিষ্ঠ জনসাধারণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা



রুপম আচার্য্য, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আওতাভুক্ত এলাকা কলেজ রোড। পৌরসভার প্রায় এক একর জায়গা প্রায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাতাস ভারী করা দুর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দা, জনসাধারণ, পথচারী এবং বিশেষ করে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। প্রতিদিন এই ময়লার স্তুপের পাশ দিয়ে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে চলতে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের। এই ভাগাড়ের আনুমানিক ৫০ – ৬০ গজ দূরেই রয়েছে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ ও দি বাড্স রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ আর পশ্চিম পাশে আছে গাউছিয়া শফিকিয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘বাতাসের গতিবেগ বেশী থাকলে ঘরের ভেতর পর্যন্ত গিয়ে দুর্গন্ধ প্রবেশ করে। তখন দম বন্ধ হয়ে আসে, কিন্তু কিছু করার নাই, আমরা একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছি, জায়গা সম্পত্তি ছেড়ে তো যাওয়া যায় না, তাই থাকি।’
সম্প্রতি শহর ঘুরে দেখা গেছে, পুরো শহরে নেই কোন ডাষ্টবিন। শহরের রাস্তার পাশে ফেলে রাখা ময়লা, ড্রেন থেকে উত্তোলিত বর্জ্য কলেজ রোডের ময়লা ফেলার স্থানে ট্রাকে করে এনে জড়ো করা ময়লা রাখা হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী জলি মল্লিক ও কান্তা দাশ জানায়, দুর্গন্ধের কারণে কলেজে যাতায়াত করা যেমন দুষ্কর তার চেয়ে ক্লাস করাটা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত বছরে কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী পৌরসভার ময়লার ভাগাড় সরানোর জন্য আন্দোলনে নামে। এসময় বেশ কয়েকটি ময়লার গাড়ি আটকে ময়লা ফেলা নিষেধ সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল এবং খুঁটি গেড়ে ময়লার গাড়ি ভাগাড়ে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ইউএনও, পৌর মেয়র ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা ময়লার ভাগার স্থানান্তরের আশ^াস দিলে আমরা তা মেনে নিয়ে আন্দোলন বন্ধ করি। কিন্তু এখন পযন্ত কোন কাজ হচ্ছে না।
শ্রীমঙ্গল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান সুজাত জানান, শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোড এর যে ময়লা স্তুপ নিয়া আমরা ছাত্রলীগে এখন পযর্ন্ত কোন আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিছে না যদি আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে কার্যকর করা লাগবই। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিরা এ বিষয়টি ভালো করেই জানেন। আমরা এই ব্যাপারে অবগত আছি কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ অন্য এলাকায় এটিকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিলেও, ঐ এলাকার বাসিন্দাদের আপত্তিতে মাঝপথে আটকে পড়ে। অনতিবিলম্বে ময়লার ভাগাড় যথোপযুক্তস্থানে স্থানান্তরের জন্য স্কুল -কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শ্রীমঙ্গল কলেজ ছাত্রলীগ কঠোর অবস্থানে নামবে শীঘ্রই।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাজী আব্দুল করিম জানান, শ্রীমঙ্গলের সুন্দরর্য্যে ধরে রাখার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় আমরা এখানে ময়লা ফেলছি আমরা জানি এখান থেকে ময়লা দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এখানে কিন্তু ময়লা না ফেলানোর জন্য আমরা শ্রীমঙ্গল ইউপি’র অন্তর্গত এলাকা জেটি রোড সংলগ্নে জায়গা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়েছি এবং ময়লার ভাগাড় স্থানান্তরের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করার মুহুর্তে ৩ নং শ্রীমঙ্গল ইউপি চেয়ায়ম্যান ভানুলাল রায় এলাকাবাসীকে নিয়ে বাধা প্রদান করেন এবং উচ্চ আদালতে মামলা করায় আমরা ময়লার ভাগাড় স্থানান্তর করতে পারছি না।
এ ব্যাপারে ৩ নং শ্রীমঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান ভানুলাল রায় বলেন, ‘আমার ইউপিতে যে জায়গায় পৌর কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণ করেছে সে জায়গাটিও জনবহুল। এর আশে পাশে মসজিদ – মন্দির -স্কুল রয়েছে। এখানে ময়লা ফেলতে হলে এলাকাবাসীকে উচ্ছেদ করেই তা করতে হবে। এ ব্যাপারে আদালতে রিট করা হয় এবং বর্তমানে আদালত থেকে স্থগিতাদেশ দেওয়া আছে।’
দুর্গন্ধে পথচারীদের দূর্ভোগের পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা মিজান আলিসহ এলাকাবাসী এই দুর্গন্ধ থেকে অচিরেই মুক্তি পাওয়ার জন্য ময়লার ভাগাড়কে উপযুক্ত স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের পক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

দৈনিক মৌলভীবাজার/রুপম/ওফানা

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত