মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এক যুগের চেয়ে এবার মৌলভীবাজারে এইচএসসিতে বেশি ফল বিপর্যয়



মুবিন খান:
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পিছিয়ে রয়েছে মৌলভীবাজার। জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। ১৪৪৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে উত্তির্ণ হয়েছে ৮২৫৮জন। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ শত ১৮ জন শিক্ষার্থী। এদিকে কমলগঞ্জের হুরুন্নেসা খাতুন চৌধুরী কলেজের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে গত এক যুগের চেয়ে এবারই বেশি ফল বিপর্যয় হয়েছে এজেলায়।
ইংরেজি এবং আইসিটিতে অধিকাংশেরও বেশি শিক্ষার্থীরা খারাপ করায় ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন শিক্ষকরা। তবে জেলার সচেতন নাগরিকরা ফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের দায়ি করছেন। তারা বলছেন, নিয়মীত কলেজে ক্লাস না হওয়া এবং শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের মানুষিকতার কারণে এ ফল বিপর্যয় হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা লাগাতার ক্লাসে উপস্থিত না হলেও কলেজের পক্ষ থেকে অভিবাবকদের সাথে যোগাযোগ করা হতো না। সর্বপরি শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও বাণিজ্যিক মনমানুষিকতার কারণে এরকম ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে সচেতন নাগরিকদের মন্তব্য।
ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে একাধিক অভিবাবকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, “আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্লাস মুখি না হয়ে এখন কোচিং মুখি। ছেলে-মেয়েরা ঘুম থেকে উঠে স্যারের বাসায় কোচিংয়ে দৌঁড়ায়। কোচিং বাদ দিয়ে যদি ক্লাসে গুরুত্ব দেয়া হতো তাহলে ফলাফল এত খারাপ হতো না।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে পাসের হার ৮০ শতাংশ, আলহাজ্ব মখলিছুর রহমান ডিগ্রী কলেজে ৯৬ শতাংশ, সরকারি মহিলা কলেজে ৫৩ শতাংশ, শাহ মোস্তফা ডিগ্রী কলেজে ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ, রাজনগর ডিগ্রী কলেজে ৩১ দশমিক ০৩ শতাংশ, মোফাজ্জাল হোসেন মহিলা কলেজে ২৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ, তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজে ৩৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ইম্পিরিয়েল কলেজে ৭৫ শতাংশ, কাশীনাথ আলাউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজে ২৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও কমলগঞ্জ গণ মহাবিদ্যালয় ৪৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধিনে আলিম পরীক্ষায় ১২৮২ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে উত্তির্ণ হয়েছে ৭৫৯জন। শতকরা পাসের হার ৬০ শতাংশ। জেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনো এপ্লাস এসেনি এবং কারিগরী শিক্ষা বোর্ড থেকে ২৩৭ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ২০৯জন উত্তির্ণ হয়েছেন। শতকরা পাসের হার ৮৮ দশমিক ১২ শতাংশ। কোনো এপ্লাস নেই।
শাহ মোস্তাফা কলেজের অধ্যক্ষ মুশফিকুর রহমান বলেন, তুলনা মূলক ভাবে আমার প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য কলেজের চেয়ে অনেক খারাপ শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। যারা জেলার মফস্বল এলাকায় থাকে। যার কারণে প্রতিদিন ক্লাস করতে পারে না। এজন্য ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে।
এবিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম এ ওয়াদুদ বলেন, কিছু কলেজে বছরের অধিকাংশ সময় বিভিন্ন পরীক্ষা থাকে। যার কারণে ঠিক মতো ক্লাস হয়নি। যার কারণে ফলাফল একটু খারপ হয়েছে। বাকী কলেজ গুলোতে কি কারণে এতো খারাপ হয়েছে সে বিষয়টি ফাইন্ডআউট করতে কলেজ প্রধানদের নিয়ে শীঘ্রই বসব।

 

 

#দৈনিক মৌলভীবাজার/মুবিন খান/মৌলভীবাজার/ওফানা

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত