রবিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে রত্বা জঠিল রোগে আক্রান্ত: টাকার অভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা



স্বামী ও ছোট ছেলের সাথে রত্বা বেগম।

আহমদউর রহমান ইমরান, রাজনগর প্রতিনিধি:
“মোরা একটি ফুল কে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, মোরা একটি মূখে হাসি ফুটাবো বলে অস্ত্র দরি” তেমনি একটি ফুল কে বাঁচাতে হবে বর্তমান সময়ে। জীবনের সাথে যুদ্ধ করছেন এক মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে। রাজনগরের রত্বা বেগম (৩৬) জঠিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত পাচ্ছেন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। রত্বা বেগমের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ৩নং মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বাঙ্গালী গ্রামে। স্বামী পংকি মিয়া পেশায় দিনমজুর। রত্বা বেগম দুই ছেলে সন্তানের জননী। বড় ছেলে রাজু মিয়া (১৬) সদ্য এসএসসি পরিক্ষায় পাস করে রাজনগর কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে ও ছোট ছেলে রাজা মিয়া (১৩) স্থানীয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। রত্বা বেগমের বাবার বাড়ি উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বেড়িগাঁও গ্রামে। বাবা মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ মিয়া। কয়েক বছর পূর্বে মারা গেছেন।
আমাদের প্রতিবেদকের সাথে আলাপনে রত্বা বেগম বলেন, আমি দুইটি রোগে ভুগছি। ৬/৭ বছর পূর্বে টাইপেট জ্বর হয়ে আমার দুটি চোঁখ অন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে আমি গাইনি সমস্যা জনিত একটি জঠিল রোগে ভুগছি। অপারেশনের জন্য ডাক্তার বলেছেন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাগবে। আমি গরিব মানুষ , কই পাবো এতো টাকা। আমার স্বামী দিনমজুর মানুষ। জায়গা জমিও নাই, অল্প এই জমির মাঝে আমরা বাস করি। ঘর ও ভেঙ্গে গেছে। আমার বাবা এখলাছ মিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এই দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু আজ আমি জঠিল রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজের সাথে যুদ্ধ করছি। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।
রত্বা বেগম কান্না জনিত কন্ঠে বলেন , আমি অন্ধ হওয়ার পর থেকে আমার ও পরিবারের সকল কাজ কর্ম করে আমার ছেলে রাজা। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি ঘরের সব কাজ করে। আমার সেবা করে । আমার ছেলে রাজা মিয়ার একটা জঠিল রোগ রয়েছে। তার প্রসাবের রাস্তার পাশে একটি টিউমারের মতো হয়ে গেছে। তার রোগ নিয়েও আমার সহ পরিবারের সেবা করছে। বড় ছেলে অন্যের বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করে। এ বছর কলেজে ভর্তি হয়েছে।
রত্বা বেগমের স্বামী পংকি মিয়া বলেন, আমার স্ত্রী অসুস্থ প্রায় অনেক দিন। ৬/৭ বছর পূর্বে জ্বর হয়ে দুটি চোঁখ অন্ধ হয়। বর্তমানে কয়েক মাস থেকে গাইনি সমস্যায় জড়িত। ডাক্তার বলেছেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাগবে অপারেশনে। এতো টাকা আমি কই পাবো। আমার ছোট ছেলেও অসুস্থ । আমি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন করছি, দয়া করে আমার স্ত্রী সন্তানের চিকিৎসায় আপনারা সহযোগীতা করুন।

 

 

#দৈনিক মৌলভীবাজার/আহমদউর রহমান ইমরান/রাজনগর/ওফানা

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত