শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসী পরিবারকে ক্রসফায়ারের হুমকি



বিশেষ প্রতিবেদক: কুমিল্লা চিরিংঙ্গাঁ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি’র এসআই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী, পারিবারিক সম্পদে হস্তক্ষেপ, অসদাচারণ ও ক্রসফায়ারের অভিযোগ এনে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাদামপুর গ্রামের আব্দুল মুমিন চৌধুরী গত ১২ জুলাই এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত এসআই মিজান এর আগে মৌলভীবাজার মডেল থানায় কর্মরত ছিলেন।

 

অভিযোগ থেকে জানা যায়, এসআই মিজান দীর্ঘ ১৭ বছর মৌলভীবাজার মডেল থানায় কর্মরত থাকার সুবাধে অভিযোগকারী মুনিমের মানুষিক ভারসাম্যহীন ছোট ভাই মিজান চৌধুরীর সাথে পরিচয় ও ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে এসআই মিজান তাদের বাড়িতে নিয়মীত আসা যাওয়া করতেন এবং তাদের পরিবারের সাথে তার ঘনিষ্টতা বাড়ে। অভিযোগকারী আব্দুল মুনিমের ৮ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে বড় ভাই মৃত এবং ৫ ভাই ও ১ বোন বিভিন্ন দেশে প্রবাসে। যৌথ ওই পরিবারের বাড়িতে অনেক সম্পত্তি ও ঢাকা শহরে একটি ৭ তলা বাসা রয়েছে। একপর্যায়ে এসআই মিজান কৌশলে অভিযোগকারী মুনিমের ভারসাম্যহীন ভাই মিজানের সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে তাদের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে কৌশলে হস্তক্ষেপ করে। এরই ধারাবাহিকতায় সেই পুলিশ কর্মকর্তা চলতি বছরের ৯ জুন মিজান চৌধুরীর সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে দিতে তাদের পরিবারে চাপ সৃষ্টি করেন বলে উল্লেখ করা হয়।

 

অভিযোগে আরোও উল্লেখ করা হয়, চলতি মাসের ৮ জুলাই চিরিংঙ্গাঁ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই মিজান অভিযোগকারী মুনিমের বাড়িতে গিয়ে ছোট ভাই ইতালী প্রবাসী রায়হান চৌধুরীর কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। অন্যতায় ক্রসফায়ারের হুমকি দেন।

 

একটি সূত্র জানায়, মডেল থানার এসআই তাপস চন্দ্র রায় এর সভাপতিত্বে চলতি মাসের ৯ জুলাই থানায় একটি সালিশ বৈঠক বসে। এতে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, পৌর কাউন্সিলর জালাল আহমদ, মাসুদ আহমদ, ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা সদর উপজেলা কমান্ডার আনছার আলী ও ইউপি সদস্য আদর মিয়াসহ শহর ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সালিশ চলা অবস্থায় এসআই মিজান উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে অসদাচারণ করেন এবং একপর্যায়ে বলেন “আমি স্যাকেন্ড অফিসার ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় আমার অনেক বড় লাইন আছে”। এসময় হট্ট গুলো শুরু হলে থানার অফিসার ইনচার্জ সুহেল আহম্মদ তাকে ডেকে নিয়ে থানা থেকে বের করে দেন।

 

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগকারীদের পারিবারিক বিষয় নিয়ে এসআই মিজান যেটা করতেছেন এটা কোনো অবস্থাতে ঠিক নয়। তিনি কোন আইনে চিরিংঙ্গাঁ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত থেকেও মৌলভীবাজার এসে প্রভাব কাটান এটা আমার বুঝে আসছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৌলভীবাজার মডেল থানার এক পুলিশ কর্মকতা গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মিজান ক্ষিপ্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

 

এবিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, মৌলভীবাজার আসলে আপনার সাথে কথা হবে। থানায় সালিশে বসা অবস্থায় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে ক্ষিপ্ত হয়েছেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি ফোন কেটে দেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত