বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ: সাড়ে নয় বছরে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ
জনগণের ভরসার প্রতীক?

জনগণের ভরসার প্রতীক?



রুপম আচার্য্য, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ থেকে:
একাদশ সংসদ নির্বাচন শুরু হতে আর মাস কয়েক হাতে আছে। একটি নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে মুল ভুমিকা রাখেন ওই এলাকার সংসদ সদস্য। ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক কারণে এ দুই উপজেলার গুরুত্ব শুধু দেশে নয় বিশ্বব্যাপী সমাদ্রিত। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন এই নির্বাচনী এলাকায়। মৌলভীবাজার – ৪ নির্বাচনী এলাকার (শ্রীমঙ্গল – কমলগঞ্জ উপজেলা) জনগণের মাঝে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন আলোচনা – সমালোচনা। হাটবাজার, শহর-বন্দর বিভিন্ন স্থানে এলাকার মানুষ বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের বিগত সাড়ে নয় বছরের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা – সমালোচনায় মুখর জনগণ।

 

চা শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এ এলাকার জনগণ কার্যত নৌকা মার্কার প্রতি নিজেদের সমর্থন প্রদান করে থাকেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবেসে। বিগত দিনের নির্বাচনের ফলাফল সে হিসাবটুকুই বলে। কিন্তু এবার জনগণের মধ্যে মার্কা সমর্থনের ব্যাপারে কোন দ্বিধা না থাকলেও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে উত্তেজনা চলছে সর্বত্র। তবে, দলে সুযোগসন্ধানীদের দৌরাত্ব ও ‘অসির চেয়ে মসী বড়’ আচরণ প্রকৃত ভোটার ও ত্যাগী নেতা – কর্মীেেদর মধ্যে একপ্রকার নেতিবাচক মনস্তাত্বিক প্রভাব রয়েছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাংগঠনিক কাঠামো। দলীয় বিভিন্ন লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, দলীয় নেতা -কর্মী- সমর্থকরা অনেকটা নীরব ভূমিকায় রয়েছেন, তাঁরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন। অনুপ্রবেশকারী সুযোগসন্ধানীরা একটি বিশেষ পেশার আড়ালে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের অন্তর্ভুক্তি দলীয় নেতা – কর্মীরা ভালোচোখে দেখছেন না এবং অনিচ্ছাসত্বেও দলছুট হয়ে পড়ছেন। শুধু তাই নয় অনলাইনে কিছু ব্যক্তি সাংসদের পক্ষাবলম্বনের মাধ্যমে পেশাজীবি, দলীয় সমর্থকদেরকে ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে আওয়ামী বিরোধি বলে চালিয়ে দেবার অপপ্রয়াস হাতে নিয়েছেন। এভাবে জনগণকে পীড়নের বিষয়টি কেউই ভালো চোখে নিচ্ছেন না।

এছাড়া, এ আসনে কমলগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুর রহমানের আগামী দিনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাওয়ার ঘোষনা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের জনগণের মধ্যে নির্বাচনী উত্তেজনার পারদকে আরও বৃদ্ধি করেছে। তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় জনসংযোগ করে চলেছেন । তার পক্ষে বিভিন্ন এলাকার মানুষ মাঠে -ঘাটে কাজ করছেন। বিশেষ করে কমলগঞ্জ উপজেলায় নৌকা মার্কা পরাজয়ের গ্লানি মুছে দিতে অধ্যাপক রফিকুর রহমান বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারবেন বলে অনেকেই মতপ্রকাশ করেছেন। এছাড়া, হিন্দু -বৌদ্ধ -খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব মনোনয়ন চাইতে পারেন। এজন্য তিনি বিগত কয়েকবছর ধরে মাঠে – ঘাটে কাজ করছেন। বিশেষ করে চা বাগান ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় তাঁর ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। এছাড়া, মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও পাবলিক প্রসিকিউটর এড. আজাদুর রহমান। এছাড়া, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ছাত্রলীগ, যুবলীগ এর নেতাকর্মীদের সাথে গভীর সম্পর্ক রেখে চলেছেন আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হক। বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, বর্তমান সংসদ সদস্যের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ থাকলেও জনগণ তাদের আশানুরুপ উন্নয়ন পায়নি। উন্নয়ন আর প্রাপ্তিতে অনেক পিছিয়ে চা বাগান অধ্যুষিত এ দুই উপজেলা ।

বিগত সরকারের সময়ে এই দুই উপজেলার মানুষের চাওয়া অনেক গুলো দাবীই অপুরণ রয়ে গেছে। উঁচু পাহাড়ী এলাকা হওয়ার পরও শ্রীমঙ্গলে একটু বৃষ্টি হলেই শহরতলীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বাড়িঘরে পানি উঠে পোহাতে হয় মারাত্বক দূর্ভোগ। ছ’মাস আগে শহরতলীর সবুজবাগ আ/এ রক্ষা বাঁধ দিয়ে ছড়া খনন করা হয়। তবে, সে কাজটুকু পরিকল্পনা মাফিক না হওয়ায় ছ’মাস যেতে না যেতেই ছড়ার পাড়ের বাঁধ ভেঙ্গে যেতে শুরু করেছে। পুনরায় ছড়া ভরাট হয়ে যাচ্ছে। শহরতলীর সন্ধানী এলাকার বাসিন্দা সত্যব্রত দত্ত টুলটুল বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের প্রত্যেকটি পাহাড়ী ছড়া (জলধারা) হাওর পর্যন্ত খনন করা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এই উদ্যোগ গ্রহণে কেউ এগিয়ে আসেননি। ছড়াগুলো খনন করলে এলাকা বাঁচবে তার প্রমান শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া ছড়ার কিয়দংশ খননের ফলে এই বর্ষা মৌসুমে এলাকায় এবার বন্যার পানি উঠেনি। শ্রীমঙ্গলের জনগণ আগামী সংসদ নির্বাচনে নিজের জনপ্রতিনিধিকে দেখতে চায় কর্মকুশল ও জনগনের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে, যিনি জনগণের কথা বলেন ও প্রত্যেকটি ভোটারদের মুল্যায়ন করেন।’ পৌরসভা দীর্ঘ ৮০ বছরেও শ্রীমঙ্গল পৌরসভা একবর্গ কিলোমিটারের চেয়ে আয়তন বাড়েনি। ফলে নগর বেড়েছে বিগত ৩০ বছর পূর্বে। কিন্তু নগরায়নের সুবিধা নেই। পুরো শহরতলীটাই যেন অগোছালো, অপরিস্কার। পয়ঃ নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটকরা শ্রীমঙ্গল সম্পর্কে একটি বিরুপ ধারণা নিয়ে ফিরেন।

একটু বৃষ্টি হলেই শহরের হবিগঞ্জ রোডে র‌্যাব -৯ কার্যালয়ের সামনে পানি জমে টইটম্বুর হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে শ্রীমঙ্গলের কিছু স্বার্থন্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থে ও অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে পৌরসভার একবর্গ কিলোমিটারকে লাল ফিতায় বন্দি রেখেছেন। শ্রীমঙ্গলে নেই কোন বাসষ্ট্যান্ড। এতে যাত্রীদের পোহাতে হয় মারাত্মক দূর্ভোগ। দীর্ঘ দিন ধরে শ্রীমঙ্গলবাসী এই আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু ফলাফল শুণ্য। রাস্তার উপর এলোপাথারী ও এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকে যানবাহন, ঢাকা সিলেট হাইওয়েতে হরদম চলে যানবাহন ঘুরানো। ফলে যানজট এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের আঞ্চলিক সড়কগুলো নাজেহাল অবস্থায় থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।

বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল যারা বেড়াতে আসেন তারা একটি বিরুপ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এর জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রীমঙ্গল -সমশের নগর, সমশের নগর- মৌলভীবাজার, সমশের নগর- চাতলাপুর চেকপোষ্ট, শ্রীমঙ্গল- ধলাই চা বাগান, ভানুগাছ- পাত্রখলা, ভানুগাছ- চাম্পারায় রাস্তা, শ্রীমঙ্গল থেকে নুরজাহান হয়ে মাধবপুর লেক, শ্রীমঙ্গল – নাহার পুঞ্জি, শ্রীমঙ্গল- বর্মাছড়া, শ্রীমঙ্গল- কালেঙ্গা, শ্রীমঙ্গল- বাইক্কা বিল, শ্রীমঙ্গল- কালাপুর- গ্যাস প্লান্ট, শ্রীমঙ্গল- সমশেরগঞ্জ , শ্রীমঙ্গল ষ্টেশন রোড, কমলগঞ্জ উপজেলা- মুন্সিবাজার, কমলগঞ্জ- চৈত্যন্য গঞ্জসহ দুই উপজেলার আভ্যান্তরিন সড়ক গুলো নির্মান ও পুনঃসংস্কার জরুরী। এছাড়া, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে বয়ে চলা সড়কের জন্য বন্যপ্রানীর অবাধ বিচরণ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায়। এজন্য, বনকে এড়িয়ে বিকল্প রেল লাইন ও রাস্তা জরুরী ভিত্তিতে নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্র আসনের জনগণের প্রাণের দাবী। শ্রীমঙ্গলে একটি ষ্টেডিয়াম স্থাপনের দাবী ক্রীড়ামোদিদের দীর্ঘদিনের। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে প্রচুর পরিমানে আনারস, লেবু, কাঠাল, নাগা মরিচের চাষ হয়। যা শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটকদেরও প্রলুব্ধ করে। কিন্তু শ্রীমঙ্গল- কমগঞ্জে কোন এগ্রোবেইজ ইন্ডাস্ট্রি না থাকায় চাষীরা নায্যমুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রীমঙ্গল ডুলুবাড়ী এলাকার আনারস চাষী বিদ্যাম্বর দেব বর্ম্মা জানান, সিজনে এক সাথে সব ফসল পেঁকে যাওয়াতে অনেক ফল মাঠেই নষ্ট হয়। এতে অনেকেই এ সব উৎপাদন থেকে সরে যাচ্ছেন। কিন্তু একটি ফুড প্রসেসিং সেন্টার হলে হয়তো তা হতো না। এখনও যা আছে তার জন্য এগ্রোবেইজ ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন জরুরী। আগামী সংসদ নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হবেন তাকে সে ভুমিকা রাখতে হবে।

 

মৌলভীবাজার জেলাতথা সিলেট বিভাগের দৃষ্টি নন্দন জায়গাগুলো দেখতে ৯০ ভাগ পর্যটক শ্রীমঙ্গলেই রাত্রী যাপন করেন। অথচ শ্রীমঙ্গলে নেই পর্যটন কর্পোরেশনের একটি মোটেল। একটি মোটেল স্থাপনের জন্য ফিনলে চা কোম্পানীর জমি অধিগ্রহন করে স্থাপনা শুরু করলেও তা রহস্যজনক কারনে বাতিল হয়ে যায়। যা অত্যন্ত দু:খজনক। রেষ্ট হাউজ ব্যবসায়ী এস কে দাশ সুমন জানান, গুরুত্ব বিবেচনায় শ্রীমঙ্গলে একটি পর্যটন মোটেল স্থাপন অতীব জরুরী। যার জন্য মুল ভুমিকা নিতে হবে সংসদ সদস্যকেই। শ্রীমঙ্গলের পর্যটন এলাকায় মনোরম পরিবেশে বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের দাবী ছিলো দীর্ঘ দিনের। যার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশে শহরতলীর কাকিয়াছড়া চা বাগানের পাশে জমি অধিগ্রহন করে সীমানা প্রাচীরও দেয়া হয়। কিন্তু বিগত ১৫ বছর ধরে তা খালি জমিতেই সীমাবদ্ধ। যার বাস্তবায়নে উদ্যোগী কোন ভূমিকা লক্ষ করা যায়নি। প্রাক্তন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতলিব জানান, পর্যটন মোটেলের মতো এটিও ভেস্তে যাওয়ার পথে। শ্রীমঙ্গল শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে একটি বাইপাস সড়ক নির্মানের দাবী শ্রীমঙ্গলবাসীর দীর্ঘ দিনের। কিন্তু বিভিন্ন দাবীরমতো সে দাবীও অপুরণ রয়েছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার হচ্ছে শ্রীমঙ্গল রাধানগর, মহাজিরাবাদ, বিশামনী, ডুলুবাড়ি, লাখাইছড়া, হরিণছড়া, পাত্রখলা পুঞ্জি এলাকা, পশ্চিম ভানুগাছ বনসহ বিভিন্ন পুঞ্জি ও তার আশপাশ এলাকা। যার অধিকাংশ জমিই সরকারী খাস। ইতিমধ্যে বেশীরভাগই দখল হয়ে গেছে। দখলদাররা প্রথমে সে জমিতে লেবু আনারস, পান, লিচু, কাঠাল, নাগা মরিছ চাষ করেন। পরে কেউ কেউ কৌশলে ও জোগসাজশ করে সেটেলমেন্টে তাদের নাম অর্ন্তভুক্ত করেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা দখল করেন। বর্তমানে সে সব এলাকা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। আর গড়ে উঠছে ইমারত। যে সৌন্দর্য দেখার জন্য পর্যটকরা ছুঠে আসেন এই এলাকায় আজ তাতে গভীর ক্ষত ধরেছে। শমশের নগর বিমান বন্দর- পুনস্থাপন এ এলাকার মানুষের বহুদিনের দাবী ।

 

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জের বেশ দুরত্ব হওয়ায় সময়ের কারনে অনেক দেশী বিদেশী পর্যটক ইচ্ছা থাকার পরও শ্রীমঙ্গল বেড়াতে আসেন না। কিন্তু ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত এই বিমান বন্দরটি যদি পুনঃ চালু হয় তা হলে এ এলাকার মানুষের দীর্ঘ দিনের একটি দাবী পুরণ হবে। পর্যটন নগরী ঝঞ্জাটমুক্ত ও প্রাণবন্ত হওয়া, এলাকার মানুষের সহজ- সরল সহযোগিতামুলক ব্যবহার যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। কিন্তু শ্রীমঙ্গলে প্রভাবশালীমহলের ছত্রছায়ায় এক শ্রেণীর দাদন ব্যবসায়ী সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তাদের কাছ থেকে উচ্চসুদে টাকা নিয়ে, কেউবা হার্ট এ্যাটাক, কেউবা বিষপানে আত্মহত্যা করছেন। বাড়ি ঘর ছেড়ে এদের ভয়ে অনেকে এলাকা ছাড়ছেন। তথাকথিত সম্পুর্ণ অনুমোদনহীন এবং অবৈধ ‘সমিতি’র (মাইক্রোক্রেডিট, আসলে সুদের ব্যবসা) নামে ও আড়ালে নগদ টাকার কারবারীরা স্বাক্ষরকৃত ব্যাংকের ব্ল্যাংক চেক জমা নিয়ে, মামলার ভয় দেখিয়ে অনেক মানুষকে নিঃস্ব করে ফেলছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এ এলাকার জনগণ চিহ্নিত সুদব্যবসায়ীদের নিকট জিম্মি হয়ে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এছাড়া, কিছু চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের ম্যানেজ করে লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়াখেলাও চলছে সংগোপনে । এগুলো চিরতরে বন্ধ করার জন্য সংসদ সদস্যকে ভুমিকা রাখতে হবে বলে দাবী এলাকাবাসীর।আত্মীয়করণ বা স্বজনপ্রীতি মুক্ত নিরবিচ্ছিন্ন পর্যটন নগরীর জন্য এ এলাকায় বিভিন্ন কমিটি গঠনে (রাজনৈতিক, সামাজিক, স্থানীয় নির্বাচন, শিক্ষা প্রতিষ্টান, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক) নিরপেক্ষতা ও সমতা বজায় রাখা প্রয়োজন। সুস্থ্য রাজনীতিতে উচ্চ শিক্ষিত, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া রাজনৈতিক কর্মী, আইটি প্রশিক্ষিত তরুন -তরুনীর আগ্রহ থাকলেও, নের্তৃবৃন্দদের সেদিকে নজর নেই। তাদের কদর নেই স্থানীয় রাজনীতিতে। ভারত থেকে সরাসরি কমলগঞ্জ উপজেলা হয়ে ধলই নদী মনু নদীতে এসে মিশেছে। কয়েক বছর ধরে ঢল নামলেই দু পাড় ডুবে তলিয়ে যায় জনপদ। তাই সার্বিক বিবেচনায় ধলই নদী খনন ও নদীর পাড়ে বেরিবাঁধ নির্মান জরুরী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিন ধরেই স্থানীয়রা এ দাবী করে আসলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এতে প্রতিবছর কয়েকবার ফ্লাস ফ্লাডে পড়েন এ এলাকার বাসিন্দারা। একই সাথে কমলগঞ্জ লাঘাটা নদী খননের জন্য বিগত ১০ বছরেরও অধিক সময় ধরে এলাকাবাসী দাবী জানিয়ে আসছেন।

 

নদীটি খনন না হওয়ায় দীর্ঘ সময় পানিবন্দি হয়ে থাকেন কমলগঞ্জ পতনঊষা ইউনিয়নের জনগণ। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও এ দুই উপজেলায় সংরক্ষনের অভাবে ইতিমধ্যে বিলিন হয়ে গেছে অনেক বধ্যভুমি। স্থানীয়দের উদ্যোগে ও বিজিবি’র সহযোগিতায় শ্রীমঙ্গলের সাধু বাবার থলি বধ্যভুমি ৭১-, ভাড়াউড়া বধ্যভুমি ও কমলগঞ্জের দেওরাছড়া বধ্যভুমি সংরক্ষিত হওয়ায় প্রতিদিন শত শত মানুষ তা দেখতে যান। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্টান স্থাপনের মাধ্যমে এলাকার ভবিষ্যত উন্নয়নে মেধাবী প্রজন্ম গড়তে ওই এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি প্রয়োজন। দুই উপজেলায় বিগত ৩০ বছরের মধ্যে কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণ হয়নি। বর্তমান সরকার বিভিন্ন উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারী করে দিয়েছেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরে এই এলাকায় ৩১টি চা বাগানে প্রাথমিক স্কুল করে দেয়াতে এখন ছাত্রের সংখ্যা বেড়েছে। শ্রীমঙ্গলে বর্জ্য ফেলা হয় শহরতলীর অভিজাত এলাকা কলেজ রোডে। যেখানে নামকরা স্কুল ও কলেজ, এমনকি সরকারী কলেজ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্টানের মাত্র ২৫ গজের মধ্যে এর অবস্থান, যা অপসারণের দাবী দীর্ঘ দিনের এমনকি এ নিয়ে ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে আসে। রহস্যজনক কারনে শহরের অদুরে খাসজমি ও জনমানবশুন্য এলাকা থাকার পরও কেউ এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। একই সাথে কমলগঞ্জ উপজেলায়ও নেই বর্জ্য অপসারণের পরিবেশ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনায় পর্যটকরা এই এলাকা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা নিয়ে ফেরেন ও জনমনে এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিদ্যমান। তাই অতীব জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্যের ভুমিকা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন ন্থানীয়রা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপন হয়। একটি মহল বিরোধিতা করে শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র চালু না হওয়ার জন্য। এরপরও নানান চড়াই উৎরাইয়ের পর অর্থমন্ত্রনালয়, বাণিজ্য মন্ত্রনালয় এর সহযোগীতায় চালু হলেও এটিকে চালু রাখার ব্যাপারে ও তার নিরবিচ্ছিন্ন কার্যক্রমে সংসদ সদস্যের ভুমিকা রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ট্রেণে আসনসংখ্যা বাড়ানো, চট্টগ্রাম -সিলেট রুটে লোকোমোটিভ বাড়ানো বা নতুন ট্রেন সংযোজন ও বিমানবন্দর চালু করাসহ সড়কপথে সরাসরি যাতায়াতের জন্য লাক্সারিয়াস পরিবহন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শ্রীমঙ্গলের গাঁ ঘেঁষে রয়েছে বাহুবল থানা, কমলগঞ্জ থানা ও মৌলভীবাজার সদর। প্রতিদিন শত শত গাড়ি নিয়ে অসংখ্য পর্যটক আসেন শ্রীমঙ্গলে। পর্যটকদের যানবাহনে অনাকাঙ্কিত কোন দূর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য বহুদিন ধরে এখানে একটি ট্রমা হসপিটাল স্থাপনের জন্যও দাবী ছিলো শ্রীমঙ্গলবাসীর। এই এলাকায় কারিগরী প্রশিক্ষন কেন্দ্র, পলিটেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্টা করার দাবী এলাকাবাসীর অনেক দিনের। প্রতিবছর এলাকায় শিক্ষিত জনগণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নাই বললেই চলে।

 

ফলে, তরুন ও যুব সমাজের মধ্যে চরম হতাশা বিদ্যমান। এক শ্রেণীর লোক যারা নিজেদেরকে রাজনৈতিক কর্মী পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্থ অংশের সাথে যোগসাজস ও ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধংস করে দিচ্ছে। এ শ্রেণী সর্বদলীয় একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে পাহাড়কাটা, জমিদখল, অবৈধ চাপাতা, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, গাছ ও কাঠের অবৈধ ব্যবসা, সীমান্তে কাঁটাতার সংলগ্ন জিরো পয়েন্টে ফসল ইত্যাদি করে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির কারন হয়ে উঠছে। তাদের এসব কার্যকলাপ এলাকার জনগণ প্রত্যক্ষ করলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। যা মোকাবেলায় সংসদ সদস্যকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি সরকারী হাসপাতাল স্থাপনেরও জন্য অনেকদিন ধরেই দাবী জানিয়ে আসছেন শ্রমিকরা। চা শ্রমিকদের জন্য এরশাদ সরকারের সময় একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল শ্রীমঙ্গল ইউছুবপুর এলাকায়। বিগত বিএনপি সরকারের সময় সে হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষনা করে সেখানে স্থাপিত হয় একটি বালিকা বিদ্যালয়।

 

তাই চা শ্রমিকদের সুস্থতার জন্য এখানে একটি হাসপাতাল স্থাপন জরুরী। লাউয়াছড়া দখল করে চা বাগান, লেবু বাগানসহ অনান্য ফসল উৎপাদনের ফলে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের একমাত্র প্রাকৃতিক বন লাউয়াছড়া সংকীর্ণ হয়ে আসছে। দীর্ঘ দিন ধরে এ প্রক্রিয়া চলে আসছে। লাউয়াছড়ার ভিতরে ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। লাউয়াছড়ার গা ঘেষে এবং দখল করে অনেকে তৈরী করছেন বাংলোবাড়ি। অতি সম্প্রতি লাউয়াছড়ার ভানুগাছ অংশে বনের জমি দখল করে রোপন করা হয় চা বাগান। যা রোপনে বন বিভাগ বাধা প্রদান করলে প্রভাবশালীরা বন বিভাগের উপর বিরাগভাজন হন। যে লাউয়াছড়া দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন এখানে সেই লাউয়াছড়াকে গ্রাস করতে র্নিলজ্জের মতো উঠে পড়ে লেগে আছে ভুমিখেঁকো চক্র। এদের পেছনের মদদদাতাদের সরিয়ে সরকারী জমি ও পরিবেশ রক্ষায় ভুমিকা নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। লাউয়াছড়া বনের গাছচুরি রোধে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী নেতা, চিহ্নিত সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রনে এমপিকে ভুমিকা রাখতে হবে। প্রকৃতির বিরুপ প্রভাব থেকে আমাদের বেঁচে থাকার তাগিদে ওই সকল নেতাদের অবৈধ আয়ের জন্য লাউয়াছড়া বনের গাছ থেকে কু-নজর সরানোর জন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। এতে, বনবিভাগ যেমন সজাগ দৃষ্টি রেখে চাপবিহীন হয়ে কাজ করতে পারবে তেমনি রাজনৈতিক নেতাদের লেবাসধারী গাছচোররা সর্তক হবে।

 

পরিবেশবিদরা দীর্ঘ দিন ধরে লাউয়াছড়ায় ট্রেন লাইন ও পাকা সড়ক স্থানান্তরের দাবী জানিয়ে আসছেন। প্রতিদিনই কোন না কোন প্রাণী যানবাহন ও ট্রেনের চাকায় পৃষ্ট হয়ে মারা পড়ছে। তা ছাড়া ট্রেন ও যানবাহনের শব্দে বন্যপ্রাণীরা হারাচ্ছে তাদের নিরবিচ্ছিন্ন বসবাসের পরিবেশ। এই দুইটি যোগাযোগ মাধ্যম স্থানান্তরিত করণ বেশ বড় একটি কর্মযজ্ঞ। সাংস্কৃতিক চর্চায় পৃষ্টপোষকতা ও নাটক করার উপযোগী অডিটরিয়াম স্থাপনের এখানে কয়েকটি অডিটরিয়াম ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মহড়া কক্ষ নির্মান করার দাবী দীর্ঘ দিনের। জরাজীর্ন অবস্থায় রয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলার প্রাচীণতম রেলওয়ে ষ্টেশন সমশের নগর। ষ্টেশনে আসন সংখ্যা কম হওয়াতে মারাত্মক দূর্ভোগে পড়েন পর্যটকসহ ওই এলাকার বাসিন্দারা। শ্রীমঙ্গলে লিংক ছড়াগুলো খননের জন্য শ্রীমঙ্গলবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী। যা খনন হলে পর্যটকরা সহজে বাইক্কা বিল যেতে পারবেন এবং নৌপথে হাইল হাওর ঘুরে বেড়াতে পারেন। এছাড়া, ২০০৪ সালের পর থেকে শ্রীমঙ্গলে আওয়ামীলীগের কোন সম্মেলন হয়নি। এতে উঠে আসেনি নতুন নেতৃত্ব। যেহেতু এই আসনে বরাবরই আওয়ামীলীগ বিজয় লাভ করে আসছে। এটি আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবেও খ্যাত। অনুপ্রবেশকারী, সুযোগসন্ধানীদেরকে ঝেড়ে ফেলে অভিমান, হতাশা বা অন্যকোনকারনে দলে ব্রাত্য হয়ে পড়া এবং দলের সকল শ্রেণীর বর্ষীয়ান – তরুন নেতা- কর্মী, সমর্থকদের সাথে দুরত্ব ঘুচিয়ে দলকে গোছানোর বিকল্প নেই। এতে বর্তমান সাংসদের ক্রমহ্রাসমান জনপ্রিয়তা পুনরায় ফিরে আসবে, অবস্থান সংহত হবে বলে অনেকেই মতপ্রকাশ করেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত