শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দাম বেশী, ক্রেতা ও বিক্রেতারা শেষ সময়ের অপেক্ষায়



ওমর ফারুক নাঈম:: বগুড়া থেকে বাবর মিয়া ৯টি গরু নিয়ে এসেছেন মৌলভীবাজারের স্টেডিয়াম মাঠে। ঈদের দিনও ঘনিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ১টি গরু। এমন হতাশার ছাপ সকল বিক্রেতারই। তারা মনে করছেন শেষ সময়ে হয়ত ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তবে ক্রেতারা বলছেন দাম বেশী হওয়ার কারণে পছন্দের পশু এখন ক্রয় করেননি। শেষ সময়য়ের অপেক্ষা করছেন।

সরেজমিনে বাজারে দেখা যায়, এখনও মাঠ প্রায় শূন্য। বিক্রেতারা তাদের পশু নিয়ে এখনও বাজারে আসছেন। তাদের পশুর চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যাই বেশী। প্রায় সকল বিক্রেতাই আশানুরুপ দাম অনুযায়ী ক্রেতা পাচ্ছেন না। ক্রেতারাও বিক্রেতাদের দামে অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। তবে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই শেষ সময়ের অপেক্ষায় আছেন। সোমবার রাত থেকে বাজার জমবে এমনটাই আশা করছেন তারা। হাটের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

নরসিংদি থেকে আসা হান্নান মিয়া বলেন, ৪৩টি রাম ছাগল এবার নিয়ে এসেছি। একেকটির দাম ৪০থেকে ৪৬ হাজার টাকা। মাত্র ১টি বিক্রি হয়েছে। বগুড়া থেকে আসা বিরছ মেম্বার বলেন, ক্রেতা কম। গরুর দাম ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকার ভিতরে আছে। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা গুলজার বলেন, বাজার জমব। দেকবা গরু পাইতা নায়। এবার বিদেশী গরু নাই।কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ইসলাম বলেন, ৪০টা ছাগল নিয়ে এসেছি। দাম ৯ থেকে ১১হাজার টাকা।

মৌলভীবাজারের স্টেডিয়াম মাঠে শূন্য বাজার

মৌলভীবাজার পৌরসভা এবারের কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা দিয়েছে ৪৮ লক্ষ ২ হাজার টাকায়। এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম মাঠে বুধবার থেকে পশুর হাটে শুরু হয়েছে। হাটের ইজারাদার শেখ এন্টারপ্রাইজ এর মালিক সাবেক চেয়ারম্যান শেখ রুমেল আহম্মদ। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাজারে গবাদি পশু আসতে শুরু করেছে । আশা শেষ সময়ে বেচাকেনা জমে উঠবে।

স্টেডিয়াম মাঠে আসা মুহিতুর রহমান হেলাল বলেন, এখনও দেখছি। দাম অনেক বেশী। ঈদেও আগের দিন দাম কমতে পারে। তামজিদ নামের একজন বলেন, এখনও পছন্দের পশু কিনিনি। তবে শেষ সময়ে দাম কমার কথা রয়েছে। এমন কথাই জানালেন ফাইয়াজ, অর্কিড, শাওনসহ বাজারে আসা অনেক ক্রেতা।

এছাড়া মৌলভীবাজার জেলার সবকটি উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও বড় বড় বাজার গুলোতেও ২ থেকে ৭দিন ব্যাপী কোরবানীর পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য শমসের নগরে সোমবার ও ঐতিহ্যবাহী দিঘীরপাড়ের বাজার মঙ্গলবার বসবে। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই ধীরে ধীরে বাজার জমছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস কর্মকর্তা ডা. এবি এম সাইফুজ্জামন বলেন, এবছর ৫৫হাজার ৩মত ২৩টি গরু, ১হাজার ৬৫টি মহিষ, ৪২হাজার ৪৬১টি ছাগল ও ভেড়ার চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা কমতেও পারে বাড়তেও পারে। খামার গুলোতেও প্রয়োজনীয় পশু রয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকেই পশু পালন করেছেন। দেশের খামারিরা পশুপালন করে যদি লাভবান হন, তবে তারা আরও বেশি পশুপালনে উৎসাহিত হবেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত