মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ঈদে ঘুরেতে পারেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের নিদর্শন “বড়লেখা”



নিজস্ব প্রতিবেদক::
পবিত্র ঈদুল আযহা।এর পর মুসলমানদের ঘরে ঘরে বইবে ঈদের খুশি।এই ঈদকে কুরবানির ঈদ বলা হয়।মুলত এই ঈদে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য মুসলমানরা পশু কুরবানি করে থাকে।তাই ঈদের সবটা জুড়ে থাকে পশু কেনা,পশু জবাই,আত্বীয় স্বজনের মধ্যে মাংস বিতরন, রুটি মাংস খাওয়া ইত্যাদি।

তবে এসব শেষেও ভ্রমন বিলাশী মনকে কি বসিয়ে রাখা যায়! মন তো চাইবেই ঈদে পরিবার,পরিজন, বন্ধুদের নিয়ে দুরে-কাছে কোথাও বেড়িয়ে আসতে। এমন চিন্তা যাঁদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁরা এই ঈদে ঘুরে আসতে পারেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ নিদর্শন বড়লেখা। মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী একটি উপজেলা বড়লেখা।উপজেলায় রয়েছে ১০ টি ইউনিয়ন।আবার প্রতিটি ইউনিয়নের রয়েছে আলাদা আলাদা সৌন্দর্য। নিম্নে তা বর্ননা করা হলো.

৪ নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নঃ
ছোট ছোট চা বাগান, উঁচু নিচু পাহাড় টিলা, খাসিয়া পান পুঞ্জি আর সোনাই নদী মিলিয়ে এক অপরূপ সৌন্ধর্যের নিদর্শন বড়লেখার সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর। যেখানে রয়েছে বেরেঙ্গা পান পুঞ্জী,পাল্লাতল চা বাগান,হাফিজ চা বাগান সহ মোট ৭ টি চা বাগান।
এই ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। সোনাই নদী,যা এই ইউনিয়নের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

৫ নং দক্ষিন শাহবাজপুর ইউনিয়নঃ
উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের রয়ছে আলাদা আলাদা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যা পুরো উপজেলাকে সারা দেশের কাছে তুলে ধরেছে।এ ইউনিয়নে রয়েছে দেশ খ্যাত ব্যবসায়ী তপন চৌধুরী’র মালিকানাধীন শাহবাজপুর চা বাগান যা জিঙ্গালা চা বাগান নামে সারা দেশে পরিচিত। বোবারতলের উঁচু নিচু পাহাড়, টিলা আর ঘনজঙ্গল দেখতে যেতে পারেন সেখানেও।তবে সেখানে জিপ গাড়ি করে যেতে হবে।উঁচু নিচু রাস্তায় অন্যান্য গাড়ি চলে না।বোবারতলে গেলে সেখানকার মানুষের আত্বীয়তা আর মৌসুমি ফলফলাদির আপ্যায়ন আপনার সারা জীবন মনে থাকবে।

৭ নং তালিমপুর ইউনিয়নঃ
দক্ষীন এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি হাওর এর অনেকটা উপজেলার এই ইউনিয়নে।এখন বর্ষাকাল চলছে,হাকালুকির বর্ষতীরুপ এখন সারা হাওরে পরিলক্ষিত হচ্ছে।সেখানে গেলে দেখতে পাবেন জেলেরা মাছ ধরছে,ছোট ছোট বাচ্চারা গোসল করছে।নৌকা করে ঘুরে দেখতে পারবেন পুরো হাওর। পাখিবাড়ি হিসাবে পরিচিত মনহর আলী’র(মাষ্টার) বাড়িতে নানা জাতের পাখির সমাগম আপনাকে মুগ্ধ করবে।

৮ নং দক্ষীন ভাগ (উত্তর) ইউনিয়নঃ
দেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধুবকুন্ড ও পুরিকুন্ড ইকো পার্ক এ ইউনিয়নেই অবস্থিত।বড়লেখার কাঁঠালতলী বাজার থেকে ৭ কি:মি: পূর্বে অবস্থিত মাধুবকুন্ড যেতে পারেন আপনি সি এন জি করে।২০০ ফুট উঁচু পাতারিয়া পাহাড়ের বুক চিরে অবিরত জলরাশি আপনাকে হারিয়ে দেবে অন্য ভুবনে।যে কোন দর্শনার্থী’র মন ভালো করে দিতে পারে নিমিষে।ইচ্ছে জাগবে সেই স্বচ্ছ পানিতে গা একটু ভিজিয়ে নিতে।মাধবকুণ্ড থেকে ফিরার সময় হাতের বাম পাশ দিয়ে নেমে পাতরের উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে আকাবাকা পথ পাড়ি দিয়ে পুরিকুন্ড যেতে পারেন।তবে সেখানে মাধুবকুন্ডের তুলনায় কম পানি পড়ে।

৯ নং সুজানগর ইউনিয়নঃ
আগর-আতরের রাজধানী বলা হয় উপজেলার এ ইউনিয়নকে।যেখানে আগর উৎপাদন,বিপনন ও বাজারজাতকরণ করা হয়।বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।এ ইউনিয়নে গেলে আতরের সুগন্ধে আপনার মুন জুড়িয়ে যাবে।বড়লেখা এসে এ ইউনিয়ন না ঘুরলে আপনি করবেন চুড়ান্ত বোকামি।

১০ নং দক্ষিনভাগ (দক্ষিন)ইউনিয়নঃ

সমনভাগের বনবনানি আর ছোট ছোট চা বাগানে সমৃদ্ধ এই ইউনিয়ন।এই ইউনিয়নে রয়েছে রহস্য ঘেরা বেকি লেক,আগর-আতরের কারখানা।

যেভাবে যাবেনঃ
ঢাকা থেকে এনা, শ্যামলি, রূপসী, রুপালী সহ বিভিন্ন পরিবহণ ঢাকা থেকে সরাসরি বড়লেখা আসে। এসব পরিবহণে চড়ে আপনি বড়লেখা আসতে পারেন। যার টিকেট মুল্য ৫০০ টাকা। মহাখালী বাস স্টান্ড থেকে এসব গাড়ি ছেড়ে আসে।এছাড়াও ট্রেনে করে আপনি বড়লেখা আসতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে কুলাউড়া নামতে হবে সেখান থেকে সি এন জি বা কার ভাড়া করে বড়লেখা আসতে পারবেন।ঢাকা-কুলাউড়া ভাড়া হল ফাস্টক্লাস ৪২৫ টাকা, শোভন চেয়ারকোচ ৩৭৫ টাকা,শোবন ২৫০ টাকা।তারপর বড়লেখা এসে সি এন জি বা কার ভাড়া করে সারা উপজেলা ঘুরতে পারেন,সেক্ষেত্রে ভাড়া আলোচনা করে ঠিক করবেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত