শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

টাওয়ার হ্যামলেটসের ২৪ জন ড্রাগ ডিলারকে কারাদন্ড প্রদান
মেয়র জন বিগস এর সন্তোষ প্রকাশ

মেয়র জন বিগস এর সন্তোষ প্রকাশ



জেল দন্ড প্রাপ্ত টাওয়ার হ্যামলেটসের ২৪ জন ড্রাগ ডিলার।

নিজস্ব প্রতিবেদক::

দুই দফায় টাওয়ার হ্যামলেটসের ২৪ জন ড্রাগ ডিলারের জেল দন্ড হয়েছে। ১৭ আগষ্ট, শুক্রবার স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউনকোর্টে প্রথমে ১৬ জনকে মোট ৪৯ বছর এবং ২৩ আগষ্ট, বৃহস্পতিবার আরো ৮ জনকে মোট ২৪ বছর কারাদন্ড দেয়া হয়। একই ঘটনায় আগে আরো ৪ জনের শাস্তি ইতিপূর্বে ঘোষনা করা হয়েছিলো।

দীর্ঘ ৪ মাসের অপারেশন ষ্ক্রকনটিনিউআমম্ব শেষে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হয়। অপারেশন কনটিনিউআমম্ব নামের এই অভিযানটি পুলিশ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এবং স্থানীয় হাউজিং এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। ৩০০ জনেরও বেশী অফিসার এই অপারেশনে নিয়োজিত ছিলেন। অপারেশনে চলাকালে পুলিশ মোট ৫০টি ঠিকানায় তল্লাশী চালিয়ে ৬০ হাজার পাউন্ড ক্যাশ, বিপুল পরিমানের ক্লাস এ ড্রাগস এবং ৪টি শর্ট গান জব্দ করে।

 

পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে থেকে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে ড্রাগ ডিলিংয়ের অভিযোগে চার্জ আনে। এর মধ্যে ৩৫ জন আদালতে দোষ শিকার করেন। এছাড়া আরো ১০ জনকে একই অভিযোগে গ্রেফতার করে বেইলে মুক্তি দেয়া হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস ড্রাগ ডিলারদের শাস্তি এবং অপারেশনটি সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ড্রাগ এবং এসংক্রান্ত অসামাজিক কার্যকলাপ আমাদের বাসিন্দাদের কাছে একটি বিরাট উদ্বেগের বিষয়। এই উদ্বেগ দমনে পুলিশের সাথে আমাদের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মেয়র বলেন, এই শাস্তি ড্রাগ ডিলারদের উদ্দেশ্যে একটি শক্তিশালী ম্যাসেজ। যারাই এই কাজে নিয়েজিত থাকবেন তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। এছাড়া মেয়র ড্রাগ ডিলিংয়ের ভিকটিমদেরও সহযোগিতা চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মেয়র বলেন, আমাদের এখানে বেশকটি ভালো সার্ভিস রয়েছে এবং তারা যাতে সুস্থ জীবনে ফিরে আসেন এজন্য আমরা চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্চিছ। কেবিনেট মে“ার ফর কমিউনিটি সেইফটি কাউন্সিলার আসমা বেগম বলেন, ড্রাগ ডিলিং আমাদের কমিউনিটির একটি রোগ বিশেষ। এই রোগ দূর করতে কাউন্সিল এবং পুলিশ সর্বোচ্চচ প্রায়োরিটি দিয়ে আসছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের ক্রাইম, গ্যাং এন্ড ড্রাগ বিষয়ক কর্মকর্তা ডিটেক্টটিভ চীফ ইন্সপেক্টর মাইক হ্যামার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাস্তা থেকে এসব ড্রাগ ডিলারদের উচ্চেছদের ঘটনা টাওয়ার হ্যামলেটস তথা লন্ডনের জন্য একটি সুসংবাদ। শাস্তি প্রাপ্তরা কোকেইন, হিরোইন সরবরাহে জড়িত ছিলো। আশা করছি তাদের গ্রেফতার এবং শাস্তির কারনে এই সাপ্লাই কাজ বন্ধ হবে তথা সমাজে এর একটি দীর্ঘ মেয়াদী ইতিবাচক ফল আসবে। তিনি বলেন, আমরা এখানেই থেমে যাইনি। আমাদের অপারেশন অব্যাহত আছে। আমরা বাসিন্দাদের আরো সুখবর দিতে পারবো বলে আশাবাদী।

১৭ আগষ্ট শুক্রবার স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউনকোর্টে যে ১৬ জন ড্রাগ ডিলারের জেল হয়েছে তারা হলেন, হাবিবুর রহমান (২২) সোয়াটন রোড, রাজা মিয়া (২৩) ট্রাফালগার গার্ডেন, জামিল হোসাইন (২৪) শ্যাডওয়েল গার্ডেন, ওলিউর রহমান (২৩) চ্যাপম্যান স্ট্রীট, রাকিব উদ্দিন (১৯) টার্লিং স্ট্রীট, সোলায়মান রাবিধ্ব (১৮) হোবার টাওয়ার, আবু তাহের সিদ্দিকী (২৪) গ্লাসওয়ার্থ এভিনিউ, রুহেল আহমদ (৩১) কমোডর স্ট্রীট, ইমতিয়াজ ইসলাম (২১) বেকেলস স্ট্রীট, মোহাম্মদ আহমদ (২৫) ব্যাকন স্ট্রীট, রাশিক উদ্দিন (২৬) হ্যাজেলডেন রোড, ইলফোর্ড, এনামুর রহমান (২২) অরডেল রোড, মোহাম্মদ মহিবুর রহমান (২২) সেন্টপলস ওয়ে, আমমেদুর রহমান (২১) কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই, আব্দুল আজিজ (৩৯) মিয়া টেরেস এবং আকবর হোসাইন (২৪) হ্যালী স্ট্রিট। ২৩ আগষ্ট শাস্তি হওয়া ৮ জন হলেন, সামাদ উদ্দিন (২৮) চিকস্যান্ড স্ট্রীট, নউফেল ই- গাবোজ (২১) কমার্শিয়াল রোড, নুর হোসাইন (২১) মার্টিনিউ স্কয়ার, শ্যান বেইটস (২১) কর্নওয়াল স্ট্রীট, ইসমাঈল কিয়ানী (২০) ক্যাম্পবেল রোড, মোহাম্মদ মোততাকীর রহমান (২০) জিউফ কেইড ওয়ে, তাহমিদ হোসাইন (২১) দ্যা কোয়ার্টার ডেক, মোহাম্মদ মহসিন (৪২) ওরিয়ন হাউস। এদের সবাই আদালতে দোষ শিকার করেছিলেন। আদালতে দোষ শিকার করে নেওয়া আরো ৫ জনের শাস্তি আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত