শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চাঁদনীঘাট-রাজনগর সিএনজি শ্রমিকদের দন্ধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ



মৌলভীবাজার চাঁদনীঘাট সিএনজি ষ্ট্যান্ড শূন্য।

মুবিন খান::
গ্রুপিং দন্ধে মৌলভীবাজার চাঁদনীঘাট সিএনজি ষ্ট্যান্ড ও রাজনগর সিএনজি ষ্ট্যান্ড শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী।

 

রাজনগর সিএনজি চালকদের কাছ থেকে জানাযায়, চাঁদনীঘাট সিএনজি স্ট্যান্ডের চালকরা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অন্যায়ভাবে তাদের উপর যেকোনো সময় মৌলভীবাজারে আসলে হামলা করে। এপর্যন্ত তাদের ৯জন শ্রমিককে মৌলভীবাজার তারা পিঠিয়ে আহত করছে। চিকিৎসাধীন হাসপাতালে আছে ৩জন। অন্যায়ভাবে এরকম হামলার জন্য তারা রাজনগরের কোনো সিএনজি মৌলভীবাজার যেতে দিচ্ছেনা।

 

সরেজমিন সোমবার চাঁদনীঘাট সিএনজি ষ্ট্যান্ড ফাঁকা থাকতে দেখা যায়। যাত্রীদের ভীড় থাকলেও সিএনজি নেই ষ্ট্যান্ডে। তবে সেখানে সিএনজি শ্রমিকরা লাঠিসোঠা নিয়ে বসে আছেন। মাঝেমধ্যে অন্য গাড়ি যাত্রী তোলার চ্রেষ্টা করলে তাড়িয়ে দিচ্ছেন তাদেরকে। লাঠি নিয়ে এরকম বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে চাঁদনীঘাট সিএনজি শ্রমিক পরিচালনা গ্রুপ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ আহমদ বলেন, রাজনগর সিএনজি ষ্ট্যান্ডের সভাপতি জামাল মিয়া তার শ্রমিক নিয়ে চাঁদনীঘাট ষ্ট্যান্ড দখল করতে মৌলভীবাজার আসছেন। এজন্য তারা এগুলো মোকাবেলা করার জন্য এখানে অবস্থান নিয়েছেন।

 

সম্প্রতি রাজনগর সিএনজি ষ্ট্যান্ডের সভাপতি জামাল মিয়া বলেন, চাঁদনীঘাট সিএনজি ষ্ট্যান্ড দখল করার প্রশ্নই আসেনা। এটা সরকারী জায়গা। এখানে শুধু সিএনজি থামিয়ে যাত্রি উঠানামা করানো হয়। রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজার, মুন্সিবাজার ও রাজনগর ষ্ট্যান্ডের গাড়ি এখানে য়াওয়াআসা করে। আর সামান্য কোনো ঝামেলা হলে তা সমাধানের পথে না গিয়ে সরাসরি মারধর করে তারা। তবে অন্যায়ভাবে মারধর করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন জেলার শ্রমিক এখন দুই গ্রুপে বিভক্ত। চাঁদনীঘাট সিএনজি ষ্ট্যান্ডের শ্রমিকরা মৌলভীবাজার জেলা অটোরিক্সা-অটোটেম্পু, মিশুক, সিএনজি সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: চট্র: ২৩৫৯) এর লোক। আর আমরা মৌলভীবাজার জেলা অটোরিক্সা-অটোটেম্পু ফেডারেশন (সিএনজি) রেজি: বি-১৯৯৮ এর লোক। এই দুই গ্রুপিং দন্ধের কারণে তারা প্রায় সময় আমাদের শ্রমিকদের গায়ে সামান্য কারণে হাত তুলে। এজন্য আমরা আজ ৪ দিন ধরে মৌলভীবাজারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছি।

 

সাধারণ যাত্রীরা বলছেন ঈদের দুইদিন পর থেকেই তাদের ঝামেলা চলছে। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যেতে পারছিনা। রাজনগরের কোনো গাড়ি মৌলভীবাজার যাচ্ছেনা এবং মৌলভীবাজারের কোনো গাড়ি রাজনগরে আসছে না। তাছাড়া কাল থেকে স্কুল কলেজ খুলে যাবে। বাচ্চারা কিভাবে য়াওয়া আসা করবে।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, রাস্তার মধ্যে যেখানে, সেখানে গাড়ি দাড় করিয়ে যাত্রী নেওয়া এবং ষ্ট্যান্ডে রেজাভ গাড়ি নিতে আসা যাত্রীদের কাছে থেকে গাড়ি চালকরা কার আগে কে ম্যানেজ করবে এটাই দু’পক্ষের দন্ধের একমাত্র কারন। তবে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে অতি শীঘ্রই শ্রমিকদের দন্ধ নিরসন করা কাম্য। শ্রমিকদের উত্তেজনা দিনদিন বাড়তেই চলছে, এ যেন নিরসন করতে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা অটোরিক্সা-অটোটেম্পু, মিশুক, সিএনজি সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: চট্র: ২৩৫৯) এর সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ বলেন, দু’সংগঠন নিয়ে এখানে কোনো ঝামেলা নেই। সাধারণ শ্রমিকদের সামান্য ঝামেলার কারণে রাজনগরের শ্রমিকরা মৌলভীবাজার আসছে না। আমি আজ রাজনগর গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চ্রেষ্টা করবো।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত