সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

উদ্বোধন হচ্ছে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন পুনর্বাসন কাজ , প্রকল্প ব্যয় ৬৭৮ কোটি টাকা
উদ্বোধন করছেন দু-দেশের প্রধানমন্ত্রী

উদ্বোধন করছেন দু-দেশের প্রধানমন্ত্রী



নাজমুল ইসলাম, কুলাউড়া প্রতিনিধি::

কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখাবাসীর দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হচ্ছে আগামীকাল। প্রায় ১৫ বছর ধরে বন্ধ থাকা কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন পুনর্বাসন কাজের উদ্ভোধন হচ্ছে। এ তিন উপজেলাসহ বিয়ানীবাজার উপজেলাবাসীও রেললাইন চালু হলে সুবিধার আওতায় আসবেন। সব মিলিয়ে ৪ উপজেলায় আনন্দের বন্যা বইছে।

১০ সেপ্টেম্বও সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগকৃত এ রেললাইন পুনর্বাসন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন উপলক্ষে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন সংলগ্নে ফলক নির্মাণ এবং ভিডিও কনফারেন্সের জন্য বিশাল মঞ্চ প্রস্তুুত করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে রেললাইন পুনর্বাসনের কাজ ও কুলাউড়া জংশন স্টেশন প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী মঞ্চ পরিদর্শন করে গেছেন রেলমন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, রেল পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম খন্দকার ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ তোফায়েল ইসলাম।

উদ্ভোধনকালে জাতীয় সংসদের হুইপ, বড়লেখা-জুড়ী আসনের এমপি আলহাজ্ব মো. শাহাব উদ্দিন, কুলাউড়ার এমপি আব্দুল মতিন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলামসহ রেলওয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন।
রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ই আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলের পুরাতন ব্রিজ ও স্টেশন ঘর ভাঙ্গা এবং রেল লাইন (স্টেক) উঠানোর কাজ শুরু করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতের বৃহৎ কোম্পানী কালিন্দি রেল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। বড়লেখা উপজেলার সীমান্ত এলাকা কুমারশাইল থেকে এ কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতেই বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর ও দক্ষিণভাগ এলাকায় দুটি ইয়ার্ড তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। অবশেষে পরিত্যক্ত রেললাইনের নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে উৎসব-উৎকণ্ঠার আমেজ।

জানা যায়, তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৫ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অংশ হিসেবে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন চালু হয়েছিল। বড়লেখা উপজেলার লাতু সীমান্তের শাহবাজপুর দিয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন এসে গাড়ির ইঞ্জিন শালটিং করে সিলেট স্টেশনে পৌছাতো এ ট্রেনটি।

কুলাউড়া-শাহবাজপুর লাইনে চলাচলকারী ট্রেনটি এলাকাবাসীর কাছে ‘লাতুর ট্রেন’ নামে পরিচিত ছিল। সেই সময় দু’দেশের যাত্রী পরিবহন ছাড়াও মালামাল বহনে এই রেল লাইনটি ছিলো সবচেয়ে সুবিধা জনক। কিন্তুু সরকারের আর্থিক ক্ষতি সাধন এবং চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় তা সংস্কার না করেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ২০০২ সালের ৭ জুলাই লাইনটি বন্ধ করে দেয়। এরপর লাইনটি চালু করার জন্য নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে মহাজোটের প্রার্থী মো. শাহাব উদ্দিন (বর্তমানে জাতীয় সংসদের হুইপ) অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল বিজয়ী হলে কুলাউড়া-শাহবাজপুর ট্রেনলাইন চালু করবেন। পরে তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করলে লাইনটি চালুর জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালান। একাধিকবার সংসদে দাবি উত্থাপন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড়লেখা সফরকালে বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তার বক্তব্যে রেললাইন চালুর ঘোষণা দেন। পরে ২০১৫ সালের ২৬ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৬৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদন হয়।

এরমধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিবে ১২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং ভারত সরকার ৫৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ৪৪ দশমিক ৭৭ কিলোমিটারের পুরোটাই ডুয়েল গেজ লাইন নির্মাণ করা হবে। এরমধ্যে সাত দশমিক ৭৭ কিলোমিটার লুপ লাইনের কাজ হবে। ওই বছরের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি বাংলাদেশ সফরে আসলে পরদিন ৭ জুন ঢাকায় দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন প্রকল্পেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

কালিন্দি রেল নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ জরিপকারক (সার্ভেয়ার) রিপন শেখ জানান, ১৬ আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ পরিদর্শন করে গেছেন। ১০ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলের পুরাতন ব্রিজ ও রেল লাইন উঠানোর কাজ শুরু করেছেন। এর আগে জানুয়ারি থেকে রেলের উপর জন্মানো ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার করা হয়। ইতিমধ্যে কাজের যন্ত্রপাতি পৌঁছে গেছে। দক্ষিণভাগ ও শাহবাজপুর এলাকায় মালামাল রাখা হয়েছে। এখন থেকে কাজ চলমান থাকবে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের কুলাউড়া সেকশনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) মোঃ জুয়েল হোসেন কাজ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘এতদিন কাজ দৃশ্যমান ছিল না। আগামীকাল সোমবার দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করার পর পুরোদমে দৃশ্যমান হবে এ কাজ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত