বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়া পৌরসভার সড়কগুলো বেহাল দশা! জনদুর্ভোগ চরমে
দেখার যেন কেউ নেই

দেখার যেন কেউ নেই



নাজমুল ইসলাম,কুলাউড়া::
কুলাউড়া পৌরসভার শহরজুড়ে বেহাল সড়কে দুর্ভোগ,যন্ত্রণা, আর বিড়ম্বনা শেষ নেই। এসব দেখার যেন কেউ নেই। বিশাল গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীসাধারণসহ পৌরবাসী। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে তৈরী করছে নানা প্রতিবন্ধকতার। বিঘœতার সৃষ্টি করছে যান চলাচলে। বেশিরভাগ সড়কই এখন চলাচলের অযোগ্য। শহরের মূল সড়ক থেকে শুরু করে সর্বত্রই একই হাল। সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সময় বাড়িয়েছে যাতায়াতের। এতে করে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কগুলো দিয়ে চলাচলকারী গাড়ীচালক, যাত্রী, রোগী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পাশাপাশি পথচারীদেরও প্রতিনিয়ত পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
সরজমিন পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে,রাবেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্মুখ থেকে শুরু করে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সম্মুখ পর্যন্ত রাস্তার দীর্ঘদিন যাবৎ পিচঢালা উঠে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্তের। সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। জনদূর্ভোগের কোন অন্ত নেই। ফলে, জনগুরুত্ব এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীসাধারণ থেকে শুরু করে রোগী, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা। কিন্তু এ সড়ক দিয়ে এমপিসহ ভি,ভি,আই,পি এবং প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের ও স্থানীয় কর্মকর্তারা চলাচল করেন। কিন্ত রাস্তার উন্নয়নে ও ভাঙ্গা-চোড়া মেরামতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ,এলজিইডি বিভাগ,পৌরসভা,উপজেলা পরিষদ,জেলা পরিষদ কেহ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসছে না।
শহরের মূল সড়ক বিছরাকান্দি মসজিদ সম্মুখ থেকে শুরু হয়ে চাতলগাও গ্যাস অফিস পর্যন্ত দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অধিকাংশ জায়গায় কার্পেটিং উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বড় বড় গর্ত দেখলে মনেই হবে না এগুলো সঠিকভাবে নির্মাণ বা মেরামত করা হয়েছিল।
সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই সড়কে যান চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়েই জনসাধারণ ও যানবাহনগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শহরে যানজট লেগেই থাকছে। ভাঙাচোরা সড়কে চলতে গিয়ে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। চলতে গিয়ে বাস,মিনিবাস,প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহন বিকল হওয়াসহ নানাবিধ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। ভুক্তভোগিদের প্রশ্ন-কবে মিলবে এ যন্ত্রণা থেকে রেহাই?
এছাড়া, পৌরশহরের,সোনাপুর,জয়পাশা, স্টেশন রোড়, থানা রোর্ড (ভাংঙ্গারীপটি),দতরমুড়ি.চাতলগাও,স্কুলচৌমুহনী,উত্তর মাগুরা,মধ্যমাগুরা,সানরাইজ কেজি সম্মুখ,কৌট মসজিদের পিছনের,কর্ণেল সাজ্জাদ,বিএইচ সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয় সম্মুখ থেকে শুরু করে মধ্য মাগুরা কালভার্টসহ শহরের অলি-গলি,সড়ক,সংযোগ রাস্তাগুলোও ভেঙ্গে একাকার হয়ে আছে বহুদিন ধরে। ওই এলাকারগুলোর বাসিন্দাদের চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শহরের সীবার্ড স্কুলের সম্মুখ থেকে শুরু হয়ে মহিলা কলেজ পর্যন্ত। সাদেকপুর সড়ক দারুছুন্নাহ ক্যাডেট মাদরাসার সম্মূখ হয়ে বিহালা মসজিদ পর্যন্ত সড়কের। একই হাল। এই সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। দীর্ঘদিন পানির নিচে তলিয়ে থাকায় রাস্তা দুটি খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ছোট বড় সব ধরনের যানবাহনসহ শিক্ষার্থী, ও পথচারীদের চলাচল। রাস্তা দুটি বন্যার সময় পানির নীছে তলিয়ে যায় এতে করে ওই এলাকার স্কুল, কলেজ,মাদরাসার শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী পৌর কতৃপক্ষ রাস্তাটি দুই হাত উচু করে তাহলে এই সমস্যা থেকে লাগব হবে।
উত্তর বাজারের ব্যবসায়ী ফারুক আহমদ,জুয়েল মিয়া,কামাল আহমদ,মিলিপ্লাজার ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ৭ নং সম্পাদক জায়েদ আহমদ,সদস্য সুলতান আহম,ব্যবসায়ী আবু তাহের মামুন,নাসির জামান জাকি জানান, পৌর শহরের সড়কগুলোর বেহাল দশার ফলে, বিশেষ শহরের মার্কেটগুলোর প্রবেশমুখের অংশে বিশাল বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ায় দোখানে এখন আর তেমন একটা ক্রেতা সমাগম হয় না। যার ফলে, ব্যবসাবাণিজ্যও আগের মত জমে না।
এ সড়কের অটোচালক আবেদ,সালাম মিয়া,ফয়ছল আহমদ বলেন, শহরে যাত্রী নিয়ে যেতে রীতিমত ভয় হয়। ভাঙ্গাচোরা ও বিশাল গর্তে পড়ে ঝাকুনীর ফলে গাড়ীর যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি ক্ষতি হয় যাত্রিসহ নিজের শরীরেরও। কুলাউড়ায় এতো নেতা জনপ্রতিনিধি থাকতে এসব যেন কেউ দেখার নেই। একই কথা বললেন এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী রাজু আহমদ,আনোয়ার হোসেন, খোরশেদ মিয়াসহ কয়েকজন যাত্রীও।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সড়কগুলো সংস্কার করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত