শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অপূর্ব শর্মাকে সম্মাননা প্রদান

‘সমাজে গুণীদের সংখ্যা বাড়লে এগিয়ে যায় দেশ’




চৌধুরী ভাস্কর হোম::
চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে বর্নাঢ্য আয়োজনে সাংবাদিক গবেষক অপূর্ব শর্মাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা ও সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় রজত শুভ্র চক্রবর্তীকেও সন্মাননা জানানো হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের শুরুটা ছিলো নান্দনিকতায় ভরপুর। স্থানীয় শিল্পীদের নৃত্যছন্দ সূচনাতেই মহসিন অডিটরিয়ামে ছড়ায় মুদ্ধতার আবেশ। আয়োজক সংগঠন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের থিমসংয়ের সাথে শিল্পীদের নৃত্যসহযোগ এক ভিন্নমাত্রা যুক্ত করে অনুষ্ঠানে। সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জগুলো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে নৃত্যছন্দে। এরপরই শুরু হয় সন্মাননা প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রফেসর নৃপেন্দ্রলাল দাশের সভাপতিত্বে এবং প্রেসক্লাব সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় শুরুতেই অপূর্ব শর্মাকে নিবেদিত সংশপত্র পাঠ করেন উপস্থাপক। পাঠ করা হয় রজত শুভ্রের জীবনী। এরপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম দুই গুণীর হাতে তুলে দেন সম্মাননা স্মারক।
সম্মাননা পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে অপূর্ব শর্মা তাঁর সাংবাদিকতা শুরুর গল্প শোনান। কন্টকাকীর্ন পথ পারি দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গল্প শোনাতে শোনাতে বলেন, সৎ থাকলে, অন্যায়ের সাথে আপোষ না করলে সহজেই পারি দেওয়া যায় বন্ধুর পথ। এ সময় তিনি জীবন চলার পথের দু’একটি চমকপ্রদ ঘটনা তুলে ধরে বলেন, অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করিনি। অন্যায়ের সাথে আপোষ করে আর যাই হউক সাংবাদিকতা হয়না। তিনি এই সম্মাননাপ্রাপ্তিকে তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পাওয়া বলে অভিহিত করে বলেন, এই শহর থেকেই সাংবাদিকতা শুরু করেছিলাম। আজ এই শহরের সহকর্র্মীরা আমাকে সম্মানিত করলেন। অন্য কোনও কিছুর সাথেই এর তুলনা হয়না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের জাতীর দর্পন বলা হয়। সেই দর্পন যদি স্বচ্ছ না থাকে, পরিস্কার না থাকে তাহলে প্রতিচ্ছবি ভালো দেখা যায় না। তাই আয়নাটিকে সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তাহলে দর্পনে সঠিক চিত্র দেখা যাবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের শুধু নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করলে চলবে না। দেশের জন্য, সমাজের জন্য নিবেদিতপ্রাণ রুল মডেলদের নিয়েও লিখতে হবে। তাহলে অন্যরা ভালো কাজে উৎসাহিত হবে। ভালো মানুষের সংখ্যা বাড়বে সমাজে। আর সমাজে যখন গুণীদের সংখ্যা বাড়বে তখন এগিয়ে যাবে দেশ। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাব কর্তৃক কৃতি সাংবাদিক সম্মাননার ভূয়সি প্রশংসা করে বলেন, আপনারা আজ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সেটা কালের ক্যানভাসে অমলীন হয়ে থাকবে চিরকাল।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম.এ রহিম, মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন ছমরু, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার জেলা মো. শাহজালাল (বিপি), সাবেক সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হরিপদ রায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রেমসাগর হাজরা, প্রবীণ সাংবাদিক অধ্যাপক নেছার আহমেদ, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ সদস্য মশিউর রহমান রিপন প্রমুখ। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো, মৌলভীবাজার জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. বিনেন্দু ভৌমিক, মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজিৎ রায়, শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আনিসুল ইসলাম আশরাফী, ইনার হুইল ক্লাব অব শ্রীমঙ্গলের সভাপতি দিলআফরোজ বেগম, শ্রীমঙ্গল কিন্ডারগার্ডেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী আসমা, এম আর খান বাগানের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, নাগরদোলা থিয়েটারের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম রাজু, ফারিয়ার সভাপতি দেবব্রত দত্ত হাবুল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শহরের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সুধী সমাবেশ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট আজাদুর রহমান আজাদ এতে সভাপতিত্ব করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যাঙ্গন ও নৃত্যালয়। বর্ণমালা সঙ্গীত বিদ্যালয় ও শ্রীমঙ্গল কিশোরী ক্লাব পরিবেশেন করে সংগীত।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত