বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর পথযাত্রী শিশু বাবলী বাচঁতে চায়, দিন দিন ফুলে যাচ্ছে পা



তোফায়েল পাপ্পু:: বাঁচতে চায় বাবলী, দিন দিন ফুলে যাচ্ছে বাবলীর পা। মায়ের পেটে থাকতেই বাবা নিখোঁজ। জন্মের পর বাবাকে দেখেনি সে। এখন দুরারোগ্য ব্যাধিতে মৃত্যু পথযাত্রী ফুটফুটে এই শিশুটি। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছতিয়া গ্রামের খাতুন বেগমের মেয়ে বাবলী আক্তার।
সাত বছর বয়সী শিশু বাবলী আক্তার এখন মৃত্যুর পথযাত্রী। জন্মের পর বাবাকে দেখেনি সে। এমন দুরারোগ্যে ভোগছে এই শিশুটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নড়তেও পারে না। পায়খানা প্রস্রাবসহ প্রতিটা কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার মা খাতুন বেগম।

বাবলী আক্তার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছতিয়া গ্রামের সরফ মিয়ার মেয়ে। পরিবারে অভাবের কারণে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে তার। এতে দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে শিশুটির।

চার ভাই বোনের মধ্যে বাবলী আক্তার সবার ছোট। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বড় ভাই জসিম মিয়া। তিনি দিন মজুরের কাজ করেন । আগে মা খাতুন বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে কিছু উপার্জন করতেন কিন্তু বর্তমানে বাবলির দেখাশুনা করার জন্য বাড়ির বাইরে যেতে পারেন না তিনি। অভাবের কারণে বাবলীর বড় বোন লাভলী বেগমের লেখাপড়া বন্ধ। সবার বড় লাকী বেগম ঢাকায় গার্মেন্টেসে কাজ করে সেখান থেকে পরিবারে টাকা পাঠাতেন। কিন্তু তার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সেটাও এখন বন্ধ।

বাবলী আক্তারের মা খাতুন বেগম জানান, অর্থের অভাবে মেয়ের উন্নত চিকিৎসা করতে পাছেন না। এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান তিনি। ডাক্তার চিকিৎসা দিয়ে তাকে সিলেট নিয়ে যেতে বলেন । তিনি আবারও মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে বাবলীকে ভর্তি করেন। সেখানে এক মাস চিকিৎসা করানোর পর দেখতে পান দিন দিন বাবলীর পা ফুলছে। হাসপাতালে তার সব ধরনের টেস্ট করানো হয় । টেস্টের রেজাল্ট পেয়ে অবশেষে ওসমানী হাসপাতালের ডাক্তাররা বাবলীকে ভারতের মাদ্রাজ নিয়ে যেতে বলেন।

অর্থের জোগানের কোন উপায় পাচ্ছেন না বিধায় তিনি মেয়েকে নিয়ে ভারতের মাদ্রাজ যেতে পারছেন না। এভাবেই বাড়িতে পড়ে আছে বাবলী। মাঝে মাঝে কবিরাজি চিকিৎসা করালেও কিন্তু কবিরাজের টাকা যোগাড় করতে না পারায় সেটাও নিয়মিত হয় না। এই অবস্থায় বাবলীর চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি জানান তিনি।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান জানান, এটি ফাইলেরিয়ার কম্লিকেশন এলিফেন্থিয়াসিস (গোদ রোগ) অথবা টিউমার জাতীয় গ্রোথ হতে পারে। মেয়েটিকে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল অথবা পিজি হাসপাতালে পাঠানে যেতে পারে।

শিশু বাবলী আক্তারকে সাহায্য করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন- ০১৭৯৯৫৮৯২১৪ এই নম্বরে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত