বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজার জেলার ৯৯৬টি মন্ডপে হবে দুর্গাপূজা, চার স্থরের নিরাপত্তা



নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে মৌলভীবাজার জেলায়। সাতটি উপজেলায়ই সরগম ভাবে মন্দিরে চলছে সাজসজ্জা, ধোয়া-মোছা, তোরণ ও প্যান্ডেল নির্মাণ। এরই মধ্যে পূজাম-প গুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং-তুলির কাজ।
মৌলভীবাজার জেলায় এবার ৯৯৬টি ম-পে শারদীয় দুর্গা পূজার আয়োজন চলছে। এরমধ্যে সর্বজনীন ৮৪২টি এবং ১৫৪টি ম-পে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্গাপূজা হবে। এর মধ্যে রাজনগরে সার্বজনীন ৭৬টি মন্ডপ আর ব্যক্তিগত ৫৪টি। বড়লেখায় সার্বজনীন ১৩৩টি আর ব্যক্তিগত ১৮টি। কুলাউড়ায় সার্বজনীন ১৯৪টি আর ব্যক্তিগত ২৩টি। জুড়ীতে সার্বজনীন ৬৫টি আর ব্যক্তিগত ৩টি। মৌলভীবাজার সদরে সার্বজনীন ৮৪টি আর ব্যক্তিগত ২৩টি। শ্রীমঙ্গলে সার্বজনীন ১৫৪টি আর ব্যক্তিগত ১৩টি। কমলগঞ্জে সার্বজনীন ১৩৬টি আর ব্যক্তিগত ২০টি পূজামন্ডপ।
তবে এর মধ্যে রাজনগরে উপমহাদেশের একমাত্র লাল দুর্গা দেবীর পূজা হবে। রক্ত বর্ণা দুর্গাকে দেখার জন্য এখানে দেশি-বিদেশি ভক্তের আগমন ঘটে। এছাড়াও শ্রীমঙ্গলের দুটি মন্ডপে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে জেলার সবচেয়ে বড় পূজামন্ডপ ত্রিনয়নী শিববাড়ীতে ভিন্ন মাত্রা রয়েছে। শিব লিঙ্গের আদলে শিব-বিগ্রহ বিশাল প্যান্ডেল আর ২৫ ফুট উচ্চতার নীল বর্ণের শত নয়না দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন তারা। কুলাউড়া উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী কাদিপুর দূর্গাবাড়ীতে মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা পূজা দেখতে এসব জায়গায় ছুটে আসেন। উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ রায় মুন্না বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর দেবী পৃথিবীতে আসছেন ঘোড়ায় চড়ে আর ফিরে যাবেন পালকিতে চড়ে।” তবে লোকশ্রুতি আছে, “ঘোড়া দ্রুততার প্রতীক। অশ্ব শক্তি। দেবী ঘোড়ায় চড়ে আসলে প্রকৃতি রুদ্র রুপ ধারণ করে। ঘুর্ণিঝড়, প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়। পালকিতে চড়ে কৈলাস গমরে রোগব্যাধি, জরা, মৃত্যু নেমে আসবে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল জানান, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে চার স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মন্ডপগুলোতে আনসার সদস্যদের বাইরেও পুলিশ, ডিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ডপের আশপাশে র‌্যাবের সার্বক্ষণিক টহল থাকবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত