বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বেদখল হচ্ছে লাউয়াছড়ার সংরক্ষিত বনভূমি



লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ
বেদখল হয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল লাউয়াছড়ার বনভূমি। দিন দিন বনের জমি দখল হয়ে পড়ায় আবার সঙ্কটে পড়েছে বন্যপ্রাণী। প্রতিকুল পরিবশেষ এবং খাদ্যর অণে¦ষনে প্রায়ই বন্যপ্রাণী লোকালয়ে বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় মারাও যাচ্ছে এসব বণ্যপ্রাণী।

সবর্শেষ গেল বুধবার লাউয়াছড়ার ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যায় একটি মায়া হরিণ। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ভানুগাছের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১২৫০ হেক্টর আয়তন নিয়ে ১৯৯৬ সনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর বনের জমি বেদখল হওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রভাবশালীরা বনের জমি দখল করে ব্যক্তি মালিকানায় লেবু, আনারসসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করা হচ্ছে। প্রতি বছর দখলের পরিসর সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে বন্যপ্রাণির আবাসস্থল সংকট ও উদ্যানের পরিসর ক্রমাম্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

গত কয়েকদিন উদ্যানের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ডরমিটরি উঁচু পাহাড় সংলগ্ন পূর্ব এলাকায় প্রায় ১৫ একর ভূমি দখল করে গত ৩-৪ বছর ধরে লেবু বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এর পশ্চিম পার্শ্বে হীড বাংলাদেশ অফিস সংলগ্ন জাতীয় উদ্যানের আরও একটি টিলার প্রায় ১৫ একর ভূমি দখলে নিয়ে লেবু বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। লেবু বাগান ঘেষা টিলা সমূহে গাছগাছালি ও লতাগুল্ম কেটে টিলা নতুন করে বাণিজ্যিকভাবে আবাদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব টিলায় দীর্ঘদিন ধরে টিনসেড ঘর করে লোকজন বসানো হয়েছে দখলকৃত টিলা দেখভালের জন্য।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এসব টিলাভূমি দখলে নিলেও বনভিবাগ বিভাগ নিষ্ক্রিয় একবারেই। ফলে উদ্যানে বসবাসরত বন্যাপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে। জীববৈচিত্র হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে এবং পরিবেশের উপর পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব ।

স্থানীয়রা জানান, যারা এসব ভূমি দখল করছে তারা এলাকার প্রভাবশালী। বনভূমি দখল করে অবৈধভাবে লেবু, আনারস, কলা বাগান গড়ে তুলেছে। এদের কেউ কেউ ইতিপূর্বে জাতীয় উদ্যান সহব্যবস্থাপনা কমিটির সাথেও সম্পৃক্ত ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মো.আনিসুর রহমান জানান, গত ৫ ডিসেম্বর ডরমিটরি এলাকা সংলগ্ন দখলকৃত এলাকা উচ্ছেদ করে আমাদের আওতায় নিয়ে আসছি। তবে হীড বাংলাদেশ সংলগ্ন অফিসের পার্শ্ববর্তী টিলা দখলে নিয়ে টিনসেড ঘরে লোকজনের বসবাস বিষয়ে জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আর এতে কোন অসঙ্গতি পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত