শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস পালন করতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আহ্বান



স্টাফ রিপোর্টারঃ
স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদ দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাতিল করে আলপনাসহ বাঙালী ঐতিহ্যের অনেক কিছুকে ইসলামবিরোধী বলে ঘোষণা করে। শিক্ষা সংকোচন ও সাম্প্রদায়িকীকরণসহ জনস্বার্থ এবং শিক্ষাবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে থাকে।

স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রথম থেকে আন্দোলন শুরু হলেও সামরিক আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে ১৯৮৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশাল মিছিল বের হয়।
ছাত্রদের দাবি ছিল- “ছাত্র-স্বার্থবিরোধী শিক্ষা সংকোচনের মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিল, সামরিক শাসন প্রত্যাহার, সাম্প্রদায়িক শিক্ষা বাতিল করে সেক্যুলার শিক্ষা চালু করা”

১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশাল ছাত্র সমাবেশ ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায়। বটতলা থেকে শিক্ষা ভবন অভিমুখে মিছিলে পুলিশের গুলি এবং টিয়ার সেলে নিহত হয় জাফর, জয়নাল, দিপালী সাহা। আহত হয় শত শত ছাত্র-জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন ও বিভিন্ন হলে পুলিশ নিষ্ঠুর হামলা করে। গ্রেফতার করে হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে জারি করে কারফিউ।

১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে হরতাল পালন করা হয়। এদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন জগন্নাথ কলেজ (জবি) ছাত্র মোহাম্মদ আইয়ুব, মোজাম্মেল হোসেন কাঞ্চন।

এর পর থেকেই প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে আসছে ‘স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে।
শিক্ষার দাবিতে জাফর, জয়নাল, দিপালী সাহা, মোহাম্মদ আইয়ুব, মোজাম্মেল হোসেন কাঞ্চন এর রক্তের স্রোতধারার মধ্য দিয়ে অর্জিত এ ঐতিহাসিক দিবস আমরা ভুলতে পারি না। জাফর, জয়নাল, দিপালী সাহা, মোহাম্মদ আইয়ুব, মোজাম্মেল হোসেন কাঞ্চন এর শহীদী আত্মত্যাগ শিক্ষা আন্দোলনে আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত