বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

প্রাইভেট টিউশন-কোচিং অন্যায় কিছু না, ইহা এক্সটা সাপোর্ট



নজরুল ইসলামঃ

ছাত্ররা প্রাইভেট, টিউশন, কোচিং করতে পারবেনা এমন যৌক্তিকতায় আমি একমত পোষণ করতে পারছিনা। তবে দেশে কোচিংয়ের নামে সৃষ্ট যে বাণিজ্য তৈরী হয়েছে তা বন্ধ করে বিযয়টিকে একটি কঠোর নীতিমালায় নিয়ে আসতে পারাটাই হবে যৌক্তিক।

সরকার যে সিদ্ধান্ত-ই নিবে তাতেই ইয়েস বলার মজ্জাগত স্বভাব পরিবর্তন করতে হবে। কোচিং পাইভেট টিউশনকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা সরকার ও যথাযত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কোচিং টিউশনের নামে বংলাদেশে হাটে মাঠে পাড়ায় মহল্লায় যে বাণিজ্য হচ্ছে তা বন্ধ করা উচিৎ। কোচিং প্রাইভেট টিউশনকে একটি নীতিমালায় নিয়ে আসা হউক। আইন ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হোক যা দেশের উদ্বিগ্ন অভিভাবক ছাত্রসমাজ সচেতন মহল মনে প্রাণে চায়।

তবে, কোচিং পাইভেট টিউশন অন্যায় কিছু না- it’s a এক্সটা সাপোর্ট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইহা পরিচিত। না বুঝে মুখস্থ বিদ্যা অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনও বিদ্যমান। বাংলাদেশে শিক্ষা আহরণে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তাতে প্রাইভেট টিউশন সহায়ক। দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার একটা আমুল পরিবর্তন প্রয়োজন।

প্রিয় পাঠক, কোনো বিশেয সমস্যার সমাধান ও এর যৌক্তিক সুরাহা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করতে হলে বিযয়টি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা চাই। দেশে প্রাইভেট টিউশন কোচিং জঞ্জালকে যারা প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করছেন তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা হতে পারে সহায়ক ও একটি যোক্তিক সমাধানের। পাঠক, আলোচ্য বিষয়বস্তু আজ প্রাইভেট টিউশন কোচিং বন্ধ করনের যৌক্তিকতা, সরকারের গৃহিত পরিকল্পনা ও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাইভেট টিউশন কোচিং বাণিজ্যের দখলদারিত্ব প্রাসঙ্গিক।

সমস্যা কি, তা যদি আমরা চিহ্নিত করতে না পারি তাহলে এর থেকে উত্তরণ হবে দুরূহ। আলোচনার স্বার্থে প্রথমেই জেনে নেই সমস্যা বলতে আমরা কি বুঝি? বাড়িতে কাজকর্মে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, সামাজ সেবায়, কমিনিটি রাজনীতি এমনকি বিশুদ্ধ জ্ঞান আহোরণে আমরা প্রতিদিনই কিছু না কিছু সমস্যার মুখোমুখি হই। আমাদের জীবনে সমস্যার অন্ত নেই। একটা সমস্যা শেষ হতে না হতেই আবির্ভাব ঘটে আরেকটা সমস্যার।

তবে এমন কোনো সমস্যাই নেই যার সমাধান সম্ভব নয়। মাথায় ব্যাথা মাথা কেটে ফেলা কি সমাধান? না, সমস্যা সমাধানে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সমস্যা চিহ্নিত করতে হয়, এর উৎপত্তি কোথা থেকে তা নির্ধারণ করতে হয়, জরুরি সিদ্ধান্তগুলো আগে নেওয়া সমীচীন, সমস্যা গুলোকে ভেঙে ফেলা উচিৎ, কী জানেন আর কী জানেন না তার একটা তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন, সম্ভাব্য একাধিক সমাধান ঠিক করে রাখা উচিৎ, রিসোর্স খোঁজে বের করা মস্তিষ্ক হৃদয় দিয়ে শুনা এবং বুঝা, অন্যের থেকে উপদেশ নেওয়া ও পেছনের সমস্যা খোঁজে বের করা।

পাঠক, যৌক্তিক কিছু কারণে আমি ব্যাক্তিগতভাবে কোচিং প্রাইভেট টিউশন একেবারে বন্ধের বিপক্ষে। কেন ,তা উপস্থাপন করার পূর্বে একটু জেনে নেই কোচিং সেন্টার বলতে আমরা কি বুঝি? অতি সংক্ষেপে বললে যার অর্থ প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন কেন্দ্র। যেখানে কোনো কিছু নিয়মিত শেখা ও অনুশীলনের সুযোগ আছে তাহাই কোচিং সেন্টার। কিন্তু বর্তমানে কোচিং সেন্টার বলতে আমরা বিশেষ স্থানকে বুঝি যাহা ব্যাবসায়িক চিন্তা চেতনায় আবর্তিত। বর্তমানে কোচিং সেন্টার গুলোতে গুণগত শিক্ষা প্রদানের চেয়ে মুনাফার দিকই বিবেচ্য। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের কোচিং চোখে পড়ে যেমন, একাডেমিক পড়ানোর জন্য কোচিং, ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের জন্য কোচিং, বিশেষ কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোচিং, বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে বার্ষিক অর্ধবার্ষিক মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভের জন্যে একাডেমিক কোচিং। কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোচিং, আইইএলটিএস, টোফেল বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি কোচিং ইত্যাদি।

পাঠক, পারিপার্শ্বিকতা বা বাস্তবতার আলোকে সু-দৃষ্টি রেখে জাতীয় কোনো ইস্যু সঙ্কট সমস্যা বা সম্ভাবনায় যে কোনো নাগরিকের মতামত উদ্বেগ উৎকণ্ঠা হতে পারে সহায়ক। প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং ব্যাবস্থাপনায় সৃষ্ট যে অনিয়ম জঞ্জাল তৈরি হয়েছে তা কিন্তু উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাইভেট টিউশন ও কোচিংয়ের বর্তমান বাস্তবতা কি একটু আলোচনা করলে এর থেকে উত্তরণের রাস্তা খুঁজে পাওয়া সহজ হবে মনে করছি। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাইভেট টিউশন কোচিং বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন মহল বিভিন্নভাবে বিষয়টাকে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। সরকারের যথাযথ মন্ত্রণালয়কে বিশিস্টজনেরা পরামর্শ দিচ্ছেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে সামনে রেখে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আগামী এক মাস কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিরাপত্তা জনিত কারণে কোচিং বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এবার প্রত্যেকটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রশ্নপত্র বক্সে অ্যালুমনিয়ামের সিলগালা করা হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। যদি বিশেষ কোনো কারণে কারও দেরি হয় সেক্ষেত্রে দেরির কারণ ও পরীক্ষার্থীর নাম ঠিকানা লিখে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রশ্নপত্র পাসের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথেই নিয়েছেন, ধন্যবাদ মাননীয় মন্ত্রীকে। অদ্য, সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে তা সম্ভব নয়, সাবেক অর্থমন্ত্রীও তাতে একমত পোষণ করেছেন। অভিজ্ঞতার আলোকেই তারা বলেছেন বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। এই শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে বর্তমান ও আগামীর চাহিদা পূরণ অসম্ভব। আর এজন্য শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। গেল সপ্তাহে কোচিং বাণিজ্যকে নতুন ধরনের অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট আদালত।

বলেছেন, ক্লাস রুমে পড়ানোর ব্যর্থতার কারণেই কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে যা গত সপ্তাহে আদালতে শুনানিতে এমন মন্তব্য করেন আদালত। শুনানির সময় অ্যামিকাস কিউরি ফিদা এম. কামাল আদালতকে বলেন, সিস্টেম ফেইলের কারণে কোচিং বাণিজ্যের মতো বিষয় ক্লাসের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে আরও কার্যকর করার কথা বলেছেন আদালত। দেশ জুড়ে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বন্ধের ব্যাপারে বিভিন্ন ধরণের প্রপাগান্ডা হলে তা একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে মাননীয় মন্ত্রী এখনো কিছু বলেননি। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা অভিবাবক ছাত্রসমাজ শিক্ষানুরাগী সুশীল সমাজ সর্বপরি দেশের সকল নাগরিক উদ্বিগ্ন।

বাংলাদেশে সবচেয়ে রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী টিউশনের দিকে ঝুঁকে আছে। ইউনিসেফ-এর পরিসংখ্যান মতে ৯২% শিক্ষার্থীরা টিউশনের সাথে সম্পৃক্ত, মাত্র ৮% শিক্ষার্থী রয়েছে টিউশনের বাইরে। বিশিষ্টজনদের মতে, দেশে কোচিং বাণিজ্য নিয়ে একটা অশুভ ও দুষ্ট চক্র তৈরি হয়েছে। এরা দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। বছর আগে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো। তখন কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছিলো, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনায় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই মূলত কোচিং সেন্টার ব্যবস্থার জন্ম। কিন্তু দিনের পর দিন ইহা লাভজনক ব্যবসায়িক চিন্তাচেতনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

গ্রামে-গঞ্জে পাড়ায় মহল্লায় রং বেরঙের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দৃশ্যমাণ। পরিকল্পনাহীন সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক চিন্তা চেতনায় নিয়ন্ত্রনহীন ভাবে গড়ে ওঠা ঐসব কোচিং ও প্রাইভেট টিউশন সেন্টার গুলো অভিভাবক ছাত্রছাত্রীদের জিম্মি করে ফেলছে।

ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকদের প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কোচিংয়ে দৌঁড়ানো আজকাল অনেকটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজনকে দেখে অন্যজন আগ্রহী হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে শিক্ষা কার্যক্রমের গুনগত মানের নিম্নগামীতা, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পাঠ বোঝানো, আলোচনা ও মূল্যায়নের জন্যে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া, পাঠদানে দুর্বলতা, এমনকি খবরের কাগজে শিরোনাম চোখে পড়ে পরীক্ষায় অধিক নম্বরের আশায় অনেক ছাত্রছাত্রী শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার প্রবণতা।

প্রাইভেট শিক্ষক যে নোট সরবরাহ করেন তা শিক্ষার্থীদের নিজের তৈরি নোটের চেয়ে অধিক মানসম্পন্ন হয়। যে শিক্ষার্থী পরীক্ষার খাতায় শিক্ষকের নোট ফলো করে উত্তর প্রদান করে তার নম্বর নিজে থেকে উত্তর লেখা শিক্ষার্থীর চেয়ে বেড়ে যায়- ফলে তৈরি হয় এক অসম প্রতিযোগিতা। অনেক সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীর সাথে প্রতিযোগিতার মাঠে নেমে পড়েন। তখন যে শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে কোচিং সেন্টারে যাবার চিন্তা করেনি সেও যেতে বাধ্য হয়। শ্রেণীকক্ষে প্রকৃত যথাযথ শিখন-প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যর্থতাই কোচিং ব্যবস্থার প্রসারের জন্য দায়ী বলে আমি মনে করি। এমন সব কারণেই শঙ্কা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, পাঠক এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

এই জঞ্জাল থেকে মুক্তির উপায় কি? ছাত্র অভিভাবক হিসাবে আমাদের দায় দায়িত্ব কোনো অংশেই কম না। শ্রেণীকক্ষের সকল শিক্ষার্থী একভাবে শেখে না। কারও সময় বেশি লাগে আবার কেউ মূহুর্তেই পাঠদান বুঝে ফেলে। ক্লাসে যারা অগ্রণী শিক্ষার্থী তাদের জন্য কোচিং এ যাওয়ার তেমন কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করিনা। যাদের বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে পাঠ বোঝার সমস্যা থেকেই যায় তারা সাহায্যের জন্য কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনে যেতে পারে। কোনো বিশেষ বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কোনো শিক্ষকের শরণাপন্ন হয়ে এক্সট্রা সাপোর্ট গ্রহণ অন্যায় কিছু না। কিন্তু সেটি খুবই স্বল্প পরিসরে প্রয়োজন সাপেক্ষে হওয়া উচিত। কখনও সেটি যাতে মূল ধারায় না আসে সে ব্যাপারে ছাত্রছাত্রী অভিবাবকদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বছরের পর বছর দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা গবেষণা হচ্ছে। ধ্রুব সত্য হচ্ছে সদিচ্ছার অভাব, নৈতিকতার অভাব, অব্যবস্থাপনা, অদূরদর্শিতা ও দুর্নীতির ঘূর্ণাবর্তে আমরা একই বৃত্তে ঘুরছি। প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বন্ধসহ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমে আমাদের আন্তরিকতা সদিচ্ছা ও সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সর্বোপরি রাষ্ট্রীয়ভাবে কোচিং ও প্রাইভেট সেন্টারগুলোর ব্যাপারে সার্বক্ষণিক তদারকি প্রয়োজন। যারা প্রাইভেট টিঊশন করাবেন তাদের ইনকামের উপর ট্যাক্স আরোপের বিষয়টি চিন্তা করা প্রয়োজন তাতে সরকার বেনিফিটেট হবে আর পড়ায় পাড়ায় টিউশন সেন্টারও হবেনা। সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে টিউশন সেন্টার শুরু করতে পারলে এই ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে পাবে তা আমার বিশ্বাস। দেশে নানাবিধ নির্দেশনা ও সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও কোচিং বাণিজ্য বন্ধ না হওয়ার পেছনের প্রধান কারণটি হলো বিদ্যমান নীতিমালা ও নির্দেশনার দুর্বলতা এবং তা বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা।

পাঠক, কোচিং বাণিজ্য থেকে উত্তরণের জন্য প্রাইভেট টিউশন কোচিং সেন্টার কি বন্ধ করে দিতে হবে? এতসব জঞ্জালের পরও কি প্রাইভেট টিউশন কোচিংয়ের প্রয়োজন আছে? এমন প্রশ্নের উত্তর এক কথায় উপস্থাপন কঠিন হলেও আমি বলবো “মাথা ব্যাথার জন্য মাথা কেটে ফেলা সমাধান নহে। কোচিং, প্রাইভেট টিউশন অন্যায় কিছু না- it’s a এক্সটা সাপোর্ট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইহা পরিচিত। বিভিন্ন দেশে কোচিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। আমাদের পাশের দেশ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কোচিং ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বল্প পরিসরে কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনের বিষয়টি দেখা যায়। তবে সেখানে শ্রেণীকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হয় বলে ছেলেমেয়েদের কোচিংয়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেককাংশে কম। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যা করতে হবে কোচিং প্রাইভেট টিউশনের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য নীতিমালা দরকার। কোচিং বাণিজ্যকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে সর্ব প্রথম শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের উপর গুরুত্বরোপ করতে হবে।

শ্রেণীকক্ষে মানসম্মত শিক্ষাদান কার্যক্রম নিশ্চিত করে কোচিং ব্যবস্থাকে সীমিত আকারে নিয়ে আসা সম্ভব। আর এই ব্যাপারে শিক্ষকদের কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। নীতিমালার আলোকে সরকার ও সরকারের যথাযথ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতিক্রমে ইউনিক নীতিমালার আওতায় সারা দেশে স্বল্প সংখ্যক কোচিং টিউশন সেন্টার থাকতে পারে। শিক্ষকরা যাতে করে পাঠদান কার্যক্রমে মনোযোগী হন সেজন্যে তাদের যুগোপযুগী বেতন কাঠামো, রুটিন টিচিং ট্রেনিং কার্যক্রম নিশ্চিত করতে পারলেই প্রাইভেট টিউশন কোচিং বাণিজ্যকে অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব। আমার বিশ্বাস এই প্রক্রিয়াটি শুরু করতে পারলে এ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তবে তাৎক্ষণিক জরুরী রুলজারী করে কোচিং বন্ধ করলেও শ্রেণীকক্ষের শিক্ষার মান উন্নত হবে বলে আমি মনে করি না।

লেখকঃ নজরুল ইসলাম,
ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট।
ওয়ার্কিং ফর ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস, লন্ডন।
মেম্বার, দি ন্যাশনাল অটিষ্টিক সোসাইটি ইউনাটেড কিংডম।
আজীবন সদস্য বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ঢাকা বাংলাদেশ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত