রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিমুল বাগানে রক্তিম বসন্তের ছোঁয়া



শিমুল বাগান।

ডিএমবি ডেস্কঃ

সুনামগঞ্জের তারিপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীর তীর, চারদিকে ধু-ধু বালুচর। তার মাঝখানে ৩৩ একরজুড়ে রয়েছে শিমুল বাগান। বাগান তো নয়, যেন শিমুলের রাজ্যত্ব। সেখানে থোকা থোকা রক্তিম ফুল ফুটে আছে। ফুলের এই রক্তিম আভা বাতাসে দোল খাচ্ছে। সারিবদ্ধভাবে লাগানো গাছে ফুটে থাকা শিমুলের লাল পাপড়ি দেখে যে কেউই গেয়ে উঠবে ‘আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফুটে’। বসন্ত যে এসে গেছে, যাদুকাটা নদী তীরের সেই শিমুল বাগানে গেলেই যে কেউ উপলব্ধি করতে পারবে।

১৭ বছর আগে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের প্রয়াত চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন যাদুকাটা নদীর পশ্চিম পারে ৩৩ একর জায়গায় গড়ে তোলেন শিমুল বাগান। বাগানটিতে সারিবদ্ধভাবে ৩ হাজার শিমুলের চারা রোপণ করেন। সেই গাছ এখন পুষ্প পত্র পল্লবে পেখম মেলেছে। আর এই নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা ভিড় করছেন যাদুকাটা নদীর তীরে। প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছেন শত শত দর্শনার্থী। সেই সঙ্গে স্থানীয়রাও প্রতিদিন বিকেলে সময় কাটান শিমুল ফুলের রক্তিম আভার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

যাদুকাটা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই শিমুল বাগানই দেশের সবচেয়ে বড় শিমুল বাগান। ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, মাঝে যাদুকাটা নদী, এপারে শিমুল বাগান। সব মিলেমিশে গড়ে উঠেছে প্রকৃতির এক অনবদ্য কাব্য। লাল পাপড়ি মেলে থাকা রক্তিম আভায় যেন পর্যটকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ফাল্গুন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এখানে দেশেরই নয় বিদেশ থেকেও আসতে শুরু করেন পর্যটকরা।

জয়নাল আবেদীনের ছেলে বাদাঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আপ্তাব উদ্দিন বলেন, ‘বাগানে আসা দর্শনাথী আর শিমুল বাগান আমার প্রয়াত বাবাকে সারা দেশের মানুষের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। এটা আমাদের কাছে আনন্দের ব্যাপার।’

ট্রাভেল গ্রুপ ‘ভ্রমণ পোকা’ পরিচালক লাভলু ইসলাম বলেন, ‘গেল বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝখানের সময়ে বাগানে ঘুরতে এসেছিলাম। এবারে বাগানে ফুল ফোটার মুহূর্তটা অন্য রকম।’ শিমুল বাগানে ঘুরতে আসা মামুন হোসাইন বলেন, ‘এই বাগানটি দেখতে অসাধারণ। এত বড় শিমুল বাগান দেশের আরো কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই। নদী, পাহাড় আর শিমুল বাগান মিলে প্রকৃতির এক অপূর্ব মিলন মেলা রয়েছে এখানটাতে।’

প্রিয়া আচার্য্য বলেন, “সত্যি বলতে কি শিমুল বাগানে এসে আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আহা আজি এই বসন্তে, এতো ফুল ফোঁটে, এতো বাঁশি বাজে, এতো পাখি গায়’— এই গানের আসল সৌন্দর্য শব্দের আসল অর্থ খুঁজে পেয়েছি।”

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘পাহাড়ঘেরা সৌন্দর্যের পাশে এই শিমুল বাগানটি দিন দিন সবার কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেই মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন।

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি সুনামগঞ্জ শহরে আসতে হবে। সুনামগঞ্জ শহরের প্রবেশদ্বার আবদুজ জহুর সেতুতে নেমে সিএনজি, মোটরসাইকেল কিংবা যেকোনো গাড়ি ভাড়া করে তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে নৌকায় যাদুকাটা নদী পার হলেই শিমুল বাগানে পৌঁছে গেলেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত