বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পুলিশের পাহারায় বাড়ি দখল



স্টাফ রিপোর্টারঃ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর বাজারের সবুজবাগ এলাকায় আদালতের নির্দেশনাকে অমান্য করে পুলিশের উপস্থিত রাহেনা বেগম চৌধুরী’র বাসা দখলের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রাহেনা বেগম চৌধুরী’র ছেলে হাবিবুর রহমান এ অভিযোগ করেন।

এসময় তিনি বলেন, শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহ আলম এর উপস্থিতিতে ও শাসক দলের সুবিধাভোগী কতিপয় নেতাদের সহযোগীতায় রিয়াজ করিম সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে বাসাটি দখল করেন। তবে শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহ আলম বিষয়টি অস্বীকার করছেন।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, অভিযোগকারীর ছেলে হাবিবুর রহমান ও রিয়াজ করিম আপন চাচাতো ভাই। ২০ বছর ধরে অভিযোগকারী ছেলে সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় যৌথ ভাবে বসবাস করে আসছেন। গত বছরের ৫ এপ্রিল রিয়াজ করিমের বাবা আব্দুল খালিকের কাছ থেকে খরিদা সূত্রে ওই জায়গার মালিক হন। কিন্তু ২০১৮ সালের জুলাই মাসের শেষের দিকে আব্দুল খালিকের ছেলে রিয়াজ করিম দেশে এসে পুরো বাসা দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে রাহেনা বেগম চৌধুরী বাদী হয়ে কমলগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবিতে বিগত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর একটি স্বত্ত্ব মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৫৭/২০১৮ইং)। ওই মামলায় আদালত নোটিশ প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর কথা বলেন। এটা শুনে রিয়াজ করিম স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে চলতি মাসের ৫ মার্চ বিকালে বাসা দখলে নেন।

তিনি আরোও বলেন, এসময় তারা বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণ লংকার, মোবাইল, কাপড় ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র লুট করে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে রিয়াজ করিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার পরিবার দীর্ঘ দিন প্রবাসে থাকার সুবাধে রাহেনা বেগম চৌধুরী জাল দলিল তৈরি করে বাসা তাদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করছেন। আমার বাবা বাসা তাদের কাছে বিক্রি করেননি। আদালতের নোটিশের বিষয়ে তিনি বলেন, এধরনের কোনো নোটিশ এখন পর্যন্ত আমার কাছে আসেনি।

এসআই শাহ আলম আরোও বলেন, ঘটনার দিন সকাল থেকে আমি মৌলভীবাজার-২ আসনের এমপি উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহিদ এমপি মহোদয়ের প্রটোকলের টউটিতে ছিলাম। সন্ধ্যায় অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এসময় গেইটে ৬টি তালা দেয়া দেখতে পাই। পরে ওই দিন রাতে অফিসার ইনচার্জ ও ডিবি’র ওসি উভয় পক্ষকে নিয়ে ফাঁড়িতে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু রাহেনা বেগম চৌধুরীর ছেলে হাবিবুর রহমানের অসযোগীতার কারনে সম্ভব হয়নি।

শমসেরনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল মালিক বাবলু বলেন, কারো পক্ষ পাতিত্ব করিনি। তবে হাবিবুর রহমানের অসযোগীতার কারনে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত