বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চা-বাগানে ফাগুয়া উৎসব



শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:

চা-বাগানের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে ফাগুয়া উৎসব। লাল, কালো, নীল রঙের ছড়াছড়িতে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী নারী-পুরুষ এখন মাতোয়ারা ফাগুয়া উৎসবে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে এ উৎসব।

চলবে সপ্তাহব্যাপী। ফাগুয়া চা-শ্রমিকদের এক অন্যতম উৎসব। হোলি নামেও এটি পরিচিত।

এ উৎসব উপলক্ষে চা-বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে লাঠি নাচ। উৎসবকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়ি আসেন মেয়েরা। প্রতিটি চা-বাগানে তরুণ-তরুণীরা রঙের সাজে সেজে নাচের দল নিয়ে বের হন।

মাদলের তালের সঙ্গে পাহাড়ি গানের সুর সৃষ্টি করে এক অন্য রকম আবহ, মাধুর্য। বাগান কর্তৃপক্ষ ফাগুয়া উপলক্ষে চা-শ্রমিকদের ছুটি ও উৎসব ভাতা দিয়ে থাকে। এ বছর ফাগুয়া উপলক্ষে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালীর সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, বছরে বেশ কটি উৎসবের মধ্যে এই উৎসবটি চা জনগোষ্ঠীর অন্যতম বড় উৎসব। এটা দোল উৎসব নামে সমধিক পরিচিত হলেও চা জনগোষ্ঠী ফাগুয়া উৎসব বলে থাকে। আর এ ফাগুয়া উৎসবের মূল আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী লাঠি নৃত্য। চা-শ্রমিকদের সংগ্রামী জীবনে প্রতিবছর ফাগুয়া উৎসব আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে। ফাগুয়া শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে রং সংগ্রহ করতে থাকে পরিবারের ছোট সদস্যরা।

নাগরদোলা থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক শিমুল তরফদার বলেন, চা-শ্রমিকদের ফাগুয়া উৎসব অনেক আগে থেকে দেখে আসছি। চা-শ্রমিকেরা রাধা-কৃষ্ণ ও সখীদের সাজে যে অপূর্ব লাঠি নাচ করে, তা মুগ্ধ করার মতোই। এ ঐতিহ্যবাহী উৎসব যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে চা শ্রমিকনেতাদের উদ্যোগী হওয়া উচিত। চা-বাগান শ্রমিকদের নিজস্ব একটি সংস্কৃতি আছে। ফাগুয়া উৎসব তেমনই একটি। ফাগুয়া উৎসব যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে সব মহলের খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রেমসাগর হাজরা বলেন, ফাগুয়া উৎসবের দুই সপ্তাহ আগে থেকে লাঠি নাচের দলের সদস্যরা দল গঠনের জন্য মহড়া দেন। যাঁরা ভালো নাচতে পারেন, গাইতে পারেন, বাজাতে পারেন—তাঁদের নিয়ে দল করা হয়। একেকটি চা-বাগানে লাঠি নাচের দু-তিনটি দল হয়। স্বল্প আয়ের চা-শ্রমিকেরা এই ফাগুয়া উৎসব ঘিরে প্রতিবছর বিভিন্ন আয়োজন করে থাকেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত