মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে দুইদিনে সড়কে ঝড়ল দুই ছাত্রের প্রাণ



ওমর ফারুক নাঈমঃ 

সড়ক দুর্ঘটনায় মৌলভীবাজারের দুইদিনে ঝড়ল দুই ছাত্রে তাজা প্রাণ। শনিবার বিকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুরে সিকৃবির ছাত্রকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাসচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। পরদিন রবিবার দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ এলাকার মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের ছাত্র সিএনজি অটোরিকশার চাপায় নিহত হয়েছেন।

এদুই দুর্ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে শোকের মাতম ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে। সোমবার সকালে কলেজ রোডে অবস্থান কর্মসূচিরও ঢাক দিয়েছে একটি সংগঠন।

জানা যায়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ঘোরি মো. ওয়াসিম আফনানকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাসচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। নিহত ঘোরি মো. ওয়াসিম আফনান সিকৃবির বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুদ্র গ্রামের ঘোরি মো. আবু জাহেদ মাহবুব ও ডা. মীনা পারভিনের ছেলে। ওয়াসিম ময়মনসিংহ থেকে সিলেটগামী উদার পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ভ-১৪-১২৮০) সিকৃবির ১১ শিক্ষার্থী ওঠেছিলেন। তারা হবিগঞ্জের নবীনগরের দেবপাড়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ওই বাসযোগে তারা শেরপুর আসেন। ওই ১১ শিক্ষার্থীর একজন নয়ন রঞ্জন ঘোষ জানান, বাসে ওঠার সময়ই তারা ভাড়া কিছু কম আছে বলে চালক ও হেলপারকে জানিয়েছিলেন। শেরপুরে এসে তারা আগের কথা অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করেন।

এ সময় চালক ও হেলপার তাদেরকে কটুক্তি করেন। ওয়াসিম আফনান ও আরেক শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন এর প্রতিবাদ করেন। বাকিরা তখন বাস থেকে নেমে পড়েছিলেন। তিনি জানান, বাগবিত-ার একপর্যায়ে ওয়াসিম ও রাকিবকে ধাক্কা দিয়ে বাসের দরজা লাগিয়ে দেন হেলপার।

ধাক্কা খেয়ে রাকিব বাসের একটু দূরে ছিটকে পড়েন। আর ওয়াসিম বাসের কাছেই পড়ে যান। তখন চালক বাসটি দ্রুতগতিতে চালাতে শুরু করলে ওয়াসিম পেছনের চাকায় পিষ্ট হন। নয়ন রঞ্জন জানান, ওয়াসিম ও রাকিবকে ওসমানী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওয়াসিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন আজও মৌলভীবাজারের সড়কে ঝড়লো আরেক ছাত্রের প্রাণ। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সিএনজি অটোরিকশার চাপায় সুমন মিয়া (২৪) নামের এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে। সুমন মিয়া কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ এলাকার রিক্সা মেকানিক বাবুল মিয়ার পুত্র এবং সে মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র। আজ দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনের রাস্তায় দ্রুতগামী সিএনজি অটো রিক্সা সুমন মিয়াকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।পরে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাবার পথে সে মারা যায়। কমলগনঞ্জ থানার ভাারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ড্রাইবার পলাতক তবে সিএনজি আটক আছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত