মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কি রয়েছে ওয়াসিম হত্যা মামলার এজাহারে?



নিহত ওয়াসিম।

ওমর ফারুক নাঈমঃ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ঘোরী মো. ওয়াসিম আব্বাসকে মৌলভীবাজারের শেরপুরে বাস চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় বাসের চালকসহ তিনজনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড ২৫ মার্চ মৌলভীবাজার মডেল থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজেহার হত্যার উদ্দেশ্যেই ওয়াসিম ও রাকিবকে বাস থেকে ফেলে দেয়া হয়েছিল তা সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এঘটনা দেশব্যাপী আলোচনায় আসে। ঘটনার পর ২৩ মার্চ রাতে বাসের চালক ও হেলপাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২৪ মার্চ গ্রেফতারকৃতদের ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

মামলার আসামীরা হলেন, বাস চালক জুয়েল আহমদ (৩০), হেলপার মাসুক মিয়া (৩১) ও সুপারভাইজার শেফুল মিয়া (৩৫)। তবে সুপারভাইজার এখনও পালতক রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ শনিবার বিকেলে ঘোরী মো. ওয়াসিম আব্বাস ও তার ১০ সহপাঠি একটি বিয়ের দাওয়াত থেকে ফিরে আসার পথে নবীগঞ্জের বালিধারা বাজার সংলগ্ন নাইমা ফিলিং স্টেশনের সামন থেকে সিলেটগামী (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৪-১২৮০) উদার পরিবহনের বাসে উঠেন। তারা মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর পয়েন্টে বাস থেকে নামার জন্য ভাড়া নিয়ে বাসের সুপাভাইজারের সাথে তর্কবিতর্ক হয়।

শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্তরে বিকাল ৪.৪৫ টায় রাকিব ও ওয়াসিম বাদে বাকী নয়জন ভালভাবে বাস থেকে নেমে যান। রাকিব ও ওয়াসিম নামার আগেই বাসের চালক বাসটি দ্রুতগতিতে চালিয়ে বাস চালিয়ে দেয়। এবং বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার ওয়াসিম ও তার সহপাঠি রাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। রাকিব হেলপারের ধাক্কায় গাড়ি থেকে ছিটকে পরে তার বাম হাতের কনুইতে আঘাত প্রাপ্ত হয়। তখন ওয়াসিম আব্বাস তার ডান হাত দিয়ে বাসের দরজার হাতল ধরে ফেলে। এ সময় তার পা দুটি ঝুলে যায় ও কোমরের নিচের অংশ গাড়ির নিচে চলে যায়।

এজহারে উল্লেখ আছে, এরপর বাসের হেলপার ওয়াসিম আব্বাসের হাত দরজার হাতল থেকে ছাড়াইয়া দেয়। এ সময় ওয়াসিম আব্বাস ও তার সহপাঠিরা গাড়ি থামানোর জন্য চিৎকার করিলেও গাড়ি চালক তাদের চিৎকারে কর্ণপাত না করে দ্রুত গতিতে চালাতে শুরু করলে ওয়াসিম আব্বাস রাস্তার উপর পড়ে যায় এবং শরীরের বেশির ভাগ অংশ গাড়ির নিচে চলে যাওয়াতে চাকার সাথে পিষ্ঠ হয়ে গুরুতর আহত হয়। তখন বাস দ্রুত গতিতে সিলেটের দিকে চলে যায়। পরে ওয়াসিম আব্বাসের সহপাঠিরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ও রাকিব হাসানকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘোরি মো. ওয়াসিম আব্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে এসএমপি কোতয়ালী পুলিশ ঘোরীর মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন।

মামলার তদন্তকারী অফিসারের দায়িত্ব মডেল থানা এসআই গিয়াস উদ্দিনকে দেয়া হয়েছে। এই হত্যার রহস্য উদঘাটনে আসামীদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

এবিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি সোহেল আহম্মদ জানান, বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র হত্যাকান্ডে বাসের চালকসহ তিন জনের নামে প্রক্টর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। কারাগারে থাকা দুই আসামীর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত