বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এবার নিয়ম বহির্ভূতভাবে অফিসে এসি স্থাপন করলেন কুলাউড়ার ইউএনও, অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত অনুষ্ঠিত



স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুলাউড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল লাইছ নিয়ম বহির্ভূতভাবে অফিসে এসি স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয় অফিস ডেকোরেশনের নামে ব্যয় করেছেন মোট অংকের সরকারি অর্থ। তবে কোন খাত থেকে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার কোন সঠিক তথ্য নেই। ফলে এই অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ইউএনও’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে ০৮ এপ্রিল সোমবার তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

কুলাউড়ার ইউএনও মো. আবুল লাইছ যোগদানের পর অফিস সংস্কারে মনযোগি হন। তিনি গোটা অফিস ডেকোরেশনসহ অফিসে এসি সংযুক্ত করেন। যদিও সরকারি নীতিমালায় ইউএনও অফিসে এসি লাগানোর কোন নিয়ম নেই। তবে কোন তহবিল থেকে টাকাটা ব্যয় করা হয়েছে, তাতেও কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। তবে একটি সুত্রও জানিয়েছে পুরো টাকাটা এসেছে টিআর প্রকল্প থেকে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, মাত্র এক বছর পূর্বে তৎকালীন ইউএরও চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি অফিসে টাইলস, বাথরুমসহ অফিস ডেকোরেশনের কাজ করেন। মাত্র একবছরের মাথায় আবারও অফিস ডেকোরেশনসহ এসি লাগানোর কাজ করায় মুলত কাজটি নিয়ে গোটা প্রশাসনের লোকজনের কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ০১ নভেম্বর কুলাউড়ায় যোগদান করেন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। সর্বশেষ ২০১৭ সালে পদোন্নতি পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইউএনও পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর কুলাউড়ায় যোগদান করেন।

সরকারি চাকুরি বিধি মোতাবেক সর্বনিম্ন উপ-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার করতে পারবেন।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল লাইছ জানান, কিছু জানার থাকলে সরাসরি অফিসে গিয়ে জানতে। জনপ্রশাসন বিভাগের বরাদ্ধ থেকে এই কাজ করা হচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম জানান, বিগত ৫ বছরে এসি লাগানোর ব্যাপারে সরকারি কোন নির্দেশনা পাইনি। ইউএনও সাহেব কোথা থেকে এসি লাগাচ্ছেন সেটা উনি বলতে পারবেন। তবে উপজেলা পরিষদে এব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তও হয়নি।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, আমি আগে একটু দেখি, এসি লাগানো বিধিমালায় আছে কি না বা পারে কিনা?

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল লাইছ বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে নামে বেনামে লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেইসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ০৮ এপ্রিল সোমবার মৌলভীবাজরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশীদ তদন্ত করেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত