মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মোস্তফাপুরে বন্য শুকরের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড বাগান, ক্ষতিগ্রস্থ শতাধিক কৃষক



স্টাফ রিপোর্টার: 

বন্য শুকরের ব্যাপক তান্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আনারস, কাঠাল, কলা, লেবু ও আমন ধান। এমন আকস্মিক ফসলহানীতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন জগন্নাথপুর, গোয়ালাবাড়ী ও সোনাপুর গ্রামের শতাধিক কৃষক। বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক থেকে আসা বন্য শুকরের দলকে গ্রামের বাসিন্দারা রাতভর পাহারা দিয়েও ক্ষয়ক্ষতির এড়াতে পারছেন না।

সরেজমিনে জানা যায়, জগন্নাথপুর গ্রামের কাশেম মিয়ার মালিকানাধিন আনারস বাগানের পুরো অংশ জুড়ে বন্য শুকরের তান্ডবের চিত্র। কাশেম মিয়া ছাড়াও একই গ্রামের সাবেক মেম্বার ইমরান আহমদ, রসিদ মিয়া, মনির মিয়া, কাশেম মিয়া, বাবুল মিয়া, মঞ্জুর মিয়ার আনারস বাগানের চারা উপরে ফেলে মাটির সাথে একাকার হয়ে গেছে। শুধু চারা উপরে ফেলেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, সারি সারি আনারসের গাছগুলিতে গজিয়ে উঠা আনারসের ফুল ও খোসা পর্যন্ত উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এসব বাগান গুলিতে কৃষকরা নতুন মৌসুমে ব্যাপক আনারস ফলনের আশায় আগে থেকেই শ্রমিক যুক্ত করে অনেক অর্থ বিনিয়োগ করেন। তবে রাতের অন্ধকারে দলবেঁধে বন্য শুকরের এই তান্ডবে তাদের স্বপ্ন দুঃসপ্নে পরিণত হয়।

দেখা যায়, প্রতিটি বাগানে কৃষকরা বন্য শুকরের আক্রমন থেকে রক্ষায় কাটা তারের বেড়া দিয়েও আনারস, লেবু বাগান, আমন ক্ষেত ও শীতকালীন সাক সবজি রক্ষা করতে পারছেন না। এতে করে এসব এলাকার কৃষকরা অর্থ আর শ্রম বিনিয়োগ করেও চুড়ান্ত ভাবে হতাশ হচ্ছেন।

এদিকে দীর্ঘদিন যাবত বন্য শুকরের তান্ডবের ফলে ফসল রক্ষার আশা ছেড়ে দিয়ে ঐ তিন গ্রামের স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জেলা প্রশাসক বরাবর তাদের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর একটি আবেদন করেন। আবেদনটিতে ১১ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য ওয়াছির মিয়ার অনুমোদন সহ শতাধিক কৃষকের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে আবেদনের চার মাস অতিক্রম হলেও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কার্যকর কোন প্রদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

স্থানীয় লেবু বাগান মালিক সাবেক ইউপি সদস্য ইমরান আহমদ বলেন, “আমার বাগানের সবগুলো লেবু গাছ ও আনারসের ছাড়া নষ্ট করে ফেলছে বন্য শুকর। তিনি আরো বলেন অনেক চেষ্টা করে বাগানের চারপাশে কাটাতারের বেড়া দিয়েও কাজ হচ্ছেনা। এসময় তিনি ফসল রক্ষায় বন বিভাগের সহায়তা কামনা করেন।”

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “বন্য শুকরের আক্রমনে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। এবিষয়ে প্রদক্ষেপ নিতে বন বিভাগের সাথে কথা বলবো।”

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগীয় কর্মকর্তা আবু মোছা শামসুল মোহিত চৌধুরী বলেন, “এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষকদের পক্ষ থেকে কোন আবেদনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তিনি বলেন বন্য শুকরের হাত থেকে ফসল রক্ষায় তাদের নিজেদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে।”

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত