শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রেম প্রত্যাখান করায় স্কুল ছাত্রীকে কোপালো বখাটে, গুরুতর আহত সামিরার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন



স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুলাউড়ায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সামিরা আক্তার নামে ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে দা দিয়ে কোপালো এক বখাটে। এসময় বখাটে জুয়েল আহমদকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। আহত ছাত্রী সামিরার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

শনিবার ২৭ এপ্রিল দূপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার কুলাউড়া-ঘাটের বাজার সড়কের মীরশংকর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। সামীরা আক্তার কুলাউড়া পৌর শহরের সাদেকপুরস্থ আল হেরা ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। সামিরা উপজেলার মীরশংকর গ্রামের আরব আমিরাত প্রবাসী সরফ উদ্দিনের বড় মেয়ে।

স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ছাত্রীর মা সাহারা বেগম এবং স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সামিরা ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে উপজেলার ভূকশীমইল ইউনিয়নের সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকাবস্থায় সাদিপুর গ্রামের মৎস্যজীবী বকুল মিয়ার পুত্র জুয়েল আহমদ প্রায়ই তাকে (সামিরাকে) উত্যাক্ত করতো। বিষয়টি ছাত্রীর অভিভাবকরা স্থানীয় মেম্বার ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জুয়েলের পিতা ও ভাইদের ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করবে না ওই মর্মে তাদের কাছ থেকে মুছলেখা নেওয়া হয়। এঘটনার পর ভয়ে ওই ছাত্রীর অভিভাবক তাকে (সামিরা) কুলাউড়া পৌর শহরের আলহেরা ক্যাডেট স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি করেন। এরপরও ওই যুবক সামিরাকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো।

শনিবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ির ফেরার পথে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে মীরশংকর বাজারে গিয়ে নামে সামরিা। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বাড়িতে প্রবেশের সময় রাস্তায় একা পেয়ে জুয়েল প্রকাশ্যে ধারালো দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ী কোপাতে থাকে। স্থানীয়রা সামিরার চিৎকার শোনে এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তার মাথায় ও কানে দায়ে কোপ রয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে স্থানান্তর করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এদিকে স্থানীয়রা জুয়েলকে আটক করে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। ছাত্রীর মা সাহারা বেগম আহাজারী করে বলেন, জুয়েল আমার বড় মেয়েকে সব সময় উত্যক্ত করতো এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার বিষয়টি জানতেন। আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। আজ আমার মেয়েটি জীবন সংকটে। আমি আমার মেয়ের হত্যার চেষ্টাকারীদের উপযুক্ত বিচার চাই।

সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, ওই ছাত্রী ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাবস্থায় জুয়েল তাকে উত্যক্ত করতো। বিষয়টি জানার পর আমরা স্কুলের শিক্ষক ও তাদের এলাকার মেম্বারসহ জুয়েল ও তাঁর পিতাকে ডেকে নিয়ে ওই যুবকের ও তার অভিভাবকের মুছলেখা রাখি যাতে পরবর্তীতে ছাত্রীকে উত্যক্ত না করে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়ারদৌস হাসান বলেন, জুয়েলকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বখাটের দায়ের কোপে গুরুতর আহত সামিরা আক্তার (১৫) এর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। এমনটি জানিয়েছেন ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সামিরার পাশে থাকা তার চাচা সোয়াইব আহমদ।

তিনি জানান, ওসমানীতে সামিরার অস্ত্রপচার করা হয়েছে। তবে তার অবস্থা এখনও সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সামিরার মাথার আঘাত গুরুতর বলে জানান তিনি।

এদিকে উপজেলার ভূকশীমইল ইউনিয়নের সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই সামিরা আক্তার (১৫)-কে উত্যক্ত করতো ওই বখাটে জুয়েল আহমদ (২০)। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিচার দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। উপায় না দেখে সামিরার স্কুল বদলে ফেলেন বাবা-মা। ভর্তি করেন পৌর শহরের সাদেকপুরস্থ আল হেরা ক্যাডেট স্কুলে। এখন সে ওই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীতে পড়ে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত