শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও পুলিশের কঠোর হুশিয়ারী



স্টাফ রিপোর্টারঃ

মাদক ব্যবসায়দের হুশিয়ারী দিয়েছেন মৌলভীবাজারের সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশাসন। মাদক নির্মূল ও মাদক সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এমন হুশিয়ারী দেন সর্ব মহল।

সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের আয়োজনে ও জেলা পুলিশের সহযোগীতায় প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল হামিদ মাহবুবের সভাপতিত্বে ও সাধরাণ সম্পাদক সালেহ এলাহি কুটির পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ বলেছেন, সোনার বাংলা গড়তে যে কয়েকটি সমস্যা তার মধ্যে মাদক একটি। এই মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট দূর্নীতি ও জঙ্গিবাদ। আমরা যারা জনপ্রতিনিধি তাদের কাছে অনেক পিতা-মাতা যায় তাদের মধ্যে এক ধরণের হলো মাদকসেবী সন্তান এবং তাদেরকে পুলিশের কাছে তুলে দিতে বলেন। আরেকটি হচ্ছে পুলিশ ইয়াবা দিয়ে আমার ছেলেকে ধরে নিয়েছে। এই ব্যাপারে আমরা তদবীর করি না।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ওয়ার্ড ও পাড়ায় পাড়ায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করুন। দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে যেখানেই মাদক সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন বলেন, আগে মাদক নিয়ে সচেতনতা ছিল না। এক সময় মৌলভীবাজারে মাদকের ভয়াবহতা ছিল এখন তা অনেকটা কমে এসেছে। অনেক সময় কথা উঠে থাকে রাজনীতিবীদরা মাদকসেবীদের ব্যাপারে সুপারিশ করেন। আমরা যতদিন ক্ষমতায় ছিলাম কোন দিন অন্যায় আবদার নিয়ে যাইনি।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, আমরা একটি সংকটের মুখোমুখি হয়েছি। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু দেশে এসে রেসকোর্স ময়দানে গাজা বন্দ করেছিলেন। পরবর্তীতে সারা দেশে মাদককে নিষেধ করা হয়। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে মাদককে নির্মূল করতে হবে। মাদককে নির্মূল করতে হলে জনবিপ্লব করতে হবে। প্রথমেই এ জনবিপ্লবের কাজ করতে হবে পরিবার থেকে।

জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম বলেন, কোন মাদক সেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে আইনের চোখে সবাই সমান। জঙ্গিবাদ ও মাদকে যারা জড়িত থাকে তারা সুস্থ থাকতে পারে না। মাদক সেবনের ফলে সে তার শরীর ধ্বংস করে দেয়। মাদক ও জঙ্গিবাদ একটি আরেকটির পরিপূরক।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, মাদক একজন গ্রহণ করে অন্যজন মাদক ব্যবসায়ী। এখানে সবাই সচেতন আছেন এ ব্যাপারে। তবে অনেক সময় ভালো কোন পরিবারের সন্তান মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়লে আমরা তাদের ভালো হওয়ার সুযোগ দেই। এরকম কিছু ছেলের ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিরা সুপারিশ করে থাকেন। মাদক ব্যবসা করে মৌলভীবাজারে অনেক পরিবার আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছে। আমরা তাদের বিরোদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা করব।

মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল হামিদ মাহবুব বলেন, পুলিশ প্রশাসন যে ভাবে মদকের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছে আমরাও প্রেসক্লাবও তাদের সাথে থাকবো। মাদক নির্মূলে পুলিশের সাথে মৌলভীবাজারের সাংবাদিকরাও আছেন। মৌলভীবাজার মাদক মুক্ত হবেই।

মতবিনিময় সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম উমেদ আলী ও ইমজা সভাপতি শাহ অলিদুর রহমান, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সুবোধ কুমার বিশ্বাস, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম সহ প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ, আইনশূংখলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্য বৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত