বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এড. সুলতানা হত্যা: ছদ্মবেশী ‘হুজুর’ সেজে আসামী আটক করে পুলিশ



বিশেষ প্রতিবেদক::

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আবিদা সুলতানা (৩৫) নামে এক নারী আইনজীবীর হত্যার আসামী ভাড়াটিয়া মাওলানা তানভীর আলম (৩৫)কে আটক করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

সোমবার (২৭মে) দুপুর পৌণে ১ টার দিকে ছদ্মবেশী হুজুর সেজে পুলিশ সদস্যরা শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরুনা মাদ্রাসার আশপাশের একটি গ্রাম থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের সহযোগীতায় তাকে আটক করে তাদের হেফাজতে নিয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মাওলানা তানভীর আলম সিলেটের জকিগঞ্জ এলাকার ময়নুল আলমের ছেলে। তানভীরর বড়লেখা উপজেলার মাধবগুল জামে মসজিদের ইমাম। শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুস ছালেক মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, রোববার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির মাধবগুল গ্রামের পৈতৃক বাড়ি থেকে আবিদা সুলতানার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর থেকে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি’র নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ওই রাত সাড়ে ১২টা থেকে বরুনামাদ্রাসার আশপাশ এলাকায় অবস্থান করে। পরদিন সোমবার দুপুরের দিকে মাদ্রসার আশপাশের একটি বাড়ী থেকে তাকে আটক করা হয়।
নিহত আবিদা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির মাধবগুল গ্রামের মৃত আব্দুল কাইয়ুমের মেয়ে। আবিদার স্বামী শরীফুল ইসলাম একটি ওষুধ কোম্পানীতে কর্মরত রয়েছেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে মৌলভীবাজারে শহরে বসবাস করতেন।

এডভোকেট আবিদা মৌলভীবাজার বারের একজন আইনজীবী। এদিকে আজ ভোরে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির মাধবগুল গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে তার লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। বড়লেখা থানার ওসি ইয়াছিনুল হক এর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবিদা ওই গ্রামের মৃত আবদুল কাইয়ুমের বড় মেয়ে এবং মৌলভীবাজার শহরের শরীফুল ইসলামের স্ত্রী। শরীফুল একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। আর আবিদা মৌলভীবাজার জজ আদালতের আইনজীবী ছিলেন। ওসি বলেন, নিহতের মাথায় ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আবিদার খালাতো বোন শিমুল চৌধুরী বলেন, আবিদার ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ মা তার মেঝ মেয়ের বাড়ি বিয়ানীবাজারে থাকেন। আর আবিদার পৈতৃক বাড়িতে তাদের পরিবারের কেউ না থাকায় উপজেলার চরকোনা গ্রামের মনির আলীর ছেলে তানভীর আহমদ (৩৫) ভাড়া থাকতেন। রোববার আবিদা বিয়ানীবাজারে বোনের বাড়ি থেকে মৌলভীবাজার যাওয়ার কথা বলে বের হয়। সন্ধ্যার পর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি বলেন, পরে আবিদার বোনেরা তাকে খুঁজতে বাবার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা আবিদাকে পাননি, কিন্তু বাড়ির একটি ঘরে তালাবদ্ধ দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে মেঝেতে বোনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে। ওসি বলেন, ঘটনার পর থেকে তানভীর পলাতক ছিলেন। এ ঘটনায় তানভীরের মা ও স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত