বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পুলিশের দুরন্ত অভিযানে অপহরণের ৫ ঘণ্টায় শিশু উদ্ধার (ভিডিওসহ)



ওমর ফারুক নাঈম ::

মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর ফুসকা খাওয়ার লোভ দেখিয়ে শুক্রবার রাতে শিশু অমিকে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। তারা অমির পরিবারের সাথে পূর্বপরিচিত ছিল। পরে চেতনানাশক খাইয়ে অমিকে মোটর বাইকে করে তোলে নিয়ে যায় শ্রীমঙ্গলের পরিত্যক্ত বাড়িতে। পরে পুলিশ দুরন্ত অভিযান রাতে চালিয়ে অমি উদ্ধার ও অপহরণকারী চক্রকে আটক করে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো: আলমগীর হোসেন।

তিনি জানান, অপহরণের পরই পুলিশ গোপন সুত্রে প্রাপ্ত খবর রাতেই অভিযান চালায়। কারণ এই সময় অভিযান না করলে অপহরণকারীরা শিশুকে হত্যা করে ফেলত। অপহরণের ৫ ঘণ্টার মাথায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইছবপুর এলাকায় আমার নেতৃত্বে একটি টিম অভিযানে নামি। পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে আমরা যাই যার চারপাশ্বে কাদাও কাটা তারের ভেড়া। সেখান থেকে মাহাদি অমিকে উদ্ধার করা হয়। এসময় তিন অপহরণকারীকেও আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- কুলাউড়া পৌর শহরের জয়পাশা আবাসিক এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে হৃদয় আহমেদ (২৭), সিলেট জেলার বিয়ানী বাজার মোল্লারপুর গ্রামের নিজাম আহমদের ছেলে রেদোয়ান আহমেদ (২৭) ও কুলাউড়া উপজেলার দানাপুর গ্রামের মৃত তবারক আহমদের ছেলে কামরুল ইসলাম (১৭।

অপহৃত মাহাদি অমি উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মো. আব্দুল হাসিমের ছেলে। বর্তমানে তারা পৌর শহরের মাগুরায় বসবাস করছেন। অমি অঙ্কুর কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে আরোও জানানো হয়- অপহরণকারীরা পরিবাবের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করে। পরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাওর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তার নেতৃত্বে এই অভিযানে অংশ নেন কুলাউড়া থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান ও ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী। অপহৃত ওই শিশুকে উদ্ধার করে তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং সে কুলাউড়ায় চিকিৎসাধীন আছে। আটকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত