বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পুরাতন হাসপাতালের গাছ কাটে বিক্রি, ১৫ দিন পর অনুমতির আবেদন!



ডিএমবি ডেস্ক ::

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে মৌভলীবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি গাছ গোপনে কেটে নেয়ার ১৫ দিন পর সিভিল সার্জনের অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে। কৌশলে আবেদনটি গাছ কেটে নেয়ার আগের তারিখে জমা দেখানো হয়েছে।

একটি বিশ্বস্থ সূত্র বলছে, ঈদুল ফিতরের বন্ধের আগে ৩ জুন বিরেন্দ্র ভৌমিকের স্বাক্ষরিত আবেদনটি সিভিল সার্জন অফিসে পৌঁছানো হয়। ৩ জুন আবেদনটি পৌঁছিলেও ৯ মে’র দেখানো হয়েছে।

সূত্র বলছে, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক কালি প্রসাদ ভট্টচার্জের নির্দেশে এ গাছ গুলো কর্তন করা হয়। দীর্ঘ দিনের পুরাতন গাছ গুলো কর্তন করায় শহরবাসী ও পরিবেশ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা যায়, গত ১৭ ও ১৮ মে বন্ধের দিন গোপনে এ গাছ গুলো কর্তন করা হয়। কালি প্রসাদ ভট্টচার্জের সাথে একাজে জড়িত ছিলেন অফিস স্টাফ হাফসা আক্তার চৌধুরী, অফিস সহকারী ফয়েজ আহমদ, রেশমা বেগম ও বিদ্যুৎ দাস।

সরেজমিন ১৯ মে দেখা যায়, মৌলভীবাজার পুরাতন হাসপাতাল রোডে অস্থিত সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি ১২টি গাছ ডালপালা বিহীন দন্ডায়মান। পাশের কোয়াটারে একজন বৃদ্ধ গাছের ডাল কেটে জ্বালানি কাঠ তৈরি করছেন। এগুলো কার নির্দেশে কাটা হয়েছে জানতে চাইলে ঘরের ভীতর থাকা রেশমা বেগম নামের এক মহিলা এসে বলেন প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক কালি প্রসাদ ভট্টচার্জের নির্দেশে কাটা হয়েছে। এসময় দেখা যায় নিচ থেকে ১২/১৫ ফুট রেখে সম্পূর্ণ গাছের উপর কেটে রাখা হয়েছে। যে কোনো সময় যাতে সহজে নিচ থেকে কেটে নেয়া যায়।

পরে প্রতিবেদক কয়টি গাছ কাটা হয়েছে প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক কালি প্রসাদ ভট্টচার্জের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪টি রেন্টি, ১টি মেহগনী ও ১টি করই গাছের ডালপালা কেটেছি। তবে কোনো গাছের নিচ থেকে কেটে বিক্রি করা হয়নি। কর্তনকৃত গাছের ২০ মণ জ্বালানি কাঠ বিক্রি করা হয়েছে। জ্বালানি কাঠ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাঘারে জমা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে পারেননি। তবে একটি বিশ্বস্থ সূত্র বলছে ১২টি গাছের ডালপালা কর্তনের পাশাপাশি ১টি আম ও ১টি কাট বাদাম গাছের নিচ থেকে কাটা হয়েছে। বাকী গাছ গুলো যে কোনো সময় কেটে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রধান সহকারীর।

এবিষয়ে অভিযুক্ত কালি প্রসাদ ভট্টচার্জ বলেন, অফিসের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য গাছ কর্তন করা হয়েছে। এনিয়ে কোনো কমিটি কিংবা রেজ্যুলেশন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো কিছু কর হয়নি।

সিভিল সার্জন ডাঃ শাহজাহান কবির চৌধুরী বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি আমি অবগত নয়। তবে গাছ কাটার জন্য ঈদের আগে একটি দরখাস্ত পেয়েছি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত