বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইউকে গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির অবসান হোক



ড. রোয়াব:

বৃটেনের গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল ইন ইউকের (জিএসসি) এর একটি বিষয় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও সসিয়াল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে ভুল বুঝাবুঝি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় জিএসসি জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য ও সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যকরী কমিটি সদস্য ড. রোয়াব উদ্দীন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক বিবৃতিতে বৃটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জিএসসি যুক্তরাজ্যে সিলেটবাসীর একটি বৃহৎ অরাজনৈতিক, সামাজিক, প্রতিস্টিত সংগঠন। আমি বিগত ২৫ বছর ধরে জন্মলগ্ন থেকে এর সাথে সম্পৃক্ত।

বিলাতে এবং বাংলাদেশে জিএসসি সব সময় অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে জিএসসি হাজার হাজার পাউন্ড ফান্ড রেইজিং করে দেশে দূর্গত মানুষের সাহায্যার্থে দেশে প্রেরণ করছে। গরীব পরিবারে ও প্রত্যন্ত অন্চলে রিক্সা বিতরণ, শীতবস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ, আর্ত মানবতার সেবায় স্থানীয় ভাবে নির্মিত হাসপাতাল, স্কুল, কলেজে আর্থিক সাহায্য প্রদান, গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ইত্যাদি এই সংগঠনের জনসেবায় নিয়মিত কাজের দৃস্টান্ত।

আমি জিএসসি জাতীয় নির্বাহী কমিটির (NEC)র সদস্য। কিছুদিন আগে NEC কমিটির একটি সভায় আমার সাথে একটি রাজনৈতিক বিষয়ে কিছু সদস্যের উত্তপ্ত বিতর্ক হয়। যেহেতু সংগঠনের নীতিমালা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক তাই রাজনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তর্ক-বিতর্ক থাকা স্বাভাবিক। এ বিষয়ে আমি জিএসসির কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে ইংরেজীতে একটি চিটি জিএসসির EC কমিটির WhatsAppএ দেই। বিষয়টি ছিল জিএসসির আভ্যন্তরিন ব্যাপার। দূরভাগ্যবশত: আমার লেখা চিটি কে বা কারা হয়তো কোন ব্যক্তিস্বার্থে লিক আউট করে , অতিরন্জিত করে বাংলায় অনুবাদ করে এবং social media-তে প্রকাশ করে। অনুবাদের শব্দ চয়নের কারণে বিষয়গুলি বেশী কঠিন হয়ে যায়।

এখানে উল্লেখ্য আমার চিটি প্রাপ্তির পর জিএসসি-র সভাপতির পদক্ষেপ গ্রহনের পর ব্যাপারটির সন্তুষজনক নিস্পত্তি হয়।

আমি লক্ষ্য করেছি যে জিএসসির তিনজন নেতার নাম উল্লেখ করে তাদেরকে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, যদিও এই বিতর্কে এই তিনজনের কারো সম্পৃক্ততা ছিল না। বর্তমান সভাপতি জনাব ব্যারিস্টার আতাউর রহমান একজন প্রতিস্টিত আইনজীবি, কমিউনিটির সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি এক সময় দেশে বাসদ ছাত্র নেতা ছিলেন এবং বাসদের নমিনেশনে একবার নবীগন্জ উপজেলা নির্বাচন করেছেন। সাধারণ সম্পাদক খসরু খান বার্মিংহ্যাম বাংলাদেশী কমিউনিটির একজন সুপরিচিত শিক্ষক ও কমিউনিটি এক্টভিস্ট। তিনি বার্মিংহ্যাম-এ প্রতিস্টিত মুক্তিযাদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিস্টাতা সহ-সভাপতি। মির্জা আসহাব বেগ এক সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র এবং ঢাকায় তদানিন্তন জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বিশ্বনাথ এডুকেশন ট্রাস্টের সাবেক সভাপতি ও একজন ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট। আমি জিএসসির এই তিন নেতার সাথে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছি। আমার জানা মতে তাদের কারও বৃটেনে কোন মৌলবাদী বা স্বাধীনতা বিরুধী রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততা নেই। এখানে তাদের নাম জড়ানো উক্ত তিন নেতাকে বিতর্কিত ও হেয় করার অপপ্রয়াশ। এটা অত্যন্ত দু:খজনক।

পরিশেষে আমি উল্লেখ করছি যে জিএসসি-র এই আভ্যন্তরিন বিষয়টির সুস্ট সমাধান হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি ও সময় নস্ট হওয়ার জন্য আমি লজ্জিত ও জিএসসি নেতৃবৃন্ধ সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আবারও ক্ষমাপ্রার্থী।

আমার অনুরোধ সংগঠনের একটি আভ্যন্তরিন বিষয় নিয়ে আপনারা জিএসসি ও এর নেতৃবৃন্দকে দোষারূপ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকবেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত