শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

উত্তরভাগ চা-বাগানে শ্রমিকদের দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা, ম্যানেজার বললেন “নো কমেন্টস”
সংঘর্ষে ৭জন আহত

সংঘর্ষে ৭জন আহত



নিজস্ব প্রতিবেদক ::

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ চা-বাগানে শ্রমিকদের দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ৭জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এনিয়ে শ্রমিকদের উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার সময় বাগান ম্যানেজারের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নো কমেন্টস”। এসময় সাংবাদিকরা ঘটনার ছবি তুলতে গেলে কামাল হোসেন নামের ফ্যাক্টরীতে কর্মরত একজন লোক তাদেরকে বাঁধা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করেন।
শ্রমিকদের সূত্রে জানাযায়, উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের উত্তরভাগ চা-বাগানের চৌকিদার অমৃতলাল পাশীর সাথে দুইমাস আগে ফ্যাক্টরী ম্যানেজার সাইদুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে অমৃতলাল পাশী ম্যানেজারকে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করেন। পরে বাগানের পঞ্চায়েত নেতারা মামলা না করতে অনুরোধ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিবেন বলে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। কিন্তু ওই শ্রমিককে কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাগান ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

গত ১৩ মে তার বিরোদ্ধে রাজনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া বাগানের মন্দির নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা ২ কেজি করে চা পাতা বেশি তুলে দিবে বলে মালিক পক্ষের সাথে কথা ছিল। সেই অনুযায়ী শ্রমিকরা নিয়মিত ২ কেজি পাতা বেশি তুললেও মান্দিরের কাজ শুরু করছে না কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে অপরপক্ষের রশিদ মিয়া, মনির মিয়া, আমজদ আলী শ্রমিককে মাঠে কাজ করতে না দিয়ে অফিসে রাখা হয়েছে। তাদেরকে ওভারটাইমের সুযোগ সুবিধা দিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় স্বাক্ষী করে শ্রমিকদের বিরোদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।

পঞ্চায়েত কমিটি ও শ্রমিকরা যেকোনো দাবী তুললেই কর্তৃপক্ষ তাদেরকে (অপর পক্ষের শ্রমিকদের) দিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ তাদের। এসব ঘটনায় ক্ষ্রিপ্ত হয়ে উঠে বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতির পক্ষের শ্রমিকরা।

তারা মানবিক বিবেচনায় বাগানের অব্যাহতি পাওয়া শ্রমিক অমৃতলাল পাশীর পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে কাজ দেওয়া, মন্দিরের কাজ দ্রুত শেষ করা, বাগান শ্রমিকদের লেখাপড়া জানা সন্তানদের চাকুরী দেওয়া, পুকুরের মাছ ধরার ঘটনার আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি ও অফিসে কাজ করা অপরপক্ষের শ্রমিকদের মাঠের কাজে নিযুক্ত করার দাবী জানিয়ে শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাগান ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন ক্ষুব্দ শ্রমিকদের দাবী দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগদিতে বলেন। পঞ্চায়েত সভাপতির পক্ষের শ্রমিকরা সেখান থেকে বেরিয়ে গেলে অপরপক্ষের শ্রমিকরা ম্যানেজারের কাছে যায়। এসময় উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয় পক্ষের লোকজন বল্লম, রামদা, তীরধনুক ও লাঠিসোটা হাতে মুখোমুখি হয়।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষের ৭ জন শ্রমিক আহত হয়। তারা হলেন রিতা কর্মকার (৪৫), সুনীল কর্মকার (৪০), রুনা নাইডু (৩৫), লক্ষীলাল পাশী (৩৫), রুসনা বেগম (৪০), হেমন্তী দাস (৪০), কুসুম বাগতি (৪০) শ্রীমতি বাগতি (৪০)। তাদেরকে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি দুলাল বাগতি বলেন, বাগানের সাধারণ শ্রমিকরা কোনো ন্যায্য দাবী তুললেই কর্তৃপক্ষের সুযোগ-সুবিধা ভোগকারী একটি পক্ষ শ্রমিকদের বিরোদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। এছাড়া শ্রমিকদের কথা না ভেবে তারা মালিকদের পক্ষ নেয়। এতে সাধারণ শ্রমিকরা তাদের উপর ক্ষুব্দ রয়েছে। এছাড়া আমিসহ বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতা ও শ্রমিকদের বিরোদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এই মামলায় ওই সুবিধাভোগী শ্রমিকদেরকে স্বাক্ষী করা হয়েছে।

শ্রমিকদের অপরপক্ষের বিমল গড়াইত বলেন, আমরাও চাই অমৃতলাল পাশীর বিষয়টির সুন্দর সমাধান হোক। কিন্তু আমাদের বিরোদ্ধে ম্যানেজারের কাছে তারা মিথ্যা নালিশ করেছে।

এব্যাপারে বাগান ম্যানেজার জয়নাল আবেদীনের কাছে সাংবাদিকরা এই ঘটনার কারন এবং পুরো বিষয়ের উপর বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন, নো কমেন্টস। আমি এই বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম বলেন, উত্তরভাগ চা-বাগানে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের দু’পক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। মারামারির ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত