শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিলেট টু আখাউড়া রেল লাইন: দুর্নীতির হুতা কুলাউড়ার আতা



নিজস্ব প্রতিবেদক :: 

রেল বিভাগের এক আতঙ্কের নাম আতাউর। ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রেলওয়েতে চাকুরি নেন আতা। সেই সময় থেকেই শুরু তার ক্ষমতার দাপট। আতার অধিনস্থদের উপর চালান দমন-নিপিড়ন। সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত শুরু করেন ঘুষ বাণিজ্য। অযোগ্য অনেককেই চাকুরী দেয়া হত তার হুকুমে। রেলওয়ের প্লাটফর্মের দোকানগুলো থেকে তিনি মাশোয়ারা নেন নিয়মিত। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়েতে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা।

জানা যায়, আতাউর রহমান আতা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের রামপাশা এলাকার মৃত নৌশা মিয়ার ছেলে। প্রথমে তিনি রেলওয়ে (সিলেট-আখাউড়া) সেকশনের টিআইসি ছিলেন। পরবর্তীতে পদন্নোতি পেয়ে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাষ্টার নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন।
তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগের পাহাড় তার অনুসন্ধানে নেমে সত্যতা পাওয়া যায়। কারণ তিনি তার বাড়ি ও কর্মস্থল একই স্থানে হওয়াতেই এমন বেপরোয়া। স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ- তিনি সিলেট অঞ্চলের বাসিন্ধা হয়ে কি ভাবে এই সেকশনে কাজ করেন। যার কারণেই তিনি এত প্রভাব কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে আরোও জানা যায়, ছাত্র জীবণে আতাউর ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন। কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন। লেখা পড়া শেষে উদ্বতন সংগঠন বিএনপিতে যোগ দেন। তার পরিবারসহ অনেক আত্মীয় স্বজন বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। স্থানীয়রা উদাহরণ স্বরুপ জানালেন তার চাচা মৃত বাতির মিয়া ছিলেন চিহিৃত রাজাকার। সেই সুবাধে আতাউর রহমান দলীয় প্রভাবে রেলওয়েতে চাকুরী পান। সেই থেকেই ক্ষমতান অপব্যবহার শুরু করেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। স্থানীয় গণমাধ্যমেও তার ফুটে উঠেছে। তিনি সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্য শুরু করেন। তার নির্দেশের বাহিরে কেউ চলতেই পারত না। তার হুকুমে হত চাকুরী দেয়া-নেয়। সাথে ঘুষ বাণিজ্য তো আছেই।

সরেজমিনে কুলাউড়া থেকে জানা যায়, শুধু কুলাউড়ায় রয়েছে আতাউরের বেশ কয়েকজন কর্মীবহর। যারা বিভিন্ন স্টেশন থেকে মাশোয়ারা উত্তোলন করে তাকে সরবরাহ করেন। জড়িতে রয়েছেন টিকেট বাণিজ্যেও। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অর্থ উপার্যন করে আতা অনেক সম্পতি তৈরী করেছেন। যার মূল্য কোটি টাকার উপরে। তার আত্মসাৎ থেকে রেহায় পায়নি রেলওয়ের পুরাতন গাছগুলোও। নিজ বাড়ির পাশে কুলাউড়া-সাবাজপুর রেললাইনের রামপাশা রেলওয়ে গ্যাং কোয়াটারের অনেক পুরাতন গাছ তার নির্দেশে কেটে নেয়ার অভিযোগ আছে। অভিযোগ আছে কুলাউড়ায় রেলওয়ের জমি দখল, স্থাপনা নির্মাণ করার পিছনে মূল হুতা হিসেবে কাজ করেন আতা।

বিষয়টি জাতীয় শীর্ষ গণমাধ্যম প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এত কিছুর পরও তার বিরুদ্ধে কেন কোন ব্যবস্থ নেয়া হচ্ছে না। এমন প্রশ্ন নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মনে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।

এবিষয়ে আতাউর রহমান আতা তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ গণমাধ্যমকে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কেউ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই।

রেলওয়ে পূর্ব চট্রগ্রাম দপ্তরের সহকারি মহা ব্যবস্থাপক গৌতম কুমার ক্লু সাংবাদিকদের জানান, “অভিযোগের বিষয়টি ঢাকার রেলওয়ে কর্মকর্তারা দেখেন। তবে কোনো কর্মকর্তা এসব অপকর্মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত