শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেলেন মৌলভীবাজারের ডা: কামরুল ইসলাম শিপু



নিজস্ব প্রতিবেদক::

যুক্তরাজ্যের দ্য ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা থেকে “মাস্টার্স ইন্ ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিস” ডিগ্রিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন মৌলভীবাজারের সন্তান ডা: কামরুল ইসলাম শিপু, এমবিবিএস।

দ্যা ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা ইউনিভার্সিটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ। সেখান থেকেই মাস্টার্স ইন্ ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিস’’ ডিগ্রিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন ডা: শিপু।

ডা: কামরুল ইসলাম শিপু সফলতার সাথে এমবিবিএস পাস করে নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিপার্টমেন্ট অব মাইক্রোবায়োলজির লেকচারার হিসেবে কর্মরত আছেন। মেডিকেলে ছাত্রাবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ২আই প্রকল্পের “বেস্ট ইনোভেটিভ আইডিয়া” প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরষ্কার পেয়েছিলেন। ইতোমধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে “ফান্ডামেন্টালস অব ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি’’ এবং রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে “ফান্ডামেন্টালস অব ইম্যুনোলজি’’ তে কোর্সের ফান্ডিংয়ে ডিস্টান্স লার্নিং এর মাধ্যমে কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

এবিষয়ে ডা: কামরুল ইসলাম শিপু দৈনিক মৌলভীবাজারকে বলেন, “মানুষের স্বপ্ন সত্যি হয়। স্বপ্ন দেখতে পারা এবং সেটার জন্য কাজ করে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গত মাসে এডিনবরা ইউনিভার্সিটি থেকে এই অফার লেটারটি সরাসরি আমার বাড়িতে আসে। আমি তখন ব্যাংকক থাইল্যান্ডে সস্ত্রীক। মেজোভাই স্ক্যান করে এই ছবিটি আমাকে পাঠিয়েছিলেন। মাস্টার্স ইন ক্লিনিকাল মাইক্রোবায়োলজি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিস এ এপ্লাই করেছিলাম। তারা এপ্লিকেশন দেখে মনে করেছে আমি সেখানে পড়তে পারবো তাই অফার লেটার পাঠায়। আবেদনের সাথেই আমি স্কলারশিপ এর জন্যেও এপ্লাই করেছিলাম। গত কয়েকদিন আগে তারা আমাকে অফিশিয়ালি জানিয়েছে যে তিন বছরব্যাপী এই প্রেস্টিজিয়াস কোর্সের ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ এর জন্য আমাকে মনোনীত করেছে তাদের স্কলারশিপ এওয়ার্ড বোর্ড। তাদের এই মেইল আমি দুই তিনবার পড়েছি। পড়ার সময় মনে হয়েছে মনে হয় স্বপ্ন দেখছি তাই আরো কয়েকবার পড়ে কনফার্ম হলাম যে আসলেই এডিনবরা ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ পেয়েছি”।

তিনি আরোও বলেন, “আমার কাছে দ্য ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা একটা স্বপ্নের মতো জায়গা। পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ছয়টি ইউনিভার্সিটির একটি এটি। ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ে সেরা ২০ ইউনিভার্সিটির একটি। ইউরোপের যে কয়টি ইউনিভার্সিটি ইউরোপের শিক্ষা বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্তার ও উন্নয়নে সামনে থেকে কাজ করেছে। এডিনবরা ইউনিভার্সিটি তাদের মধ্যে অন্যতম। আমরা যারা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র, তাদের কাছে এডিনবরা ইউনিভার্সিটি অনেকটা তীর্থস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ। মেডিক্যাল সায়েন্সের বিখ্যাত সব আবিষ্কার থেকে শুরু করে মর্ডান মেডিসিনের তীর্থসম প্রতিষ্টান এই ইউনিভার্সিটি”।

ডা: শিপু জানান, “যে সাবজেক্টে আমি স্কলারশিপ পেয়েছি তার একটি আমি মেডিকেল কলেজে খুব আনন্দের সাথে পড়াই। মাইক্রোবায়োলজি ও ইনফেকশাস ডিজিসের প্রতি আমার যে প্যাশনের জন্ম এই সাবজেক্টকে চেনার পর থেকেই। ইউনাইটেড কিংডমের আরো চারটি ইউনিভার্সিটি থেকে আমি সিমিলার সাবজেক্টে অফার পেয়েছি গত কয়েক মাসে, সেই লিস্টে ইমপেরিয়াল কলেজ, লিডস ইউনিভার্সিটি, লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এন্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের মতো ইউনিভার্সিটি ছিলো। কিন্তু দ্য ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরাতে পড়তে পারার স্বপ্ন সত্যি হবার কাছে বাকিসব গৌন”।

তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আব্বা আম্মা আমার ভাই বোন যারা সবসময় আমাকে আমার ডিসিশান নিতে দিয়েছেন এবং সাপোর্ট করেছেন, আমার স্ত্রী ডা: তাহানী চৌধুরী এমবিবিএস এই এপ্লিকেশন গুলো লেখার সময় আমার সাথে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থেকেছে, এবং “হবে হবে” মোটিভেশন দিয়েছে! ভালোবাসা আমার শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতি, আমার মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্ট স্যার ম্যাডাম ও অসাধারন কলিগদের যারা সবসময় সাপোর্ট করে যাচ্ছেন। আমার স্টুডেন্টদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা, তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি এবং শিখছি”।

ডা: শিপু মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের অব: শিক্ষক মুক্তিযুদ্ধের সংগটক, সাবেক ডিড রাইটার, সার্ভেয়ার আব্দুন নুর –নূরজাহান চৌধুরী কল্যান ট্রাস্টের উপদেস্টা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুন নুর মাস্টার ও নুরজাহান চৌধুরীর সন্তান।

তার বড় ভাই নজরুল ইসলাম বি.কম (অনার্স) এম.কম যুক্তরাজ্য কমিনিটি নেতা ও মৌলভীবাজার ওয়েলফেয়ার এন্ড এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ট্রাস্টি। আরেক ভাই কমিনিটি নেতা নাজমুল ইসলাম ইমন যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং যুক্তরাজ্যে সান্দারল্যান্ড ইউনিভাসিটি থেকে ট্রাভেল্ ট্যুরিজম ইন্টারন্যশানাল হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের উপর উচ্চতর ডিগ্রী করেছেন।

লন্ডনে ডা: শিপুর প্রবাসী দুই ভাই কাজ করছেন বিশ্ববিখ্যাত দি রয়েল মারসেন ক্যান্সার স্পেশালিস্ট হাসপাতালে এসএ নন ক্লিনিক্যাল স্টাফ হিসাবে। ডা: শিপু শুধু এলাকার মুখ উজ্জল করেনি, মুখ উজ্জল করেছেন কমলগঞ্জ তথা মৌলভীবাজার জেলার। ডা: কামরুল ইসলাম শিপুর এমন সাফল্যে এলাকাবাসীরাও গর্ববোধ করছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত