মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

“সেদিন কেয়ামত থেকে ফিরে এসেছিলাম”



সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ

এস আর অনি চৌধুরী:: 

সেই বিভৎস দৃশ্য আর পাষণ্ডদের হিংস্র তাণ্ডব আজও যেন চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ভাসে। মৃত্যু আর রক্তস্রোতের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি আজও তাড়া করে। আমরা যেন জীবিত থেকেও মৃত। মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর সেই সময়কার মুখগুলো এখনো আমাকে তাড়া করে। হয়তো আমৃত্যু তাড়া করেই যাবে। কারণ চোখের সামনেই সেদিন আমি কেয়ামত দেখেছিলাম। প্রিয় মানুষদের এভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার দৃশ্য দেখে নিজের আহত হওয়ার কথাও ভুলে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আকস্মিক জ্ঞান ফিরলে জানলাম আমি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা আমাকে জানালেন, নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের কয়েকজন অজ্ঞান অবস্থায় আমাকে ধরে নিয়ে এসেছেন।

এই কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও মৌলভীবাজার ২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ।

সেদিন গ্রেনেড হামলায় অনেকের সাথে তিনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। গ্রেনেডের স্প্রিন্টার আজও শরীরে ধারণ করে রাখা সুলতান মনসুরের শারীরিক যন্ত্রণা সময়ের সাথে সাথে কমে আসলেও মানসিক যন্ত্রণা যেন তাঁর সঙ্গী হয়েছে আমৃত্যু। সেদিন শহীদ হন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নারী নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী। নিবেদিত কর্মীরা তাৎক্ষনিক মানবপ্রাচীর তৈরী করে আওয়ামীলীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে রক্ষা করেন। আহত ও নিহত নেতাকর্মীদের উদ্ধার করতে অনেক আহত নেতাকর্মীরাও যে আন্তরিকতায় এগিয়ে এসেছিলেন তা মনে হলে চোখে জল আসে।

দিনটি ছিল শনিবার। বিকেলে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে সন্ত্রাস ও বোমা হামলার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমাবেশ। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল হওয়ার কথা। তাই মঞ্চ নির্মাণ না করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাককে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

সমাবেশে অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও অাওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্যের শেষান্ত।তখন আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৫টা। হঠাৎ করেই শুরু হয়ে গেল নারকীয় গ্রেনেড হামলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে লাগল একের পর এক গ্রেনেড । বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ মুহূর্তেই পরিণত হলো মৃত্যুপুরীতে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু গ্রেনেড হামলার বীভৎসতায় মুহূর্তেই রক্ত-মাংসের স্তুপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। দলের অনেক নেতাকর্মী এদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও এখনো দেহে অসংখ্য ঘাতক স্পিন্টারের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে পথ চলছেন তাঁরা।

২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হওয়া ২৪ জন নেতাকর্মীদের কথা স্মরণ করে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন সুলতান মনসুর।

অনেকটা কান্না জড়িত কণ্ঠে নারী নেত্রী আইভি রহমানের নিহত হওয়ার কথা বলতে গিয়ে বলেন, প্রায় আড়াই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ আগস্ট মারা যান শ্রদ্ধেয় আইভি আপা। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ আহত হওয়ার পর প্রায় দেড় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে নিয়তির কাছে হেরে যান।

এসময় সুলতান রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় নিহত অন্যান্য নেতাকর্মীদেরও স্মরণ করে তিনি বলেন, এটি ছিল আওয়ামী জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার একটি পরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্র। পাঁচ বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ না হওয়া ও সত্য উদঘাটন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত