মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠিত হচ্ছে ‘টাস্কফোর্স’



ডিএমবি ডেস্ক:: 

পর্দা- বালিশ- মশার ওষুধ কেলেঙ্কারির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেছেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তদন্তগুলো যেন সুষ্ঠু হয়। এর পেছনে কারা জড়িত কারা দোষী তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারী ক্রয়ের টেন্ডারগুলোর জন্য যেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় সেজন্য টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলেছেন যে, উন্নয়নের সব সুফল নষ্ট হয়ে যাবে। যদি না আমার দুর্নীতি বন্ধ করতে পারি।

এজন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি শুন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছেন। আর এই নীতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশন তার কাজ করবে। যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু দুর্নীতি হয়ে যাওয়ার পর সেটা তদন্তের চাইতে দুর্নীতি শুরু হওয়ার আগেই যেন বিষয়টি তদন্ত করা হয় এবং এ ধরনের অনিয়ম এবং অনৈতিক কার্যক্রম যেন না হয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন:

. সবগুলো টেন্ডার প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব ‘ই টেন্ডার’ এর আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কতটুকু কাজ করছে। কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে সে ব্যাপারে প্রতিবেদন দিতে হবে।

. প্রত্যেকটি টেন্ডারে প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণের আগে বাজার যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। শুধু বাজার যাচাই করলেই হবে না। তা যেন বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সেটা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

. সরকারী টেন্ডারগুলোতে যেন এ ধরণের অনিয়ম না হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

. প্রত্যেকটি টেন্ডারের জবাবদিহীতা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন যে, সারাদেশে যে উন্নয়ন ষজ্ঞ হচ্ছে তার সুফল মানুষ পাবে না যদি না এই সমস্ত অনিয়ম এবং দুর্নীতিগুলো বন্ধ না হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে, এই দুর্নীতি, অনিয়মগুলো সূচনা হয়েছে ৭৫এর ১৫ আগস্টের পর থেকে। সেসময় টেন্ডারের নামে দুর্নীতির প্রবেশদ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একাধিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, জিয়াউর রহমানের আমলে বঙ্গভবনে মন্ত্রীপরিষদ বৈঠক করার জন্য যে কনফারেন্স টেবিল তার প্রাক্কলিত মূল্য ছিল তৎকালীন বাজারে ১২ লক্ষ টাকা। প্রাক্কলিত ১২ লক্ষ টাকার টেবিল ক্রয় করা হয়েছিল ১০ কোটি ৭০ লক্ষ টাকায়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে মোবাইল ফোন শুধুমাত্র একটি কোম্পানিকে দিয়ে লুটপাটের সুযোগ এক চেটিয়া করে দেয়া হয়েছিল।  ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট সরকারের ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল সরকারী সরকারি কার্যালয়ে মাম পানি কিনতে হবে। উল্লেখ্য যে, মাম পানি ছিল বিএনপির এমপি আবুল হাশেমের পারটেক্স শিল্প গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। তখন বাজারমূল্য ১০ টাকা হলেও প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সরকারি দপ্তরে মাম পানি কেনা হয়েছিল ১২৫টাকা দরে।

এভাবে টেন্ডারের নামে লুটপাটের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান দুর্নীতিগুলো হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর অবসান চান। এর অবসানের জন্যই তিনি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষপাতী এবং এ ব্যাপারে একটি টাস্কফোর্স গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের মূল কাজ হবে যেসমস্ত অনিয়মগুলো হয়েছে সেসমস্ত অনিয়মগুলোর পেছনে কারা হোতা তাঁদেরকে খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে যেন এরকম অনিয়ম না হয় তা বন্ধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এই ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে যে দুর্নীতির অভিযোগগুলো উঠছে সে অভিযোগ থেকে সরকার পরিত্রাণ পাবে।

সূত্র:: বাংলা ইনসাইডার

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত