বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নেতা-কর্মীদের ইচ্ছায় মুক্তিযোদ্ধা মান্নান সভাপতি হতে চান
শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন

শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন



নিজস্ব প্রতিবেদক ::

শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধরণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ মান্নান বলেছেন, “যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছে তারা যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না। এখন যারা দলের বড় বড় পদ নিয়ে বসে আছেন, তাদের বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা ওই সময় আমরা প্রতিবাদ করেছি। আজও বঙ্গবন্ধুর নৌকার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ৭০ সালে শ্রীমঙ্গলে আওয়ামীলীগ করার লোক ছিল না। ওই সময় আজিজুর রহমান, হাজি জয়নাল আবেদিন, মরহুম ওয়াদুদ ভাই কাজ করে আওয়ামীলীগকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমর নেতা ছিলেন ওয়াদুদ ভাই। এমন সময় ছিল আজিজ ভাই চৌমুহনায় না থাকলে আওয়ামীলীগ দাড়াতে পারত না”।

এক বর্ণনায় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মান্নান বলেন, “১৫ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়, তখন আমি আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সেই অবস্থায় সারাদেশের সব নেতাকর্মী স্তম্বিত। ১৯৭৫ তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকতাম। তখন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ শুরু হয় কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে। আমরা ৩০ জন নাসিম ওসমানের নেতৃত্বে আমরা ঢাকা থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে আগরতলা যাই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে। তারপর শ্রীলং, মেঘালয়ে প্রায় দুই বছর আমরা প্রতিবাদ করি, স্বশস্ত্র। তারপর একটা চুক্তির ভিত্তিতে আমাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দেয়া হয়।

তিনি আরোও বলেন, “এসময়ের ভিতরেই সিলেটের বালাগঞ্জের এমপি মরহুম শাহ আজিজ, ছাত্রনেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আমাদের সাথে জয়েন করেন। আমরা সবাই কাদের সিদ্দিকীর সাথে একসাথে ছিলাম। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গেছি। আমরা এই আন্দোলনে জয়লাভ করতে পারি নি, ভারতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে। ওই সময় ভারত সরকার আমাদের সব ধরণের সহযোগীতা বন্ধ করে জিয়াউর রহমানের সাথে চুক্তি করে দেশে পোশব্যাক করে দিল। ময়মনসিংহ কলেজের হোস্টেলে আমাদের প্রায় ছয়হাজার জনকে রাখা হয়েছি। আমি কয়েক মাস পর মুক্তি পেয়ে শ্রীমঙ্গলে আসি। আমার জীবণের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ৯মাস। বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে দুই বছর পার করি। আবারও দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি। শ্রীমঙ্গলে ২০১৪ সালে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলাম প্রায় ২২বছর। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হয়েছি। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যানও ছিলাম”।

দৈনিক মৌলভীবাজারের সাথে সাক্ষাৎকারে আলোচনা হয় আসন্ন শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন নিয়ে। এবিষয়ে তিনি বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দলের নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে দেখতে চায়। তাই আমি এই পদ প্রত্যাশি। যদি কাউন্সিলিং হয় তা হলে প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে কাউন্সিলরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তারপরও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধা এম.এ মান্নান ১৯৭০ -৭১ সাল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল মহাবিদ্যালয়ের ভিপি ছিলেন। দীর্ঘদিন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলেন। শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। আসন্ন থানা শাখার সম্মেলনে তিনি দলের নেতাকর্মীদের ইচ্চায় সভাপতির পদ প্রত্যাশী।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত