বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

ফ্যাক্টর সেই কিংবদন্তি জব্বার এমপির পরিবার



ডিএমবি ডেস্ক:: 

সবাই চেনেন জব্বার এমপি নামে। তিনি মাটি ও মানুষের নেতা। সাবেক এ সাংসদনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে কুলাউড়ার আ.লীগের রাজনীতিতে রয়েছে উল্লেখ্যযোগ্য সু-ষ্পষ্ট অবদান। আব্দুল জব্বারের হাতধরে ১৯৬৪ সনে কুলাউড়ায় আ.লীগের প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাথে ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয়-দফা, ৬৯ এর গণ অভ্যূত্থান, ৭০ এর নির্বাচন এবং ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সহ সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। রবিবার (১০ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে কুলাউড়া উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন।  দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর হওয়া সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আলোচনার কমতি নেই সেখানে। বেশ উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে চলছে সম্মেলন ও কাউন্সিলের সকল কার্যক্রম। নানা কারনে আলোচিত কুলাউড়ার সম্মেল নিয়ে কৌশলগত বিষয়ে সতর্ক খোদ কেন্দ্র। কেননা দলীয় সভানেত্রীর বিশেষ নজর রয়েছে কুলাউড়ার সম্মেলনের প্রতি। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাবেক সাংসদ মরহুম আব্দুল জব্বারে রাজনৈতিক অবদানের কথা আসছে বরাবরই।
এদিকে বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম আব্দুল জব্বারের ছেলে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম কুলাউড়া উপজেলা আ.লীগের সম্মেলনে পদপ্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন আলোচনার শীর্ষে। আসম কামরুল উপজেলা আ.লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী। আব্দুল জব্বারের শেখানো রাজনৈতিক আদর্শকে আগলে রেখে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আ’লীগের রাজনীতির মাঠে কর্মী বান্ধব হয়ে অমায়িক গুণাবলির শিখড়ে অবস্থান করা ক্লিন ইমেজের অধিকারী আসম কামরুল ইসলাম রবিবারের সম্মেলনে একটি ‘ফ্যাক্টর’ বলে মনে করেন তৃনমূলের আওয়ামীলীগ। তবে বরাবরের মত একটি পক্ষ এবারও চায় মরহুম আব্দুল জব্বারের পরিবারের উত্তরসূরী কামরুলকে রাজনীতির মাঠে রাজনৈতিক দৌঁড়ে পেছনে ফেলতে।  যারা ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১ সালে নৌকা বিরোধী এবং আব্দুল জব্বারের খোদ বিরোধীতা করেছিলেন।   রবিবারে সম্মেলনে আসম কামরুলের এক বিরোধীতাকারী একজনের পিতা ১৯৭৯ সালেও আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে ছিলেন।
আর ১৫ বছর আগের সম্মেলনের অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতার দাপটে আসম কামরুল ইসলামকে কৌশলে উপজেলা আ’লীগের যুব বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছিলো। এসব বিষয় দলীয় সভানেত্রীর নজর আসলে সম্প্রতি আব্দুল জব্বারের আরেক ছেলে আবু জাফর রাজুকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার করেন। তবে রবিবারের উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে কোনঠাসার সেই সুযোগ নেই বলেই মনে করেন তৃনমূলের আ.লীগের কর্মীরা।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর আগামী ১০ নভেম্বর কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে  সর্বত্র চলছে কানাঘুষা। পৌর শহর থেকে ইউনিয়ন ব্যাপী চায়ের দোকানের আড্ডা বেশ জমে উঠেছে। প্রায় সকলের মুখে একই আলোচনা। কাউন্সিল কেমন হবে? কে আসছেন নতুন নেতৃত্বে? নেতাকর্মীসহ কুলাউড়া সর্বস্থরের জনগনের মধ্যে বিরাজ করছে নানা জল্পনা কল্পনা।

কে এই আসম কামরুল :

আসন্ন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী আ.স.ম কামরু। তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকে এই পদের যোগ্য বলে দাবী করছেন। বেশ পরিশ্রমী, আত্মপ্রত্যয়ী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কামরুল ইসলাম একজন পরোপকারী রাজনীতিবিদ হিসেবে করো বিন্দু মাত্র ক্ষতি করার চেষ্টা করেননি কখনো। বাবার সময় থেকে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকলেও এমনকি নিজে জনরায়ে নির্বাচিত হয়েও ক্ষমতার মোহে অন্ধ ছিলেননা। বাবা সাংসদ থাকাবস্থায়ও বল প্রয়োগতো দূরের কথা কোনো টেন্ডারবাজ কিংবা ঠিকাদারীর সাথে সখ্যতা গড়েননি। যা পরবর্তীকালে কুলাউড়া উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও পরে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েও পূর্বের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। যে কারণে নিজের কিংবা পরিবারের কারোর নামে কোন ব্যাংক ব্যালেন্স নেই। গেল উপজেলা নির্বাচনের হলফনামাই প্রমাণ দেয় রাজনীতি করে অর্থ-উপার্জন করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিলোনা। নির্বাচনী হলফনামা মতে বাপ-দাদার সম্পত্তি ছাড়া আর কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই কামরুল ইসলামের। পৈত্তিক সম্পত্তির কৃষি ও দোকান ভাড়া দিয়ে যৌথ পরিবার চলে তাঁর। সম্পদ হিসেবে ৬ ভরি স্বর্নলংকার ও আসবাবপত্র বাবত মাত্র ৮৫ হাজার টাকার মালিক তিনি।

এ হিসেবে গেল টানা ১০ বছরে জনপ্রতিনিধি (প্রথম উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও পরেরবার  উপজেলা চেয়ারম্যান) থাকাবস্থায় কোন সম্পদ বাড়েনি তাঁর। এ থেকে বুঝা যায় নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোসহীন। জনগনের আমানতের তিনি ছিলেন বিশ^স্থ রক্ষক। খোঁজ নিয়ে দখা যায়, দায়িত্বকালীন ১০ বছরে সম্পদ বাড়েনি বরং কমেছে কয়েকগুন। গেলো নির্বাচনগুলোতে দেশ বিদেশে অবস্থানরত আত্বীয়-স্বজন, শুভকাঙ্কী ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের আর্থিক সহযোগীয় চলেছে তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রম।

বলয় মুক্ত নীতি আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তৃনমূল আওয়ামীলীগ পরীক্ষিত, পরিশ্রমী এবং নিষ্ঠাবান কর্মী বান্ধব কামরুলকে নিয়ে কুলাউড়া উপজেলা আ’লীগকে ঢেলে সাজাবার স্বপ্ন দেখছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী বঙ্গ কন্যা শেখ হাসিনার জঞ্চালমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির আকাংখার সাথে কুলাউড়ার তৃনমূলের স্বপ্ন মিলে যাওয়ায় কামরুলই আসন্ন কাউন্সিলে উপজেলা আ.লীগের মূল কান্ডারি শক্তি হিসেবে আবির্ভূূত হয়েছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত