রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বড়লেখায় বিয়ের পর কলেজছাত্রীকে হত্যা: এখনও বিচার চেয়ে মা-বাবা আকুতি



নিজস্ব প্রতিবেদক ::

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করে এক বখাটে। বিয়ের সাড়ে পাঁচ মাস পর ওই ছাত্রীকে হত্যা করে তা আত্মহত্যা বলে চালায় তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ব্যাপারে কলেজছাত্রীর বাবা আদালতে মেয়ের স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার প্রতিবেদন ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মেয়ে হত্যার বিচার চান মা ও বাবা। কান্নাজড়িত কন্ঠে নির্মমতার শিকার মাধবীর পিতা অকিল বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরন করে নিয়ে গিয়ে বিয়ে। অত:পর মেয়ের স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মিলে তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালায়। আমার মেয়ের লাশটিও তারা দেখতে দেয়নি আমাদের স্বজনদের। পুলিশের সহায়তায় দ্রুত দাহ কাজ সম্পন্ন করে আমাদেরকে দাহ কাজের কাছেও ভীড়তে দেয়নি। থানায় মামলা দিয়ে গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছি। পুলিশের হাতে পায়ে ধরেও কাজ হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছি। এখন ওই খুনি আসামীরা প্রকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা তুলে নিতে আমাদেরকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা প্রাণনাশের আতঙ্কে আছি। আমরা আমাদের মেয়ে হত্যার বিচার চাই”।

তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিকভাবে বিয়ের পর মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। বিয়ের সাড়ে ৫ মাসের মধ্যে একটিবারের জন্যও মাধবীকে তার বাবার বাড়িতে যেতে দেয়া হয়নি। ১৮ আগস্ট রাতে স্বামী অরকুমারসহ তার পরিবারের সদস্যরা মাধবীকে মারধর করে। একপর্যায়ে শ্বাস রুদ্ধ করে হত্যার পর তারা আত্মহত্যার নাটক সাজায়। মাধবী আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকায় প্রচারণা চালালেও বাবার বাড়িতে কোনো খবর দেয়া হয়নি। প্রতিবেশী মারফত খবর পেয়ে পরদিন সকালে মাধবীর বাবা ও মা জুড়ী থানায় গেলে পুলিশ তাদেরকে মেয়ের লাশ দেখতে না দিয়েই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়। মেয়ের গলায় দায়ের কোপ ও দেহে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়টি জেনে অভিযোগ দিতে চাইলে পুলিশ উল্টো হুমকি-ধামকি দেয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে আসার পরও স্বামীর বাড়ির লোকজন তাদেরকে লাশ দেখতে দেয়নি। শ্বশুরবাড়ির লোকজন মাধবীর পরিবারকে না জানিয়ে লাশ দাহ করে। অবশেষে ২৫ আগস্ট মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫নং আমলি আদালতে স্বামী অরকুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদ-দেবরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মাধবীর বাবা।

সংবাদ সম্মেলনে মাধবীল মা ছবিতা বিশ্বাস বলেন, ‘আসামীরা আমাদেরকে জানায় তারা টাকা দিয়ে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাল্টে দিবে বিধায় তাদের আমরা কিছুই করতে পারবনা। মামলার প্রমাণ লোপাটের জন্য তারা আমার মেয়েকে মাটিচাপা না দিয়ে মরদেহ দাহ করে। ওই খুনিরা যেন কৌশলে পার পেয়ে না যায় এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আকুল নিবেদন করছি’।

লিখিত বক্তব্য থেকে আরোও জানা যায়, কলেজছাত্রী মাধবী রানী বিশ্বাসকে (১৮) কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় জুড়ী উপজেলার সায়পুর গ্রামের করুণা বিশ্বাসের ছেলে অরকুমার বিশ্বাস নামের ওই যুবক জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তুলে নেয়ার ২৬ দিন পর অরকুমার বিশ্বাস কলেজছাত্রী মাধবীকে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে। কিন্তু তার বাবা-মা এ বিয়ে মেনে না নেয়ায় বাড়িতে তুলছিল না মাধবীকে। পরে দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত