মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

‘মেজর নুর আব্দুল জব্বারকে হত্যা করতে চেয়েছিলো’



নিজস্ব প্রতিবেদক::

কুলাউড়ার মাটি ও মানুষের নেতা মরহুম আব্দুল জব্বার। তার রাজনৈতিক জীবণে দীর্ঘদিন কারা বরণ করেছেন। সেই সময় মেজর নুর আব্দুল জব্বারকে হত্যার চেষ্টা চালায়। কারাগারে চালায় নির্মম নির্যাতন। সেই ইতিহাসে চোখ রাখলেই তা ফুটে উঠে।

জানা যায়, ১৯৭৬ সালে পিপিআর এ্যাক্ট এর অধিনে আওয়ামীলীগ ঘরুয়া রাজনীতির অনুশীলন করছিল। তখন জেলা আওয়ামীলীগকে পুনরুজ্জিবীত করতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক জোহরা তাজ উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরীর উপস্থিতিতে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে কুলাউড়া থেকে কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন অধীক মাত্রায়। সমাবেশে আব্দুল জব্বারের জিয়াউর রহমানের কঠোর সমালোচনা ও সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবী জানান। বঙ্গবন্ধু ও সহযোগীদের হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সাহসীকতাপূর্ণ বক্তব্য দেন। যা দেখে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরাও ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই আব্দুল জব্বারের উপর নেমে আসে নির্যাতন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ করায় আব্দুল জব্বারকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করে অমানুষিক নির্যাতন করে দীর্ঘ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময় প্রথমবার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করলে আবারো কুরবানি ঈদের রাতে গ্রেপ্তার হন আব্দুল জব্বার। জেলের অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধুর প্রধান খুনি মেজর নুর তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। হত্যা করতে উদ্যত হয়। তৎকালীন সেনা অফিসার, পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত প্রয়াত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী তাকে উদ্ধার করেন।

জানা যায়, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনে ৬মাস, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর ১১মাস, ১৯৭৭ সালে একবছর কারা বরণ করেন আব্দুল জব্বার। আব্দুল জব্বার ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয়-দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান, ৭০ এর নির্বাচন এবং ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন।

আব্দুল জব্বার কুলাউড়া থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (১৯৬৪)। আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে, আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য জেল-জুলুম, নির্যাতন উপেক্ষা করে বাংলার গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করেন। এছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, মৌলভীবাজার রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সহ-সভাপতি এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কুলাউড়া থানার আহবায়ক ছিলেন।

মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক এমপি, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের প্রয়াত সভাপতি মরহুম আব্দুল জব্বারের জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৪৫ সালের ১৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালের ২৮ আগস্ট শোকের মাসে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার জীবন ও কর্ম নিয়ে রচিত স্বারক প্রন্থে বাণী দিয়েছেন।

মরহুম আব্দুল জব্বারের দ্বিতীয় পুত্র বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ এর দায়িত্ব পালন করছেন। তৃতীয় ছেলে আসম কামরুল ইসলাম সাবেক কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং সদ্য সম্মেলনে তিনি উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত