বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আমন সংগ্রহে সিন্ডিকেটের পায়তারা



বিশেষ প্রতিবেদক:: 

কৃষকের ঘাম ঝড়ানো শ্রম আর আর্থিক ব্যায়সহ নানা প্রতিকুলতার মধ্যদিয়ে কৃষকের ফলানো ধান ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারছেন না। মধ্যসত্ত ভোগিরা কৌশলে সিন্ডিকেট তৈরীর পায়তারা চালাচ্ছে। প্রকৃত কৃষকদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ উঠেছে। মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায়।

উৎপাদনকারী কৃষকদের ধানের ন্যায্য মুল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং আমন মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার পাঁচশত তিপান্ন টন ধান সংগ্রহের জন্য প্রকৃত কৃষকরে কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের নির্দেশ প্রদান করেছে সরকার। আভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৯-২০২০ মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের মাধ্যমে হালনাগাদ কৃষক তালিকা তৈরী করা হয়। কিন্তু রাজনগরে ধান ক্রয়ের জন্য লটারী করে প্রান্তিক,মাঝারি ও বড় এই তিন ধরনের কৃষকদের নির্বাচিত করা হলেও মহল বিশেষের চাপে পড়ে চুড়ান্ত কৃষক তালিকা বাতিল করা হয়। অভিযোগ উঠেছে একটি ব্যবসায়ী মহল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের জন্য ভিন্ন অজুহাত তুলে ধরে। সেই কারনে সংশ্লিষ্ট কমিটি চুড়ান্ত কৃষকদের তালিকা বাতিল করেছে।

ক্ষোব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে রাজনগর ইউনিয়নের কৃষক জহিরুল (৩৮) বলেন আমরা অর্থ ও শ্রম ব্যায় করে ধান উৎপাদন করি। কিন্তু মধ্যেসত্ত ভোগি মৌসুমী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ফরিয়া চক্রের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করে প্রকৃত কৃষকদের ক্ষতি সাধনে তৎপর হয়ে উঠে। একটি বিশেষ মহল প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে চুড়ান্ত কৃষক তালিকা বাতিল করেছে। ধান সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন প্রান্তিক,মাঝারি ও বড় কৃষক। রাজনগরে ধান সংগ্রহের কার্যক্রম দেরী হওয়ায় চাষীরা তাদের দেনা পাওনা মিটাতে ফরিয়াদের দারস্ত হচ্ছে। এতে কম দামে ধান ক্রয়ের জন্য ফরিয়া চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে।

উপজেলার পাঁচগাও ইউনিয়নের মজর মিয়া (৫০) দুঃখ করে বলেন আমার কৃষি র্কাড রয়েছে। কিন্তু কেহ খোঁজ খবর রাখেনি। ৪০ বিঘা জমি আছে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়াতে ক্ষেত প্রায় ছেড়ে দিয়েছি। সিন্ডিকেট হওয়ার কারনে প্রান্তিক চাষীরা ধানের সঠিক মূল্য পায়না। প্রতি বছর ধান সংগ্রহের কাজ শুরু হতে না হতেই প্রান্তিক কৃষকরা প্রয়োজনরে তাগিদে ফরিয়া চক্রের কাছে ধান বিক্রি করে ফেলে।

কামারচাক ইউনিয়নের মশাজান গ্রামের আব্দুল কাদির (৭০) বলেন এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ১৪ একর জমি চাষ করেছি। শ্রমিক সংকটের কারনে ধান মাড়াই করার সাথে সাথে তাদের দেনা পাওনা মিটানোর জন্য প্রতি কেজি ধান ১৫ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। সরকারি ভাবে ধান কেনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন কিছু নির্দিষ্ট মানুষ রয়েছে তারা ব্যতিত এ সুযোগ সুবিধা আর কেহ নিতে পারেনি।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানা গেছে তারা হালনাগাত কৃষি র্কাড যাচাই বাচাই করে উপজেলার সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন। এবং ১৭ নভেম্বর লটারীর মাধ্যমে যথারীতি কৃষক তালিকা র্নিধারণ করা হয়েছে। এখন কমিটির সিদ্ধান্তে তা বাতিল করা হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার আব্দুন নুর জানান কৃষক তালিকায় ভুল থাকার কারনে উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং (আভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য ২০১৯-২৫০২০) কমিটি বাতিল করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী আক্তার বলেন পরিশুদ্ধ ভাবে কৃষক তালিকা হওয়ায় উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং (আভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য ২০১৯-২৫০২০) কমিটি প্রণীত তালিকা বাতিল করেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের যাছাই বাছাইর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের নামসহ নতুন করে তালিকা তৈরী করে অচিরেই আবার লটারীর মাধ্যমে কৃষক তালিকা চুড়ান্ত করা হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত