বুধবার, ১ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাজনগরে লকডাউনকৃত এলাকায় বিক্ষোভ, নিয়ম মানছেন না এলাকাবাসি



মৌলভীবাজারের রাজনগরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর উপজেলার পাঁচটি গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। গ্রামগুলো লকডাউন করা হলেও বিপাকে পড়েছেন ওই এলাকার খেটে খাওয়া দিনমজুর সাধারণ মানুষ। ওই গ্রামের মানুষগুলো বাইরে বের না হলেও নিজেদের মধ্যে অবাধ চলাচল ও যাতায়াত রয়েছে। ফলে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়ন এর আকুয়া গ্রামের এক ব্যক্তি (মুদি ব্যবসায়ী) শনিবার সকালে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে মারা যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠায়। পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ হন। রবিবার রাতে রিপোর্ট পাওয়ার পরই উপজেলা প্রশাসন ভাঙ্গারহাট বাজারের আশেপাশের পাঁচটি গ্রাম লকডাউন করে। যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই গ্রামগুলোর মানুষের। লকডাউনকৃত গ্রামগুলো হলো আকুয়া, সৈয়দনগর, গয়ঘর, ডলা, গনেশপুর।

এদিকে লকডাউন করার পর ওই এলাকার খেটে খাওয়া মানুষরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই ভুগছেন খাদ্যসংকটে। বিত্তবান কিছু লোক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়াও এলাকায় মানুষজন একে অপরের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন। ওই গ্রামগুলোর মানুষদের ঘরে থাকা নিশ্চিত না করায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি লকডাউনকৃত সৈয়দনগর গ্রামের মাহমুদুর রহমান বলেন, লকডাউন হলে কি হবে মানুষজন অবাধ যাতায়াত -চলাফেরা করছে। একে অপরের সাথে মিশছে। ফলে ভাইরাস সংক্রমণ আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে একটি ভিডিওতে দেখা যায় লকডাউন কৃত এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য পৌঁছানোর জন্য বিক্ষোভ করছে।
অপরদিকে রাজনগর থানা পুলিশ লকডাউনকৃত এলাকায় বাহির থেকে বাজার করে প্রয়োজনীয় খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা হয়েছে যাদের খাদ্য শেষ হয়ে গেছে তারা ফোন করলে বাজার করে তাদের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেয়া হবে।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল হাসিম বলেন, লকডাউনকৃত গ্রামের সাধারণ মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। ইউপি চেয়ারম্যান টিপু খান লিস্ট করে দিচ্ছেন আমরা এগুলো পৌঁছে দেব। যাদের আত্মীয়-স্বজন বাইরে থেকে খাদ্য দেয়ার জন্য আসছেন, আমরা ওই খাদ্যগুলো তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। এছাড়াও যারা বাজার করতে চাচ্ছেন আমরা তাদের বাজার করে ঘরে পৌঁছে দিয়ে আসছি।
উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) উর্মি রায় বলেন, লকডাউনকৃত গ্রামের লোকজনদেরকে কোয়ারেন্টিন মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু এরপরও অনেকেই মানছেন না। নিজেরা সচেতন না হলে কারোরই কিছু করার নেই। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে তালিকা করা হচ্ছে। তালিকার কার্যক্রম শেষ হলে শীঘ্রই সরকারিভাবে তাদের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই খাদ্য সহায়তা করে যাচ্ছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত