বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মাটির নিচ থেকে উঠেছে মসজিদ




নবাবগঞ্জে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৪ শ’ বছরের পুরাতন এই মসজিদটি। মোঘল আমলের মসজিদটি শাহী মসজিদ ও ভাঙ্গা মসজিদ নামে পরিচিতি পেয়েছে। সদর উপজেলা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে নতুন বান্দুরা শাহী মসজিদ অথবা ভাঙ্গা মসজিদ। যা বান্দুরায় ইছামতি নদীর পূর্ব বাঁকে অবস্থিতি।

তিন গম্ভুজ বিশিষ্ট মসজিদটি প্রায় ৫০ শতক জমির উপর অবস্থিত। ১৬৫ ফুট উচু মিনার নির্মাণ করা হয়েছে, মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। মিনারটি ঢাকা দক্ষিণের সবচেয়ে বড় মিনার বলেই মনে করা হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় প্রত্যেকদিনই পুরুষ এবং মহিলাগন ইবাদতের জন্য এখানে আসেন, এখানে পুরুষের এবং নারীদের জন্য নামাজের সুব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেক শুক্রবারে পার্শ্ববর্তী এলাকা, মানিকগঞ্জ, দোহার, কেরাণীগঞ্জসহ আশপাশের সব থানা থেকেই হাজারও পুরুষ ও নারী আসেন।

মসজিদটি নিয়ে বিভিন্ন গল্পকাহিনী প্রচার হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। অনেকের জোর বিশ্বাস মসজিদটি গায়েবী। মাটির নিচ থেকে উঠে এসেছে মসজিদের মূল ভবনটি। স্থানীয়রা ও এমনটাই বিশ্বাস করেন।

বিশ্বাস করা হয় যে এই মসজিদে নামাজ পড়ে কোন উদ্দেশ্যে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়, আর এই বিশ্বাসের কারণেই দিনকে দিন এই মসজিদে মানুষের আগমন বাড়ছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আনুমানিক ১৬১০ সালে অর্থাৎ প্রায় ৪০০ বছর আগে মসজিদটি নির্মাণ করেন সুবেদার ইসলাম খান চিশতি। স্থানীয় অনেকের ধারনা ইসলাম খান চিশতি, ১৬১০ সালে ভারত বর্ষের, মোঘল বংশের দিল্লীর সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুবেদার ছিলেন। বিভিন্ন প্রয়োজনে সুবেদার ইসলাম খান চিশতি দিল্লী হতে তার নৌবিহার নিয়ে, যমুনা নদী দিয়ে পাবনা হয়ে, পদ্মা পাড়ি দিয়ে মানিকগঞ্জের উপর দিয়ে, ইছামতি নদী দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতেন। যাতায়াত কালীন সময়ে রাত্রি যাপন ও ইবাদতের জন্য নদীর পাশেই আনুমানিক ১৬১৫ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।

মসজিদটিকে ভাঙ্গা মসজিদ হিসেবে নাম করণের কারণ হিসেবে স্থানীয়রা বলেন, কালের পরিবর্তনে নদীটি ভাঙতে ভাঙতে উত্তর দিকে চলে যায়। আর পার্শবর্তী কোন বসতি ছিল না, ছিল শুধু বনাঞ্চল। ১৮৮০ সালের দিকে এই বন্ঞ্চলের পত্তন নেন হিন্দু জমিদারেরা। বসতি স্থাপনের জন্য কাটতে থাকেন বন। বন কাটতে কাটতে হঠাৎই পেয়ে যায় এক মসজিদ, যার উপরের অংশ কিছুটা ভাঙ্গা, আর এই ভাঙ্গা অংশের কারণেই মসজিদের নাম করণ হয়ে যায় ভাঙ্গা সমজিদ। সঙ্গে সঙ্গে গায়েবী মসজিদ নামেও পরিচিতি পেয়ে যায়।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত