বুধবার, ১ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ১১ই জুন কারামুক্তির মাধ্যমে সত্যের জয় হয়েছে



মকিস মনসুর: আজ ১১ই জুন গনতন্ত্রের মানস কন্যা, মমতাময়ী জননী, ম্যাদার অব ইউমিনিটি বাংলাদেশের মানণীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ_হাসিনা এমপি’র কারামুক্তি দিবস.। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের প্রাণের নেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মুক্তি হয়েছে। দেশের সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তি, কিছু সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠৈছিল। তারাই ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে গুম, খুন ও হত্যার রাজনীতি করেছে। তারাই দেশকে টানা পাঁচ থেকে ছয় বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। যারা নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করেছিল, তারাই আবার নির্বাচনে বৈতরণী পার হওয়ার জন্য মানুষের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিতর্কিত করে নিজেদের পছন্দমতো ইয়াজউদ্দিন মার্কা সরকার গঠন করে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। বাংলার মানুষকে অত্যাচার নির্যাতন করে বাংলাদেশকে বার বার যারা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে, সেই সরকারের প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ যিনি গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের ভাত ও কাপড়ের জন্য, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, সেই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকেই গ্রেফতার করে।
সেনা সমর্থিত ১/১১’র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে.।এদিন ভোরে তার ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে যৌথবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেখান থেকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়।এ সময় কারাগারের অভ্যন্তরে শেখ হাসিনা শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তার চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন।শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এসময় বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকান্ড – নিষিদ্ধ থাকলে ও বিভিন্ন ভাবে শেখ হাসিনার মুক্তি দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন দিক থেকেও শেখ হাসিনার মুক্তির দাবি ওঠে। বাংলাদেশের মাটিতে বিশেষ করে তৃনমূল নেতা-কমীদের আন্দোলনে ফলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন বিশেষ করে প্রবাসের মাটিতে আওয়ামীলীগ.ষুবলীগ.ছাত্রলীগের আন্দোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন করা ছাড়া ও প্রবাসী কমিউনিটি নেতাদের উদ্দোগে বিশেষ করে বৃটিশ এমপি. ইউরোপিয়ান পালামেন্ট মেম্বার.সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এর সাথে লবিং করা সহ ক্রমাগত চাপ, আপোষহীন মনোভাব ও অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের এই দিনে দীর্ঘ ১১ মাস কারা ভোগের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন.। তার মুক্তিতে সেদিন যেন মুক্তি পেয়েছিল গণতন্ত্র। ১১ জুন তাই গণতন্ত্রের মুক্তির দিন। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার দিন।
পরিশেষে বলতে চাই সত্যের জয় হয়েছে. সঠিক পথে থাকলে সব সময় সত্যের জয় হবেই. কেননা সত্য চিরন্তন সত্য. আবার এটাও তো সত্য, দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তৎপর। ঘাপটি মেরে আছে রাজনৈতিক অপশক্তিও। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির সম্মিলিত প্রয়াস। গণতন্ত্রের মুক্তির এই দিনে সেই মন্ত্রে নতুন করে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে। জনকল্যাণে তিনি নিজেকে সমর্পণ করেছেন। তার ভাবনার জগৎজুড়ে শুধুই দেশের জনগণ। ’গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে করোনার যুদ্ধের বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনার সময় অনেক দেশ বাজেট দিতে পারছে না। কিন্তু আমরা একদিকে যেমন করোনা মোকাবিলা করবো, পাশাপাশি আমরা দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করবো। তারা যেন কষ্ট না পায় সেজন্য যা যা করণীয় করে যাবো। আমি তো এখানে বেঁচে থাকার জন্য আসিনি। আমি তো জীবনটা বাংলার মানুষের জন্য বিলিয়ে দিতে এসেছি, এটাতে তো ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভয়ের কী আছে! প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসে মরি, গুলি খেয়ে মরি, অসুস্থ হয়ে মরি, মরতে একদিন হবেই। এই মৃত্যু যখন অবধারিত সেটাতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি ভয় পাইনি। কখনো ভয় পাবো না। আমি যখন বাংলাদেশে ফিরে আসি, সেটা ছিল সেই বাংলাদেশ, যেখানে আমার বাবা, ভাই, বোন, শিশু ভাইটিকে পর্যন্ত হত্যা করা হয়েছিল। আমাদের পরিবারের বহুজনের সদস্য বুলেটবিদ্ধ, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বুলেটবিদ্ধ বা স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন।তিনি বলেন, আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, একদিন সে জীবন নিয়ে যাবেন। আর আল্লাহ মানুষকে কিছু কাজ দেন। সেই কাজটুকু যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ না হবে ততক্ষণ হয়তো আমি কাজ করে যাব। যখন কাজ শেষ হয়ে যাবে, সময় শেষ হবে, তখন আমি চলে যাব। তাই এই নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।


করোনা ভাইরাসের মহামারী ও ঘূর্ণিঝড়ের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগে শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা চতুর্থ বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অস্বাভাবিক এই পরিস্থিতিতে সামগ্রিক দিক সামলাতে গণভবন থেকেই প্রধানমন্ত্রী চালিয়ে যাচ্ছেন সার্বিক দাপ্তরিক কর্মকান্ড। তাঁর নজরদারিতে বাদ যায়নি চিকিৎসকের সুরক্ষা নিশ্চিতসহ শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য সংকট মেটানো পর্যন্ত।
করোনা ও ঘূর্ণিঝড়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র মানুষের হাতে খাবার পৌঁছে দেয়াসহ অর্থর্নীতির ক্ষতি পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের খোঁজ-খবর নেয়া যাবতীয় কর্মকান্ড নিজেই তদারকি করছেন। অসহায়দের কাছে ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা পৌছে দিতে নির্দেশ দেন প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের। অনিয়মের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই দিয়েছেন কঠোর হুঁশিয়ারি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আসুন আজকের এই দিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে পরম করুণাময়ের নিকট প্রার্থনা করা সহ আমাদের সবার হোক দীপ্ত শপথ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলার আলোর মিছিলকে এগিয়ে নিতে মানণীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যাবো জয় বাংলা. জয় বঙ্গবন্ধু. জয় শেখ হাসিনা. বাংলাদেশ চিরজীবী হোক. জয় হোক মানবতার

লেখক পরিচিতি:- ৯০ এর গন-আন্দোলনের বাংলাদেশের সাবেক ছাত্রনেতা বৃটেনের কমিউনিটি লিডার ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর.তৎকালীন কনভেনার. ১/১১’র গঠিত দেশরত্ন শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলন কমিটি ইন ইউকে. তৎকালীন সহ সভাপতি.যুক্তরাজ্য যুবলীগ. তৎকালীন সভাপতি. ইউকে ওয়েলস যুবলীগ. প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি. ইউকে ওয়েলস ছাত্রলীগ. যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় সদস্য, ওয়েলস আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি. জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ ইউকের সভাপতি. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত-বার্ষিকী মুজিববর্ষ সার্বজনীন উদযাপন নাগরিক কমিটি ইউকে ওয়েলসের যুগ্ম আহবায়ক এবং হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ইন ইউকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত