বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আজ সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মদিন। তাঁকে স্মরণ করি।



শামীম আজাদ;বাংলা সাহিত্যের এই অসাধারণ গুণীজন
নানান কারনে আমাকে ব্যাক্তিগত পর্যায় অবধি মুগ্ধ করে রেখেছেন। আমি সিলেটি কন্যা বিধায় ক্ষীণ একটি আত্মীয়তার ধারায়
তাঁর সংগে যুক্ত। আমার আত্মীয় ও বন্ধু
(সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম) যাঁদের সংগে তার পারিবারিক বন্ধন আরো ঘন – তাদের কাছ থেকে নানান কৌতুককর গল্প শুনেছি। তিনি তাঁর লেখার মতই কথাবার্তায় ও অনুরূপ রসোময় ছিলেন। বাগ্মীতার জুড়ি ছিল না- ছিল না জ্ঞানেরও।

আমি আমার বাবার ( আবু আহমদ মাহমুদ তরফদার) কাছে তাঁর গল্প শুনেছি।
বাবা আলীগড় কলেজে পড়ার কালে কোন এক সময় ওঁরা দু’জনই কোলকাতার একটি মেসে থাকতেন। দু’জনই সিলেটের ছেলে বিধায় একটা সুন্দর বন্ধন ছিল তাদের।

আমাদের সিলেটিদের বাংলা উচ্চারণে ঠিকই সনাক্ত করা যায় আমাদের আসল পিতৃভূমের কথা। বাবার কাছেই শুনেছি, তিনি কথা বলার পর গুরুদেব বলেছিলেন, কমলা লেবুর সুগন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

শোনা যায় শান্তি নিকেতনে পড়তে গেলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তাঁকে প্রশ্ন করেন- কী পড়তে চাও ?
তিনি বলেছিলেন তিনি তা ঠিক জানেন না তা তবে কোনও একটা জিনিস খুব ভাল করে শিখতে চান।
গুরুদেব বলেন, নানা জিনিস শিখতে আপত্তি কি ?
তিনি বল্লেন, মনকে চারিদিকে ছড়িয়ে দিলে কোনও জিনিস বোধ হয় ভাল করে শেখা যায় না।
গুরুদেব জিজ্ঞেস করলেন, এ কথা কে বলেছে?
তিনি বল্লেন, কনান ডয়েল
গুরুদেব বললেন-ইংরেজের পক্ষে এ বলা আশ্চর্য নয়।

তারপর সিলেটের এই চৌকশ মানুষটি সত্যি
অনেক কিছুতে পারঙ্গম হয়ে উঠলেন।তিনি কমপক্ষে দেড় ডজন ভাষা আর নানান সভ্যতা থেকে জ্ঞান আহরন করেছিলেন।

১৯২১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন। তিনি ছিলেন বিশ্বভারতীর প্রথমদিকের ছাত্র। এখানে তিনি সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, হিন্দি, গুজরাটি, ফরাসি, জার্মান ও ইতালীয়সহ পনেরোটি ভাষাশিক্ষা লাভ [৬] ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে এখান থেকে বি.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন।

তাঁকে নিয়ে আমার বড় গর্ব। তাঁর কথা মনে করেই প্রাণীত হয়েই আমি সিলেটিদের বিলেত অভিযাত্রা নিয়ে লিখেছি আত্মযৌবনিক উপন্যাস ‘বংশবীজ’ (সময় প্রকাশনী) Farid Ahmed

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত