বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সত্যিই দূঃখজনক; তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সহ সিলেটের মন্ত্রী মহোদয়দের প্রতি নিবেদন ; দায়ী নরপশু পুলিশদেরকে বিচারের আওতায় আনা উচিৎ।



মকিস মনসুর.
এই দূঃখজনক খবরটা শুনে মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। অথচ রায়হান নামক লোকটি আমার কোনো পরিচিত নয়। বিবেকের তাড়নায় ও মানবিক দৃষ্টিতে এই অন্যায় এই অত্যাচার কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। সে একজন মানুষ ; দেশের নাগরিক ; একজন মানুষের জীবনের মূল্য কি ১০ হাজার টাকা? মাত্র ১০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য একজন মানুষকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে খুন করে ফেলবে? এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। সত্যিই দূঃখজনক; এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো সহ সিলেট বিভাগের দায়িত্বশীল মন্ত্রী মহোদয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই প্লিজ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ী নরপশু পুলিশদেরকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি। একটি পত্রিকার সূত্রে জানা গেছে যে মোবাইল দিয়ে থানা থেকে রায়হান ফোন করেছিলো , ওই মোবাইল নম্বরটি বন্দর ফাঁড়ির কনস্টেবল তৌহিদের। এই তৌহিদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে বলে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।
বিভিন্ন নিউজের রিপোর্ট থেকে জানা গেছে সিলেটের আখালিয়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রাতভর নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। পুলিশ বলছে, রায়হান আহমদ ছিন্তাই করতে গিয়ে গণধোলাইয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। অথচ রায়হানের শরীরে গণধোলাইর কোনো চিহ্ন নেই। গণধোলাই হচ্ছে সারা শরীরে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি লাথি। কিন্তু রায়হান আহমদের মুখ,মাথা ,শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই।
তাঁর হাতের নোখ প্লাস দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে। পায়ে লাঠিপেঠা করে মারাত্মক যখম করা হয়েছে। এসব কীসের আলামত বহন করে?
রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম ও চাচা হাবিবুল্লাহ অভিযোগ করেন, কর্মস্থল চিকিৎসকের চেম্বার থেকে ফিরতে দেরি দেখে শনিবার রাত ১০টায় রায়হানের মোবাইলে ফোন দেন মা ও স্ত্রী। কিন্তু ফোন বন্ধ পান।
ভোর ৪টা ২৩ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে রায়হান জানায় পুলিশ তাকে ধরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে এসেছে। এখন তার কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ চাচ্ছে। টাকা দিলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেবে। এ কথা শুনে রায়হানের মা তার চাচাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠান। রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ রোববার ফজরের সময় টাকা নিয়ে ভাতিজা রায়হানকে ছাড়িয়ে আনতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে যান।
নিহত রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ বলেন, পুলিশ বলেন আপনাদের ১০ হাজার টাকা লইয়ে আসার কথা।
রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, আমার পোলাডারে এমন কইরে পিডায় পিডায় মারছে।
পরে ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ায় সকাল ৭টার দিকে রায়হানকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ খবরে হাবিবুল্লাহ উদ্বিগ্ন হয়ে তৎক্ষণাৎ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
সেখানে গিয়ে জানতে পারেন রায়হানের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। ‘পুলিশি নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী রায়হান হত্যার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে নগরীর আখালিয়া এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এলাকাবাসীরও অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে খুন হয়েছেন রায়হান।
মহানগর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মোখলেসুর রহমান কামরান পুলিশ ছিনতাইকালে গণপিটুনির ঘটনা অস্বীকার করেন।
এদিকে এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানান এসএমপি অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার।
নিহত রায়হান আহমদ সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার গুলতেরা মঞ্জিলের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। বাবার মৃত্যুর তার মাকে বিয়ে করেন চাচা হাবিবুল্লাহ। তবে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রায়হান থাকেন আলাদা বাসায়। দুই মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে. নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটে ডা. আবদুল গফ্ফারের চেম্বারে তিনি চাকরি করতেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের কিছু সংখ্যক অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং রাজনৈতিক দলের নাম ব্যাবহারকারী কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত চামচাদের কারণে মানণীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকারের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুফল ও ভাবমূর্তি ভেস্থে যাবে একজন আওয়ামীলীগের কমী হিসাবে কোনো অবস্থাতেই আমরা মেনে নিতে পারছি না। এসব অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের আর ও সোচ্ছার ভৃমিকা রাখতে হবে। পরিশেষে এই দূঃখজনক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সহ সিলেটের মন্ত্রী মহোদয়দের প্রতি সবিনয় নিবেদন জানাচ্ছি প্লিজ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ী নরপশু পুলিশদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হোক।এবং দৃষ্টান্ত মূলক শান্তি প্রদানের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।।********************************************
(লেখক পরিচিতি:- ৯০ এর গন-আন্দোলনের বাংলাদেশের সাবেক ছাত্রনেতা বৃটেনের কমিউনিটি লিডার ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর.যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি. ইউকে ওয়েলস যুবলীগের সাবেক সভাপতি. ইউকে ওয়েলস ছাত্রলীগ সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছাড়া ও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় সদস্য, ওয়েলস আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি. জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ ইউকের সভাপতি. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত-বার্ষিকী মুজিববর্ষ সার্বজনীন উদযাপন নাগরিক কমিটি ইউকে ওয়েলসের যুগ্ম আহবায়ক এবং হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ইন ইউকের সভাপতি এবং বৃটেনের কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল ম্যাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্ট ফাউন্ডার্স ট্রাষ্ট তথা শহীদ মিনার কমিটির সেক্রেটারি. প্রাউড টু বি সিলেটি ইন ইউকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ক্রিয়েটার ও এডমিন. গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইন ইউকের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি সহ ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান. ও ডেইলি সিলেট এন্ড দৈনিক মৌলভীবাজার মৌমাছি কন্ঠের সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন.) ****************************************************

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত