শুক্রবার, ১৩ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের মঙ্গলবার এর নির্বাচনে কে পড়ছেন বিজয়ের মালা।



মকিস মনসুর.
সময় মাত্র একদিন; মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নির্বাচন। প্রকাশ্যে বা গোপনে হাত মিলানো; ক্যাম্পেইন; ম্যকানিজম বা ম্যানেইজ আর দুই প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা প্রায় শেষ। কিন্তুু এই একদিনের ফাইনাল খেলায় বা ভোটের দিনের প্রশাসনিক ম্যাক্যানিজম বা ভোটাারদের মন গলাতে কে আসল খেলা খেলবেন তাহা এখন ও বলা মূশকিল ; চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে বিজয়ের মালা পরতে দিন-রাত সমগ্র জেলার একপ্রান্ত থেকে দলের নেতা – কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গাড়ি বহরে অন্যপ্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে অতি নিরবে সীমিত বহরে বিজয়ের মালা ছিনিয়ে আনতে মাঠে কাজ করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এম এ রহিম (সিআইপি)। বিএনপি বা অন্য কোন বিরোধী দল না থাকায় এবং দুই প্রার্থী একই দলের হওয়ায় ব্যাতিক্রমধরনের এবারকারকার ভোটের খেলায় ৬৭ ইউনিয়ন, ৫ পৌরসভা ও ৭ উপজেলার১৫টি কেন্দ্রে ৯’শ ৪৪ জন ভোটার পুরাতন অভিজ্ঞতার আলোকে অভিজ্ঞ খেলোয়ার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানা গেছে। জেলা পরিষদের উপনির্বাচনের ব্যাপারে আজ সাড়াদিন মৌলভীবাজার জেলার ১১’জন ভোটার এর সাথে ফোনে আলাপকালে ৩ জন বলেছেন চশমা ; ২ জন বলেছেন মোটর সাইকেল; ১’জন বলেছেন বলা যাবে না এখন ও গ্রুপ লিডার এর নিদের্শনা পাইনি ; আর বাকি ৫ ভোটার আমরা জনপ্রতিনিধি কাউকে বলা যাবে না বলে অভিমত ব্যাক্ত করে বলেছেন যোগ্য দেখে পক্ষ নেবো ; নিজ হাতে সিল দেবো; সৎ দেখে ভোট দেবো.এই ৫ জন থেকে যে পক্ষ ৩ জনের মন গলাতে পারবেন অথবা নানা কৌশলে ম্যানেইজ করতে পারবেন আবার যে ভোটার লিডার এর নিদের্শনায় ভোট দিবেন বলেছেন সেই লিডারকে ম্যানেইজ করতে পারবেন তাঁর ভাগ্যেই বিজয়ের মালা জুটবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সময় মাত্র একদিন ; যা করার কাল করতে হবে ;ভোটের এই সমীকরণ তাই বলছে।
এদিকে সচেতন ও অভিজ্ঞত মহল ও মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের বিগত নির্বাচনের মত এবারকার নির্বাচন ও অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে যাতে পরিচালিত হয় এরকম অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ এম এ রহিম (সি.আই.পি) ১৮ই অক্টোবর গণমাধ্যমে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করে বলেছেন, দলনিরপেক্ষ এ নির্বাচনে সম্মানিত প্রতিদ্বন্দ্বী চশমা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ মিছবাহুর রহমান নানাভাবে দলীয় পদ-পদবিধারী লোকজন দিয়ে ভোটারদেরকে হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। নির্বাচনের শুরু থেকে এখনো জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতির মাধ্যমে ওই প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ তার বৈধ গাড়িতে কোনো পোস্টার, ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা চালাতে পারেন না তাদের বাধার কারণে। তিনি বলেন- তার ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে প্রচারণা তো দূরের কথা পোস্টার, ব্যানার ওই প্রার্থীর নির্দেশে তার কর্মীরা সারা জেলায় তা ছিঁড়ে ফেলছে। প্রার্থী নিজেই ভোটারদের আসন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ও পদ-পদবির টোপে ফেলে নিজের নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নানা অপকৌশল চালাচ্ছেন। নানা মিথ্যা, অসত্য ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করছেন। নিশ্চিত ভরাডুবির আশঙ্কায় তাদের এমন পেশীশক্তি প্রদর্শনমূলক কর্মকাণ্ডে ভোটারসহ জেলাবাসীর মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে নানা অজানা শঙ্কার সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিষয়ে তিনি লিখিত ও মৌখিক রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকেই অবগত করেছেন। তিনি বলেন- তাদের আচরণে ১৫টি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি মনে করছেন। তাই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে একজন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েনের জোর দাবি জানান।
অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দল মনোনীত চশমা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ মিছবাহুর রহমান
তিনিও অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান বলে দাবী করে এবং মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রয়াত চেয়ারম্যান, ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা,সাবেক সংসদ সদস্য বর্ষিয়ান রাজনিতিবিদ ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর আলহাজ্ব আজিজুর রহমান অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার প্রতিস্রতি ব্যাক্ত করে গত ১৭ই অক্টোবর গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করে বলেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ এম এ রহিম (সি.আই.পি) তার গাড়িতে সরকারি স্টিকার লাগিয়ে ও অনৈতিক ভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। নানাভাবে আর্থিক টোপে ফেলছেন। এবং ভোটারদেরকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করছেন। সে বিষয়ে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন- তার ওপর নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাসী। সে হিসেবে তিনি দলের একজন প্রার্থী ও দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক। তাই তিনি দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনেই কার্যক্রম চালাচ্ছেন এবং বিজয়ী হওয়ার শতবাগ আশাবাদী বলে দাবী করেছেন।
এই আলোকে প্রশাসনের।সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীলরা ইতিমধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সম্মানিত ভোটাররা সরাসরি ও নিরভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এ ব্যাপারে সংশয় থাকার কোনো কারন নেই বলে ঢাকা সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার যথাযথ দায়িত্তশীল সংশ্লিষ্ট তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এখন দেখার বিষয় বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের খেলার অবসান ঘটিয়ে কে পড়ছেন বিজয়ের মালা. এদিকে গত দু’তিন দিনে উভয় প্রার্থীদের টক অফ দ্যা মৌলভীবাজার নির্বাচনের ব্রেইকিং নিউজ হচ্ছে একজন প্রার্থীর প্রকাশ্যে খাম বিতরণের ভিডি ও ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া; অন্যজন প্রার্থীর বিএনপির সাবেক এমপি নাসের রহমান এর সাথে ভোট চাওয়ার সাক্ষাৎকালে আলোচনায় কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতাদের ব্যাপারে অসৌজন্যমূলক কথোপকথন এর অডিও প্রচার নিয়ে চলছে নেতা – কর্মী-সমর্থক ও ভেটারদের মধ্যে নানা আলাপ আলোচনা ; গুনজন ; নিন্দা৷ আর ভোটের ময়দানে নেতিবাচক প্রভাব এবং দেশে বিদেশে চলছে পক্ষে- বিপক্ষে নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনা আর পর্যালোচনা ; অনেকেই বলেছেন উভয় প্রার্থীই অভিজ্ঞতার পচিয়ে দিতে সক্ষমতা দেখাতে পারেন নি। যাহা টক অফ দ্যা ভোটের সাবজেক্ট এ রুপান্তরিত হয়েছে.। এখানে উল্লেখ্য যে নমিনেশন প্রত্যাহার এর আগের সমঝোতার যে উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। সমঝোতা না হওয়ার পিছনে মূলত যে সব দূষ্ট চক্র কাজ করেছে তারা প্রাথমিক বিজয় হয়েছে বলে সন্তুুষ্টির আনন্দে পর্দার আড়ালে হাসছেন কেননা ফলাফল যাই হোক এই’ সুযোগে দূষ্ট চক্র উভয় প্রার্থীর।টাকা খরছ আর শরীরের ঘাম ঝরাতে সফল হয়েছে এজন্য এই দূষ্ট চক্র তাঁদের প্রাথমিক বিজয় হয়েছে বলে মনে করছেন। যাক এসব বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের খেলার অবসান ঘটিয়ে ২০ তারিখের ভোটের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের বিজয়ের মালা যেই পড়বেন তিনি যেনো দয়াকরে মৌলভীবাজার জেলার ২৫ লক্ষ জনগণের প্রাণের দাবি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সহ ১০ দফা দাবীর বাস্তবায়নে যথাযথ ভৃমিকা পালন করবেন এই প্রত্যাশা সহ আগামী দিনের চেয়ারম্যান এর প্রতি মৌলভীবাজার জেলাবাসীর পক্ষ থেকে আগাম শুভ কামনা রহিলো;।
উল্লেখ্য যে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা,সাবেক সংসদ সদস্য বর্ষিয়ান রাজনিতিবিদ ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর আলহাজ্ব আজিজুর রহমান গত ১৮ আগষ্ট মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেচিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ফলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদটি শুন্য হয়।পরিশেষে দেয়া করি মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামীন যেনো মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা,সাবেক সংসদ সদস্য বর্ষিয়ান রাজনিতিবিদ আলহাজ্ব আজিজুর রহমানকে যেনো জান্নাতবাসী করেন আমিন।
********************************************
লেখক পরিচিতি ; মোহাম্মদ মকিস মনসুর. সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ডেইলি সিলেট এন্ড দৈনিক মৌলভীবাজার মৌমাছি কন্ঠ. চেয়ারম্যান ইউকে বিডি টিভি. সম্পাদক দৈনিক মৌলভীবাজার ডট কম.ও ওয়েলস বাংলা নিউজ. ওয়েলস প্রতিনিধি এটিন বাংলা ইউকে.

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত