বুধবার, ১১ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গণতন্ত্র উদ্ধারে শহীদ নূর হোসেনের আত্মত্যাগকে চির শ্রদ্ধায় স্মরণ।



মকিস মনসুর.
১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধ দেখিনি। তখন ছিলাম মায়ের কূলে অবুঝ শিশু। ১৯৭১ সালের সেই সময় আমাদের গ্রামের শতবাগ লোকই ছিলেন আওয়ামীলীগার। ১৯৬০ এর দশকে আমার দাদা জননেতা মোহাম্মদ ফিরোজ.ছিলেন মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পরবর্তীতে তিনি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭০ দশকে মৌলভীবাজার ছাত্রলীগের ও সভাপতি ছিলেন আমার আরেক চাচা নুরুল ইসলাম। ৮০ দশকে আমার আরেক চাচা আবু সুফিয়ান ও অপর চাচা আনকার আহমদ মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা হিসাবে বিভিন্ন দায় দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগে রাজনীতিতে রেখেছেন বিরাট ভূমিকা ; পরবর্তীতে জননেতা আনকার আহমদ দীর্ঘ ১৮ বছর মৌলভীবাজার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ত পালন করেছেন। এছাড়া ও আমার বাবা ও আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেই জড়িত ছিলেন ; সেই থেকেই বলা চলে পারিবারিকভাবে আমরা ব্রোন আওয়ামী লীগার। এসব লেখার মূল কারন হচ্ছে যাদের কারণে আমি বা আমরা যারা অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরবর্তীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন আদর্শিক সৈনিক হিসাবে ও ১৯৭১এর মহাণ মুক্তিযোদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের সঠিক পথে থাকতে পেরেছি সেই সব অবদানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো । এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ১৯৯০ দশকে আমার আরেক চাচা আলকাস আহমদ ও ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আমার আপন ছোট ভাই মোহাম্মদ বদরুল হক মনসুর হচ্ছে ইউকে ওয়েলস ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও আমার আরেক আপন ছোট ভাই মোহাম্মদ ফয়ছল মনসুর মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। যাক মূল প্রসঙ্গে আসা যাক ১৯৮৪ সালে স্কুল জীবন থেকেই আমি ছিলাম ছাত্রলীগের একজন কমী। এছাড়া ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেতা আজিজুর রহমান এর নৌকার জন্য মৌলভীবাজারে ও নিজ এলাকায় দিয়েছি মিছিল করেছি মাইকিং লিখেছি দেওয়াল লিখন ; আর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নৌকার জন্য জননেতা আজিজুর রহমান এর সফরসংগী হিসাবে প্রায় প্রতিটি এলাকার নির্বাচনী সভায় রেখেছি বক্তব্য করেছি প্রচার প্রচারণা। লেখার প্রারম্ভে লিখেছিলাম ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধ দেখিনি। তবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন আদর্শিক কর্মী হিসাবে ১৯৭১ সালের মহাণ মুক্তিযোদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে স্কুল জীবন থেকে যে যাত্রা শুরু করেছিলাম ১৯৯০ এর গণ আন্দোলনের একজন রাজপথের যোদ্ধা হয়ে কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের একটি সফল আন্দোলনের সহযাত্রী হতে পারাটা আমার বা আহমদের জন্য অবশ্যই একটি মাইলফলক। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন নূর হোসেন। গায়ের শার্ট কোমড়ে বাঁধা, পরনে জিন্সপ্যান্ট, পায়ে কেডস, খালি গায়ে বুকে পিঠে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’। নূর হোসেনের পুরো শরীরটাই যেন প্রতিবাদি পোস্টার।জাতীর এই ক্রান্তিলগ্নে শুধুমাত্র দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে মায়ের বুক খালি করে শহীদ হন তিনি।
৯০ এর গণ – আন্দোলনের রাজপথের একজন যোদ্ধা হিসাবে আমরা যারা রাজনীতির মাঠে ছিলাম এই দিনটি আমাদের জন্য ছিলো অবশ্যই একটি স্মরণীয় দূঃখজনক বেদনাদায়ক ও শোকাভিভূত দিন। সেইদিন পুলিশের গুলিতে আরও দুইজন নিহত হয়েছিলেন তবে বুকে পিঠে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ বাক্য লেখা নূর হোসেনের কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নূর হোসেন সামরিক শাসন বিরোধী গণ-আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন নূর হোসেন শহীদ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে সেই মিছিলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্যকন্যারত্ন মানণীয় প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানস কন্যা ম্যাদার অব ইউমিনিটি দেশরত্ন শেখ হাসিনা তাঁর সাথে কথা বলেছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা যখন মিছিল শুরু করছিলাম তখন নূর হোসেন আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি তাকে কাছে ডাকলাম এবং বললাম তার গায়ের এই লেখাগুলোর কারণে তাকে পুলিশ গুলি করবে। তখন সে তার মাথা আমার গাড়ির জানালার কাছে এনে বলল, “আপা আপনি আমাকে দোয়া করুন, আমি গণতন্ত্র রক্ষায় আমার জীবন দিতে প্রস্তুত।”
জুরাইন গোরস্থানের কবরখোদক আলমগীরের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘শহীদ নূর হোসেন’ গ্রন্থে তখন ভোরের কাগজের সম্পাদক (বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক) মতিউর রহমান উল্লেখ করেছেন, পুলিশ-বিডিআর তাড়াহুড়ো করে তাকে কবর দিতে বলেছিল। তার বুকে পিঠে লেখাগুলো তারা চেষ্টা করেও তুলতে পারেননি।
”তার বুকে পিঠে লেখা ছিল, সেগুলো ঘইষ্যা তুলতে পারি নাই। পুলিশ-বিডিআর খুব তাড়াহুড়ো করছিল। তাড়াতাড়ি কবর দিতে কইছিল। সেদিন তো জানি না ওটা নূর হোসেনের লাশ ছিল। পরে জানতে পারি, ওই দেয়ালের পাশের কবরটিই হলো শহীদ নূর হোসেনের।” সেই রাতের অভিজ্ঞতা মতিউর রহমানের কাছে বর্ণনা করেন গোরখোদক আলমগীর।
‘শহীদ নূর হোসেন’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনজনের মৃতদেহ নিয়ে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের গাড়ি এসেছিল এই কবরস্থানে। সঙ্গে এসেছিলেন পাঁচ-ছয় ট্রাক বিডিআর ও পুলিশ সদস্য। তাদের তাড়াহুড়ো ছিল, চাপ দিচ্ছিলেন দ্রুত কবর দেয়ার জন্য। তাদের চাপের কারণে পুরোপুরি ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী ওই তিনজনের লাশ দাফন করা যায়নি।
বইটির লেখক মতিউর রহমানকে নূর হোসেনের পিতা মজিবুর রহমান জানান, কোনো একটি পত্রিকার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, জুরাইনে নূর হোসেনের কবর দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ১৩ই নভেম্বর তিনি সেখানে যান। গোরখোদকদের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ছেলের কবর শনাক্ত করেন।
১৯৮৭ সালের ১০ ই নভেম্বর নূর হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায়
দিনে সাড়া বাংলাদেশের ছাত্র জনতা আমরা দীপ্ত শপথ নিয়েছিলাম এরশাদের পতন না হওয়া পযন্ত আমরা ঘুরে ফীরে যাব না। এরপর থেকেই সাড়া বাংলাদেশে স্বৈরাচার বিরোধী তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তারই ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ই ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদের পতনের ঘটার মাধ্যমে তার রক্তের আখরে লেখা নাম “গণতন্ত্র” আজ মুক্ত হয়েছে।মুক্ত বিহঙ্গের মতো আমরা গণতন্ত্রের সকল সুবিধা ভোগ করছি সেই নূর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকার নামকরণ করা হয় শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার এবং ১০ নভেম্বরকে আওয়ামী লীগ সহ জাতি নূর হোসেন দিবস হিসাবে পালন করে আসছে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নূর হোসেনের নাম চিরভাস্বর চির উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে। আজকের এই দিনে গণতন্ত্র উদ্ধারে শহীদ নূর হোসেনের আত্মত্যাগকে চির শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় স্মরণ করে বলতে চাই আসুন কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রকারীদের সকল ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে তুলতে ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলার আলোর মিছিলকে এগিয়ে নিতে ম্যাদার অব ইউমিনিটি মানণীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যাবো এই হোক আজকের দিনে আমদের দীপ্ত শপথ।জয় বাংলা.জয় বঙ্গবন্ধু. বাংলাদেশ চিরজীবী হোক মানবতার জয় হোক।
১০ ই নভেম্বর ২০২০ ইংরেজি. Mokismonsur@yahoo.co.uk
*************************************************
লেখক পরিচিতি ;লেখক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর. ৯০ এর গণ আন্দোলনের রাজপথের একজন সহযোদ্ধা হিসাবে সেই সময় মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করা সহ সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের একজন সফল যোদ্ধা হিসাবে প্রতিটি মিছিল মিটিং ও সভা সমাবেশে বিরাট ভূমিকা রেখেছেন।
এছাড়াও যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি. ইউকে ওয়েলস যুবলীগের সাবেক সভাপতি. ইউকে ওয়েলস ছাত্রলীগ সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছাড়া ও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় সদস্য, ওয়েলস আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি. জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ ইউকের সভাপতি. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত-বার্ষিকী মুজিববর্ষ সার্বজনীন উদযাপন নাগরিক কমিটি ইউকে ওয়েলসের যুগ্ম আহবায়ক এবং হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ইন ইউকের সভাপতি এবং বৃটেনের কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল ম্যাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্ট ফাউন্ডার্স ট্রাষ্ট তথা শহীদ মিনার কমিটির সেক্রেটারি.সহ ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান. ও ডেইলি সিলেট এন্ড দৈনিক মৌলভীবাজার মৌমাছি কন্ঠের সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন.) ****************************************************

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত