সোমবার, ১৬ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অনুপ্রবেশকারী হাইব্রীড মুক্ত যুবলীগ গড়তে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাল্টিক্লাস যুবলীগারদের হোক দীপ্ত শপথ।



মকিস মনসুর.
আজ থেকে ৪৮ বছর আগে ১৯৭২’সালের ১১ ই নভেম্বর
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা অর্থাৎ সকল ধর্মের মানুষের স্ব স্ব ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই বঙ্গবন্ধুর ভাগনা যুব সমাজের নয়ন মনি শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্তে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক যুব কনভেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ নামক এই সংগঠন। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আজ যুবলীগ একটি মাল্টিক্লাস সংগঠন হিসাবে পরিণত হয়েছে।এখানে কেবল ছাত্রলীগের সাবেক প্রতিশ্রুতিশীল নেতারাই শুধু নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিশ্রুতিশীল যুবকদের সম্মিলন ঘটে। টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। যে কারণে ক্ষমতাসীন সংগঠনের সহযােগী সংগঠন হিসাবে যুবলীগের সাংগঠনিক পরিচয়ে কেউ কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।এর দায় তাে সংগঠনের না, এর দায় নেতৃত্বের। তাই আগামী দিনে সংগঠনের ভাবমূর্তির সংকট কাটিয়ে উঠতে যুবলীগের মতাে সৃষ্টিশীল নির্ভীক নেতৃত্বই উপহার দিয়েছেন যুবলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত ২৩ নভেম্বর ২০১৯ইং শনিবার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির সুযোগ্য পুত্র অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান ও ঢাকা উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হাসান খান নিখিলকে সাধারন সম্পাদক হিসাবে নাম ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের.। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নতুন এ নেতৃত্ব যুবলীগকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে যুবলীগ কর্মীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর চেতনা ফুঁটিয়ে তোলার পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নানামুখি কার্যক্রম শুরু করে।
ফলশ্রুতিতে অল্প সময়েই পরশ-নিখিলের নেতৃত্বে জনগণের মাঝে আস্থা খুঁজে পেতে শুরু করে। এসময়ে দলের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতি বিরুদ্ধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার এবং সত্যতার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে প্রসাশনিক ব্যবস্থা মুখোমুখি করা হয়েছে। অল্পদিনের ব্যবধানে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের এ চিত্র, সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থার সঞ্চার করে।আমার বিশ্বাস যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে এরমধ্যে তাদের অবস্থান দলের নেতাকর্মীদের মাঝে স্পষ্ট করেতে পেরেছেন। এ মর্মে: শৃঙ্খলাভঙ্গকারী -অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কারও জায়গা সংগঠনে নেই।
আমার ছাত্র রাজনীতির পরিসমাপ্তির পর ১৯৯৬ সাল থেকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সদস্য হয়ে কাজ করার মাধ্যমে প্রবাসের মাটিতে যুবলীগের রাজনীতির যে যাত্রা শুরু করেছিলাম আজ আমরা অনেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পদার্পণ করে ফেলেছি; কিন্তুু আজও সেই ফেলে আসা অতীতের দরজায় ঠকঠক করে নাড়া দেয় যখন ১১ই নভেম্বর তথা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আসে। মনে হয় এই যেনো সেদিন আমি ও যুবক ছিলাম। এখন চুল হয়ে যাচ্ছে সাদা ; বয়সে ধরেছে ভাটা; চোখের জন্য পড়তে হচ্ছে চশমা ;তবু ও মন চলে যেতে চায় ফিরে আসা অতীতে ; সেই ছাত্রলীগ আর যুবলীগের মিছিলে ; আজ যুবলীগের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাড়াও প্রবাসে ও হবে অনুষ্ঠান; চলবে আলোচনা ; হবে স্মৃতিচারণ । প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ধারাবাহিকতার আলোকে যাদের অবদানের কারণে সফল ও স্বার্থকতার সাথে আজকের যুবলীগের এই অবস্থান যারা আমাদের মাঝে নেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে তাদের সবার প্রতি গভীর স্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে দোয়া করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি সহ ১৫ই আগষ্টে নিহত সকল শহীদান ও ৩ রা নভেম্বর জেলের অভ্যন্তরীণ বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ঘনিষ্ঠ সহচর,মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দানকারী জাতীয় চার নেতা বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমেদ. সৈয়দ নজরুল ইসলাম.ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান সহ গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে যুবলীগ আজ দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে। যারা আমাদের মাঝে নেই সবাইকে যেনো মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামীন জান্নাতবাসী করেন আর যারা জীবিত আছেন সবার সুসাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করার পাশাপাশি প্রত্যাশা রহিলো দেশ-বিদেশে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রীড মুক্ত যুবলীগ গঠনের মাধ্যমে “যে দশটি বিষয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে আওয়ামীলীগ বা যুবলীগ করা যাবে না।
১! কমিটি বাণিজ্য করা যাবে না।
২! কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া সংগঠনে কাউকে নেওয়া যাবে না।
৩! টেন্ডারের জন্য তদবির করা যাবেনা।
৪! উন্নয়নমূলক কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
৫! আটককৃত ব্যক্তির জন্য থানায় সুপারিশ করা যাবে না।
৬! নিয়োগ বাণিজ্য করা যাবে না।
৭!মাদক ব্যবসা বা মাদকসেবীর প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
৮! সন্ত্রাসী হিসেবে মামলা আছে এমন কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
৯! জঙ্গিবাদ।
১০! নারী নির্যাতন কিংবা যৌন হয়রানি করা.
মানণীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপরের ১০ টি নিদের্শনা যথাযথভাবে পালন করার মধ্য দিয়ে আজকের মাল্টিক্লাস যুবলীগাররা যাতে কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলের ও ষড়যন্ত্রকারীদের সকল ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে বাংলাদেশের উন্নয়নের- অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে তুলতে ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলার আলোর মিছিলকে এগিয়ে নিতে বিশ্ব বাঙালীর অহংকার, বিশ্বমানবতার বাতিঘর ,বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী ম্যাদার অব ইউমিনিটি দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যাবেন ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই হোক সকল মাল্টিক্লাস যুবলীগারদের দীপ্ত শপথ. জয় বাংলা. জয় বঙ্গবন্ধু. জয় শেখ হাসিনা. বাংলাদেশ চিরজীবী হোক. জয় হোক মানবতার যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সবার প্রতি রহিলো আবার ও মুজিবীয় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
***************************************************
(লেখক পরিচিতি ;লেখক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর. ১৯৯০ এর গন-আন্দোলনের বাংলাদেশের রাজপথের একজন সহযোদ্ধা ছাড়াও ১৯৯৪ সালে বৃটেনের ওয়েলসের ছাত্রলীগের কমিটি গঠন সহ পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি. ইউকে ওয়েলস যুবলীগের প্রাক্তন সভাপতি ছাড়া ও বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় সদস্য, ওয়েলস আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি. জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ ইউকের সভাপতি. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত-বার্ষিকী মুজিববর্ষ সার্বজনীন উদযাপন নাগরিক কমিটি ইউকে ওয়েলসের যুগ্ম আহবায়ক সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন।)

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত