শনিবার, ২১ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল(অবঃ) শওকত আলী চলে গেছেন না ফেরার দেশে।



আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি, মহান জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার, শরীয়তপুর -২ আসনের সাবেক মাননীয় সংসদ সদস্য, জাতীয় বীর কর্নেল(অবঃ) শওকত আলী আজ সোমবার (১৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় ঢাকা সিএমএইচে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না-লিল্লাহির রাজিউন) মৃত্যুকালে উনার বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন শওকত আলী। শরীয়তপুর-২ আসন থেকে টানা ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জানাজার কর্মসূচিঃ
১৬/১১/২০২০ বিকাল ৩:৩০ ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, বাদ মাগরিব: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জানাজা।
১৭/১১/২০২০ সকাল ১০:০০ নড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা(হেলিকপ্টার যোগে), সকাল ১০:৩০ নড়িয়া বি এল স্কুলে অবতরণ, সকাল ১১:০০ নড়িয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, বাদ যোহর: নড়িয়া বি এল স্কুল মাঠে জানাজা এবং নড়িয়া পারিবারিক কবরস্থানে দাফন।
এখানে উল্লেখ্য যে ১৯৩৭ সালে শরীয়তপুরে জন্ম তার। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অর্ডন্যান্স কোরে কমিশন লাভ করেন। পরে তাকে মালি ক্যান্টনমেন্টের অর্ডন্যান্স স্কুলের প্রশিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।
সেখানে কর্মরত অবস্থায়ই বিপ্লবী পরিষদের সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে গভীর যোগাযোগ হয় শওকত আলীর। এ কারণে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে করা আগরতলা মামলায় তাকেও আসামি করা হয়। ১৯৬৮ সালের কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর সাথে ১৩ মাস কারাভোগ করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে মুক্তি পেলে সেবছরই তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
মুক্তিযুদ্ধে প্রথমে মাদারীপুরের কমান্ডার এবং পরে ২ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ও প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন শওকত আলী। মুজিবনগরে সশস্ত্রবাহিনী সদরদপ্তরের স্টাফ অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতার নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ৭৫’র ১৫ই আগস্ট সপরিবার বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর তাকে অবসরে পাঠানো হয়।
১৯৭৭ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হন শওকত আলী। ৭৯ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পালন করেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের হুইপের দায়িত্ব।
২০০৯ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার এবং ২০১৩ সালের মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করে শওকত আলী। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন কর্নেল শওকত আলী। মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদেরও প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন, দায়িত্ব পালন করছিলেন এর চেয়ারম্যান হিসেবে। প্রজন্ম-৭১ এর প্রধান উপদেষ্টাও ছিলেন তিনি।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বাংলা একাডেমির আজীন সদস্য ছিলেন কর্নেল শওকত। কয়েকটি অসাধারণ বইয়ের রচয়িতা তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সত্য মামলা আগরতলা’, ‘কারাগারের ডায়েরি’ এবং ‘গণপরিষদ থেকে নবম সংসদ’।
দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন তিনি। গত ২৯শে অক্টোবর তাকে ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
এদিকে জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ ইন ইউকের সভাপতি মৌলভীবাজার জেলার সাবেক ছাত্রনেতা ও কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ্ব লিয়াকত আলী সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এক শোকবার্তায় স্বাধীনতার জীবন্ত কিংবদন্তি
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি ও গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখতে আজীবন কাজ করা এই জাতীয় বীর কর্নেল(অবঃ) শওকত আলী-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা সহ
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেনো উনাকে পরকালে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এই দোয়া করার জন্য সবার প্রতি বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত