বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ পৌষ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শণা তৃণমূল কর্মীদের মূল্যায়ন করুন ; ‘‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস।



মকিস মনসুর.
তৃণমূল কর্মীরা হচ্ছেন একটি দলের প্রাণ ; যেসব কর্মীরা নিঃস্বার্থ ভাবে লোভ – লালসার উর্ধে থেকে দিনরাত সংগঠনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। দেশে বিদেশে যাদের কারণে ১/১১ এগার আন্দোলনের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্ত হয়েছেন তাঁদেরকে মূল্যায়ন করার জন্য মানণীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নিদের্শণা দিয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও একাধিকবার বলেছেন তৃণমূল কর্মীরা বাঁচলে আওয়ামী লীগ বাঁচবে তাই তৃণমূল কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। কিন্তূ বাস্তবে আমরা কি দেখছি কিছু কর্মীবান্ধব নেতা ছাড়া সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা সাধারণ সম্পাদক এর নিদের্শনা মানতেছেন না । প্রকৃত অর্থে তৃণমূল কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। যাহা সত্যিই দূঃখজনক। জানিনা আমার এই লেখা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা সাধারণ সম্পাদক এর দৃষ্টিগোচর হবে কিনা তবুও লিখলাম আমিও মানণীয় প্রধানমন্ত্রী ও সাধারণ সম্পাদক এর সাথে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি তৃণমূল কর্মীরা বাঁচলে আওয়ামী লীগ বাঁচবে তাই তৃণমূল কর্মীদের মূল্যায়ন করার জন্য আমাদের সকল নেতাদের হোক আজকের দিনেন দীপ্ত শপথ। আমার লেখার সাথে
১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানএর বক্তব্য তুলে ধরতে চাই ‘কিছু কিছু লোক যখন মধু-মক্ষিকার গন্ধ পায় তখন তারা এসে আওয়ামী লীগে ভীড় জমায়। আওয়ামী লীগের নামে লুটতরাজ করে। পারমিট নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করে; আওয়ামী লীগ থেকে তাদের উৎখাত করে দিতে হবে- আওয়ামী লীগে থাকার তাদের অধিকার নাই’।
যাক মূল প্রসঙ্গে আসা যাক আজ ৩০ শে ডিসেম্বর গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ইতিহাসে একটি বিজয়ের মাইলফলক। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তি, দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের আস্ফালন আর সহিংস রাজনীতির অন্ধকার ছায়া কাটিয়ে গণতন্ত্রের নবতর অভিযাত্রায় অগ্রসর হয় বাংলাদেশ।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পক্ষে ব্যালটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে নৌকা প্রতীকে গণরায় প্রদান করে। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী, ১৫ আগস্ট, জেলহত্যা ও ২১ আগস্টের খুনি এবং সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দেশের জনগণ।
বিএনপি তাদের চিরাচরিত ষড়যন্ত্রের রাজনীতির ধারাবাহিকতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে এবং জনগণের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা ও নির্বাচন কেন্দ্রিক উৎসব-আমেজে স্থবিরতা সৃষ্টি করতে অপতৎরপতা চালায়।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এবং পরে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বিনষ্টে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোট আগুন সন্ত্রাস চালায় ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসে শত শত সাধারণ মানুষ নিহত হয়। আগুন সন্ত্রাসে দগ্ধ হয়ে এখনও অসংখ্য মানুষ দুর্বিষহ যন্ত্রণা ভোগ করছে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্ভাসিত সমাজ বিনির্মাণ করতে বদ্ধপরিকর। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন ধারাবাহিক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে কাক্সিক্ষত অভিষ্ঠে এগিয়ে চলেছে, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলি ট্যানেল, পায়রা সমুদ্র বন্দর, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুমদুম পর্যন্ত রেলপথ প্রকল্প, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সরকারের গৃহীত মেগাপ্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। তখনই একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে ব্যাহত করার নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ১৯৭১’র পরাজিত শক্তির একটি অংশ মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া বক্তব্য দিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে ইদানিং মাঠে নেমেছে। সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। …পরাজিত শক্তির দোসররা দেশকে আবার ৫০ বছর আগের অবস্থায় ফিরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। রাজনৈতিক মদদে সরকারকে ভ্রকুটি দেখানোর পর্যন্ত ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ধর্মান্ধ নয়। ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করবেন না। প্রত্যেককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রাখেন।
এ বাংলাদেশ লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, জীবনানন্দের বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশ শাহজালাল, শাহ পরান, শাহ মকদুম, খানজাহান আলীর বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ শেখ মুজিবের বাংলাদেশ; সাড়ে ষোল কোটি বাঙালির বাংলাদেশ। এ দেশ সকলের। এ দেশে ধর্মের নামে আমরা কোন ধরনের বিভেদ—বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আমরা দিব না।
আজ দূঃখের সাথে বলতে হচ্ছে ১৯৬৯ সালের ৫ ই ডিসেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের নামকরণ করে ছিলেন, আর সেই দিনেই কুষ্টিয়ার পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ধর্ম ব্যবসায়ী সাম্প্রদায়িক,উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক ভেঙে দিয়েছে তাহা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না ওদের নেই ক্ষমা , ওরা দেশদ্রোহী। ভাষ্কর্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা বিরোধী ও ধর্মান্ধজঙ্গি গোষ্টী বাংলাদেশকে আফগানিস্থান বানানোর পরিকল্পনা করছে, ওদের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে আমদের রুখে দাঁড়াতে হবে।
ভাস্কর্য ভেঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যাবে না, বঙ্গবন্ধু সবার হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধু বাংলার ধ্রুবতারা , বঙ্গবন্ধু আমাদের হৃদয়ের বাতিঘর বঙ্গবন্ধু হাজারো বছরের শ্রেষ্ঠবাঙ্গালী ; বঙ্গবন্ধু বাংলার আকাশ ; বঙ্গবন্ধু বাংলার মানচিত্র;। পরিশেষে বলতে চাই চুখ খুলে দেখো বিশ্বব্যাংক; স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান; মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামীনের দরবারে লক্ষ কোটি শুকরিয়া জানাই — হে দয়াময় , প্রভু তোমার দয়াময়ে দু:খিনী বাংলার মমতাময়ী জননেত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান ; বিজয়ের মাসে আরেকটি স্বপ্নের বিজয়. সম্পূর্ণ নিজস্ব ক্ষমতায়,, সাহস নিষ্ঠা এবং সততার ফলে স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার কয়েক কোটি মানুষের স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হলো পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে আরেক নব ইতিহাসের সূচনা করেছে বাংলাদেশ “জয়তু শেখ হাসিনা।অভিনন্দন বাংলাদেশ। আজ কোথায় ইউনুস, আর হিলারি; চুখ খুলে দেখো বিশ্বব্যাংক; স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান ;এই সেতু শুধু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতীকই নয়, এ বাংলাদেশের আপামর মানুষের আত্মবিশ্বাস আর আত্মমর্যাদার নিদর্শন। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চিরজীবী হোক; মানবতার জয় হোক;
*******************************************************
লেখক পরিচিতি:- ৯০ এর গন-আন্দোলনের বাংলাদেশের সাবেক ছাত্রনেতা বৃটেনের কমিউনিটি লিডার ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর.যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি. ইউকে ওয়েলস যুবলীগের সাবেক সভাপতি. ইউকে ওয়েলস ছাত্রলীগ সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছাড়া ও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় সদস্য, ওয়েলস আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি. জাস্টিস ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১ ইউকের সভাপতি. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত-বার্ষিকী মুজিববর্ষ সার্বজনীন উদযাপন নাগরিক কমিটি ইউকে ওয়েলসের যুগ্ম আহবায়ক এবং হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ইন ইউকের সভাপতি এবং বৃটেনের কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল ম্যাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্ট ফাউন্ডার্স ট্রাষ্ট তথা শহীদ মিনার কমিটির সেক্রেটারি.সহ ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান. ও ডেইলি সিলেট এন্ড দৈনিক মৌলভীবাজার মৌমাছি কন্ঠের সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন.) ****************************************************

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত